• ই-পেপার

পাবনায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১

তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : এমপি মান্নান

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই : এমপি মান্নান
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেছেন, শরীর ও মনকে সচল রাখতে মাঠে খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে নিয়মিত খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলাই পারে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে।

​শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী মেঘনা শিল্পনগরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘সেলিম-সাঈদ স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ (সিজন-২)’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।

​মাদক বিক্রেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এমপি মান্নান বলেন, মাদক নিয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে মাদকসহ ধরা পড়লে জামিন পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না, এমনকি ফাঁসিও হতে পারে। তাই সময় থাকতে নিজের ও পরিবারের কথা চিন্তা করে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে আসুন।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, সোনারগাঁ থানার তদন্ত ওসি আনোয়ার হোসেন,পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান, সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, জয়নাল আবেদীন ও মাসুম রানা।

​এ ছাড়া জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি হারুন-অর-রশিদ মিঠু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে ইয়াসিন নোবেল, কাউসার আহমেদ, হযরত আলী রানা ও সাইদুর রহমান শাকিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

​উল্লেখ্য, এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী ম্যাচে সোনারগাঁও পৌরসভা সূর্য সৈনিক একাদশের মুখোমুখি হয় শরীয়তপুর সুপার এলিভেন।

​নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে খেলাধুলার ভূমিকা নিয়ে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের এমন উদ্যোগ এবং বক্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তিনি মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের যুব সমাজকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ হবে বিশ্বের এডুকেশন হাব : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নওগাঁ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ হবে বিশ্বের এডুকেশন হাব : শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ‘এডুকেশন হাব’। সেভাবেই আমরা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গড়ে তুলছি।”

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর শিক্ষার্থী পড়তে আসত। এখন এ দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যায়। আমরা চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে আরো আগ্রহী হবে। আমাদের লক্ষ্য এ দেশকে আন্তর্জাতিক ‘এডুকেশন হাব’-এ পরিণত করা।”

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। এ দেশ থেকে যারা দেশের বাইরে পড়তে গিয়েছে, তারা ভালো ফলাফল ও সুনাম অর্জন করেছে। এ দেশের প্রচুর জনসম্পদ রয়েছে। এই জাতি গঠনে আমাদের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হলে আমাদের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, কোনো অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেই অঞ্চলের চাহিদাগুলোর দিকেও নজর রাখতে হয়। এই অঞ্চলে যেহেতু প্রচুর পরিমাণ আম ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন হয়, তাই সেদিকে লক্ষ্য রেখে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে নতুন বিষয় চালু করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে, ‘ফুড টেকনোলজি’র মতো বিষয়গুলো সংযুক্ত হতে পারে। 

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

এ ছাড়া নওগাঁর বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটপাট আতঙ্কে জনশূন্য গ্রাম

ফরিদপুর প্রতিনিধি
হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটপাট আতঙ্কে জনশূন্য গ্রাম
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক অস্বাভাবিক নীরবতা। গ্রামের সরু পথ ধরে যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই সামনে আসে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন। কোথাও দোতলা ভবনের ছাদে হাতুড়ির আঘাতে বড় বড় গর্ত, কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে দেয়াল। কোনো বাড়ির দরজা-জানালা নেই, কোনো বাড়ির টিনের চাল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা আলমারি, খাট, টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিলসহ গৃহস্থালির নানা সামগ্রী।

গত ২৬ জুন কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও বড়ভাগ গ্রামে এখনো থামেনি প্রতিশোধের নামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা গ্রামজুড়ে ঘুরে দেখা যায়, অন্তত ৮ থেকে ১০টি পরিবারের বসতবাড়িতে সংঘটিত হয়েছে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ। তবে গ্রামবাসীদের দাবি, এসব হামলার বেশির ভাগই ঘটেছে প্রকাশ্য দিবালোকে।

বড়ভাগ গ্রামের বিভিন্ন পাড়া ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। যেসব বাড়িতে হামলা হয়েছে, সেসব পরিবারের সদস্যরা অনেক আগেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। গ্রামের মানুষের চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক। কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন, এমনকি নাম প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছেন।

এক বৃদ্ধ কথা বলতে শুরু করতেই পাশ থেকে তার স্ত্রী ছুটে এসে বলেন, চুপ করেন, কিছু বলবেন না। আবার যদি বিপদ হয়? এরপর আর একটি শব্দও বলেননি ওই বৃদ্ধ।

সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ভবনই কার্যত বসবাসের অনুপযোগী। ঘরের প্রতিটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, খাট, ফ্রিজ, টিভি-যা ছিল সবকিছুই ভেঙে তছনছ করে ফেলা হয়েছে। দরজা-জানাল খুলে নেওয়া হয়েছে। পাশেই ছেলে হুসাইন শেখের দোতলা ভবনের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ভবনের ছাদে শাবল দিয়ে একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত করা হয়েছে। কয়েকটি কক্ষের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, চুরি করতে হলে মানুষ দরজা ভাঙে। কিন্তু এখানে তো পুরো বাড়িটাই ভেঙে ফেলেছে। এটা শুধু লুটপাট না, প্রতিশোধের ধ্বংসযজ্ঞ।

