• ই-পেপার

ভারতের প্রথম বেসরকারি স্পেস রকেট ‘বিক্রম-১’ এর সফল উৎক্ষেপণ

ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৪

অনলাইন ডেস্ক
ভিয়েতনামে বন্যায় নিহত ৪, নিখোঁজ ৪
সংগৃহীত ছবি

ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলীয় লাই চাউ প্রদেশের একটি পাহাড়ি গ্রামে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সি জানায়, কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টির পর শুক্রবার ভোরে মুয়ং থান গ্রামে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ৪ জন নিহতের পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছে আরো ৪ জন। এ ছাড়া আহত অবস্থায় ৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা লাল কাদায় পুরো গ্রাম ঢেকে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পাশে জমে রয়েছে বড় বড় পাথর ও গাছের গুঁড়ি।

সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২৩৮ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

নরওয়েতে আগুনে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
নরওয়েতে আগুনে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে শত শত মানুষ
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ নরওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।

পুলিশ ও দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ড্রামেন শহরের একটি টাউন হাউসে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন পরে দ্রুত আশপাশের এলাকায় এবং কাছের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। অসলো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সারিবদ্ধ আবাসিক বাড়ির একটি এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা রাতভর কাজ করেন এবং শনিবার সকালেও তাদের অভিযান অব্যাহত ছিল।

নরওয়ের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার শত শত বাসিন্দা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। পুলিশের মতে, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রে পুলিশ, অবশেষে গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রে পুলিশ, অবশেষে গ্রেপ্তার
ছবি : এনডিটিভি

ব্যাপারটা অনেকটা সিনেমার মতো। সিনেমায় দেখা যায়, কোনো সন্ত্রাসীচক্রের উত্থানের পেছনে পুলিশের কোনো অসৎ কর্মকর্তার হাত থাকে। অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা সন্ত্রাসী গ্যাংকে সহায়তা করেন বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে যান।

সেই পুলিশ সদস্য সন্ত্রাসী গ্যাংকে গোপন তথ্য দেন, অভিযানের খবর আগেভাগে ফাঁস করে দেন বা সন্ত্রাসীদের হয়ে হুমকি দেন। বাস্তবে তেমন এক অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের পাঞ্জাবে। তার নাম গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনার পর প্রথমে তাকে বদলি করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধীচক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‍মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। 

গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ  লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে ৩টি চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারতভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পাঞ্জাবের পুলিশ কর্মকর্তা গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা সেই ৩৭ জনের একজন। অভিযোগ আসার সময় তিনি পাঞ্জাব রাজ্যের হোশিয়ারপুর জেলার টাণ্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ আসার পর প্রথমে তাকে হোশিয়ারপুরের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়, গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা পাঞ্জাবভিত্তিক ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর সদস্য। গ্রুপের সদস্যরা তাকে তথ্য সরবরাহ করত। আর সে তথ্যের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতে গুরিন্দরজিৎ।

অভিযোগে বলা হয়, ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিং লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ভুক্তভোগীর তথ্য নাগরার কাছে সরবরাহ করেছিল। 

অভিযোগে আরো বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবের টাণ্ডা থানা এলাকায় বলউইন্দর সিং নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ নিয়ে নাগরা যুক্করাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী একটি পরিবারের কাছে ৪ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করেন।

গুরিন্দরজিৎ হুমকি দেন, টাকা না দিলে ভারতে থাকা তাদের আত্মীয়দের এই খুনের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। গুরিন্দরজিৎ এরই মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ রুপি আদায়ও করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগার কুমির দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগার কুমির দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখার জন্য কুমিরঘেরা বিশেষ কারাগার নির্মাণের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান এই সপ্তাহে নীল নদের কুমিরের আইনি অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।

এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কারাগার বা আটক কেন্দ্রের চারপাশে কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে।

চ্যানেল ১৩-এর তথ্য অনুযায়ী, কট্টর-ডানপন্থী নেতা বেন গভির গত ডিসেম্বরে কারা বিভাগের প্রধান কোবি ইয়াকোবির সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের কুমিরঘেরা আটক কেন্দ্রে রাখার প্রস্তাব দেন।

তবে ইতামার বেন গভির এই পরিকল্পনার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও এবং কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়েলের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করলেও, প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এর বিরোধিতা করেছে। কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী কুমির শুধু শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে রাখা যেতে পারে।

তবে কুমিরকে নতুনভাবে শ্রেণিভুক্ত করার ফলে এগুলোকে শুধু চিড়িয়াখানা বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেই নয়, অন্য ধরনের স্থাপনাতেও রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা দুই ডানপন্থী মন্ত্রীকে বলেন, ‘কুমিরদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমাদের সুরক্ষার জন্য তাদের ব্যবহার করার কথা আইনের উদ্দেশ্য নয়।’

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান নির্দিষ্ট শর্তে কুমিরগুলোকে কিছু আটক কেন্দ্রে রাখার অনুমতি দিতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কুমিরগুলোর দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার নিয়ম প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের পরিচালক নির্ধারণ করবেন।

হিব্রু প্রতিবেদন অনুসারে, বেন গভির প্রথমে কুমিরগুলোকে দক্ষিণ ইসরায়েলের কেৎজিওত কারাগারে ছাড়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা হয়।

কয়েক সপ্তাহ আগে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান রায়া সোরাকি এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেন।

ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা সিলমানকে সতর্ক করে জানান, কারাগারে কুমির ব্যবহারের জন্য একতরফাভাবে আইনি ভিত্তি তৈরি করার ক্ষমতা তার নেই। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেই সিলমান পরে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জারি করেন।

প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার আলোচনা হবে। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টার আপত্তি উপেক্ষা করেছেন।

এর আগে জানুয়ারিতে কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়লের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা।

চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারা বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তারা গ্যালিলি সাগরের দক্ষিণে হামাত গাদের এলাকার কাছে কুমিরঘেরা একটি আটক কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গভিরের এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিতর্কিত আটক কেন্দ্র থেকে অনুপ্রাণিত। ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত ওই কেন্দ্রটি কুমির-অধ্যুষিত একটি এলাকায় নির্মিত হয়েছিল এবং সেখানে অভিবাসীদের রাখা হতো। তবে কেন্দ্রটি খারাপ পরিবেশ, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং আইনি জটিলতা নিয়ে পরিবেশবাদী ও আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।