‘সব শিক্ষার্থীরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস একটি গর্ব। কিন্তু আমাদের সেই গর্ব নেই। আমাদের ক্যাম্পাস মানে ভাড়া বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান। নিজের বলেতো কিছু নেই। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় অভ্যন্তরীণ গবেষণা, ব্যবহারিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষাজীবন থাকতে অন্তত নিজের ক্যাম্পাস দেখতে চাই।’
স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)-এর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুসাফির ইমরান।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার ১১ বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস না হওয়ায় শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি (ডিপিপি) বর্তমানে সবুজ তালিকায় থাকায় আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে তিনটি অনুষদ ও শিক্ষার্থী ভর্তি অনুমোদন পায় বিশ্ববিদ্যালয়টি। ওই বছর ৯ মার্চ খুলনা পলিটেকনিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা এবং ১৩ ও ১৪ মার্চ শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে।
একই বছরের ৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি অনুষদে ভর্তি হওয়া ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু করে। মাত্র দুটি অনুষদে ৬০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়টির এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা আট শতাধিক। সেখানে পাঁচটি অনুষদে ৪৫টি বিভাগে প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছেন আরো ১৫০ শিক্ষার্থী। সেইসঙ্গে বেড়েছে শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীও। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ক্যাম্পাস মেলেনি।
খুলনা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে দৌলতপুর কলেজিয়েট স্কুলসহ দুটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান ও নগরীর উত্তর মুজগুন্নির ৩২৭ যশোর রোডে ভবন ভাড়া নিয়ে উপাচার্যের দপ্তরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসও চলছে ভাড়া বাড়িতে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ইতোমধ্যে দৌলতপুরের দেয়ানা মোল্লাপাড়া-দক্ষিণপাড়া এলাকা সংলগ্ন ডুমুরিয়া উপজেলার বিলপাবলা মৌজার কিছু অংশ, দৌলতপুর মেট্রো থানার দেয়ানা মৌজার কিছু অংশ এবং আড়ংঘাটা মেট্রো থানা এলাকায় মোট ২৫০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে প্রকল্পটি। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন ও একনেকে ওঠার অপেক্ষায় সবুজ তালিকাভুক্ত হয়েছে। এজন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হযেছে এক হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই বাধা কাটলে শুরু হবে জমি অধিগ্রহণ করে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কাজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের প্রধান মীর রিফাত জাহান উষা বলেন, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হচ্ছে না। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা বিঘ্নিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্যও কষ্টের।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, ‘ভাড়া ভবনে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা কঠিন চ্যালেঞ্জের। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্নতা রয়েছে। এখানে মাঠপর্যায়ে গবেষণা কাজ করতে হয়। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শ্রেণিকক্ষের সংকট তো রয়েছেই, গবেষণা ও লাইব্রেরিসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও চালানো যাচ্ছে না।’
উপাচার্য আরো বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়েই কাজ করছি। কিন্তু এ কাজে কোনো প্রকল্প পরিচালক বা ডিপিপি খাতে অর্থ বরাদ্দ নেই, যা কাজটিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পটি অনুমোদনে সবুজ তালিকাভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেলে নতুন অর্থবছরেই স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্বপ্ন পূরণ হবে।’