গ্রামবাসীর দাবি, প্রথমে হামলাকারীরা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় এসে শাবল, হাতুড়ি, রড দিয়ে পুরো বাড়ি ভাঙতে থাকে। অনেক বাড়ির টিনের চাল পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দরজা, জানালা, গ্রিল, কাঠ, বৈদ্যুতিক তার-যা খুলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তাই নিয়ে গেছে।

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামের দুই পক্ষের বিরোধ নতুন নয়। সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখ এবং একই গ্রামের মুরাদ খানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বছর কয়েক আগে ওই বিরোধে হুসাইন শেখের ডান হাতের কবজি কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটে। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। ১৯ জুন হুসাইন শেখের সমর্থক আলিম শেখ ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ২৬ জুন সন্ধ্যায় কলেজছাত্র সুমন শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত সুমনের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৭ জন আসামির মধ্যে শনিবার (১৮ জুলাই) পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শামীম শেখ অভিযোগ করে বলেন, ২১ দিনেও পুলিশ মাত্র একজনকে ধরেছে। বাকিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। আমাদের এখনও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক ঘণ্টা গ্রাম ঘুরেও কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ওই সময় ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন গ্রামবাসী।

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির ফাইজুর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ওপরের নির্দেশ রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই আন্দোলন

ফেনীর ৭ হত্যায় ২২ মামলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর ৭ হত্যায় ২২ মামলা নিয়ে অনিশ্চয়তা
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে সমবেত হয় ছাত্র-জনতা। -ফাইল ছবি

জুলাই আন্দোলনে ফেনীর মহিপালে সাত হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসব মামলায় ঢালাওভাবে আসামির নাম অন্তর্ভুক্তি, দুর্বল অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ও মূল ঘটনায় জড়িত না থাকা ব্যক্তিদের জড়ানোসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) নানা আইনি অসংগতি খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম মামলাগুলোর নথি পর্যবেক্ষণ করার পর ফেনীর স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার নথিতে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ার পর সম্প্রতি ফেনী জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খাঁন ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞাকে ঢাকায় তলব করেন আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর।

গত বৃহস্পতিবার ফেনীর পিপি মেজবাহ উদ্দিন খাঁন সাংবাদিকদের জানান, আইনি ত্রুটি, ইচ্ছানুযায়ী আসামির তালিকা তৈরি এবং বিচার বিশ্লেষণ ছাড়াই তড়িঘড়ি চার্জশিট দাখিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর। সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখতে এবং আদালতের বিচারক, আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহেই আইসিটির চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরে আসার কথা রয়েছে। এর পরই মামলাগুলোর বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে এক দফা দাবিতে ফেনীর মহিপালে  আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সাতজন। আহত হন সাড়ে চার শতাধিক মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করেন প্রায় অর্ধশত। ওই ঘটনায় সাতটি হত্যাসহ মোট ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। 

এরই মধ্যে পুলিশ ছয়টি হত্যা ও পাঁচটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ ১১টি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। দুইটি হত্যা মামলার বিচার কাজও স্থানীয় আদালতে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে টমটমচালক সবুজ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ও আলোচিত শিহাব হত্যা মামলায় চার্জ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, সাবেক এমপি আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক এমপি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ আসামির সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। 

আসামিদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া মামলার মূল ও প্রভাবশালী আসামিদের প্রায় সবাই বর্তমানে পলাতক।

স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক হয়রানি, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিহিংসার কারণে অনেক সাধারণ মানুষকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার এই দুর্বলতার কারণে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা  আইনজ্ঞদের।

হত্যাচেষ্টার এক মামলার বাদী ও ‘আমরাই জুলাইযোদ্ধা’ ফেনী জেলা কমিটির সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ফেনীর মহিপালে ৪ আগস্টের গণহত্যায় যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলো রাজপথ ও আদালতে অনড় থাকবে।’

ফেনী জেলা জজ আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খাঁন বলেন, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে হওয়া ১৫টি মামলার বিচার ফেনীর আদালতে চলমান থাকলেও সাতটি হত্যা মামলা দ্রুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) স্থানান্তর করা হবে। চিফ প্রসিকিউটরের ফেনী সফরের পর মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতে পুনঃতদন্তের নির্দেশ আসতে পারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত দল সম্প্রতি ফেনীতে তদন্ত পরিচালনা করে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, ‘বিচার কোন আদালতে হচ্ছে- সেটি বড় বিষয় নয়, মূল লক্ষ্য হলো সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দোষীদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।’

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ সততার সঙ্গে তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করেই চার্জশিট দাখিল করেছে। তবে আদালতের যেকোনো নির্দেশনা বা পুনঃতদন্তের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’