• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচি

বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহে  বর্ষা বন্দনা

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহে  বর্ষা বন্দনা
সংগৃহীত ছবি

বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি। আকাশজুড়ে ধূসর মেঘ। চারপাশে বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ। এমন এক সন্ধ্যায় গান, কবিতা, আবৃত্তি আর নৃত্যের মেলবন্ধনে তৈরি হলো ভিন্ন রকম এক সাংস্কৃতিক আসর। শুধু বিনোদন নয়, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল চর্চার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ ময়মনসিংহ জেলা শাখা।

‘বর্ষার সুরে মুখর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ মোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জেড. এইচ. এম. জুয়েলের বাসভবনে। বর্ষার আবহকে ঘিরে সাজানো পুরো অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিক্ষক, সংস্কৃতিপ্রেমী, শুভসংঘের সদস্য এবং বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশিত হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান ‘আকাশ এত মেঘলা, যেও নাকো একলা।’ বাইরে মেঘলা আকাশ আর ভেতরে সেই গানের আবহ মিলেমিশে সৃষ্টি করে অন্য রকম এক অনুভূতি। এরপর একে একে আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় প্রাণ ফিরে পায় পুরো আয়োজন।

সন্ধ্যার বিশেষ অতিথি ছিলেন আনন্দ মোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জেড. এইচ. এম. জুয়েল এবং ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক দিয়া হক। অতিথি শিল্পী হিসেবে নৃত্য পরিবেশন করেন সানজিদা জাহান সারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ময়মনসিংহ জেলা শাখার উপদেষ্টা নিজাম উদ্দিন সৌরভ, কিফায়াত আজাদ অর্পা ও খাদিজা ফেরদৌসী জেনি। সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি নাফিউল হাসান মুবিন। আরো উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ নাঈম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বচ্ছ দে ও নাবিলা কামাল ছোঁয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক নাবিলা আক্তার, প্রচার সম্পাদক আনিতুর রহমান সাদী, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম জীবন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য দেবশ্রী রাণী সরকার, ঋতু রায়, দিগন্ত ভট্টাচার্য ও অসীমা ইসলাম।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন গিটারিস্ট, গায়ক-গায়িকা ও আবৃত্তিশিল্পীরা। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। বর্ষার স্নিগ্ধ আবহে অনুষ্ঠানটি পরিবেশিত হয়।

আবৃত্তি পর্বে নাবিলা কামাল ছোঁয়া, ইয়াসিন আরাফাত, মেহরিন জামান ও আফসানা তাসনিম শিশির তাঁদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। নাবিলা কামাল ছোঁয়া আবৃত্তি করেন ভবানী প্রসাদ মজুমদারের বহুল পরিচিত কবিতা ‘বাংলাটা ঠিক আসে না।’ আফসানা তাসনিম শিশির আবৃত্তি করেন ‘আমি অন্তঃপুরের মেয়ে।’ মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত কণ্ঠে তুলে ধরেন রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘আধখানা বেলা’। অন্যদিকে মেহরিন জামান প্রেমের আবহে আবৃত্তি করেন— ‘এই যে অসংখ্য মানুষ ফেলে আমি চলে আসি তোমার কাছে, অজস্র পথ রেখে চলে আসি তোমার পথে, তুমি কি বুঝতে পারো?’

অতিথি দিয়া হক বর্ষার আবহের সঙ্গে মিল রেখে আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা— এমন দিনে তারে বলা যায়,
এমন ঘনঘোর বরিষায়।
এমন দিনে মন খোলা যায়...

এই আবৃত্তির সময় মুহূর্তেই অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসে আবেগঘন নীরবতা। সানজিদা জাহান সারা সৃজা ঘোষের ‘বছর চারেক পর’ কবিতা আবৃত্তি করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরে রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার মল্লিকা বনে’-এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে তিনি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সহযোগী অধ্যাপক জেড. এইচ. এম. জুয়েল বলেন, ‘যে সমাজে সংস্কৃতির চর্চা হয়, সে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সৌন্দর্যবোধ ও ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটে। তরুণদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, সাহিত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে হবে। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন উদ্যোগ তরুণদের সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রভাষক দিয়া হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই। এমন আয়োজন আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, নান্দনিক বোধ তৈরি করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।’

উপদেষ্টা নিজাম উদ্দিন সৌরভ বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সংস্কৃতি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজসেবার পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক বিকাশেও নিয়মিত কাজ করছে।’

সভাপতির বক্তব্যে নাফিউল হাসান মুবিন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেই নয়, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারেও সমান গুরুত্ব দেয়। বর্ষার এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতার এক সুন্দর বন্ধনে যুক্ত হয়েছি।’

আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে আরো গভীরভাবে যুক্ত করার একটি প্রয়াস। বর্ষার সুর, কবিতার আবেগ, নৃত্যের ছন্দ আর তরুণদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ মিলিয়ে সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছে স্মরণীয় এক সাংস্কৃতিক আয়োজন।

ভোলায় বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
ভোলায় বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে ভোলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেছে বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘ।

বুধবার (৮ জুলাই) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় দ্বীপজেলা ভোলার শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন (সিয়াম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তোতা মিয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মীর আবিদ হোসেন রাফি, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় দত্ত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাব্বির, দপ্তর সম্পাদক নুর ফাতেমা ও অন্য সদস্যরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. তোতা মিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের প্রতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব, নিরাপদ পানির সংকট এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। তবেই দেশব্যাপী একটি সবুজ বিপ্লব গড়ে তোলা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে মো. শাফায়াত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার ভিত্তিও তৈরি করে। বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শুধু গাছের চারা বিতরণ করছি না, বরং পরিবেশ রক্ষায় একটি সামাজিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিচ্ছি।’

চারা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, প্রাপ্ত চারাগুলো নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খালি জায়গায় রোপণ করবেন এবং সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করবেন।

জবিতে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

জবি প্রতিনিধি
জবিতে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সবুজে সুন্দর আগামী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা প্রাঙ্গণে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের আয়োজনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসকে সবুজ করার অঙ্গীকার করেছেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে সোনালু ফুল, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপ, আম, কাঁঠাল, নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন তারা।

বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ চত্বর হিসেবে গড়ে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের এই ধরনের সচেতনতামূলক ও সামাজিক কাজ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। প্রশাসন সবসময়ই বসুন্ধরা শুভসংঘের পাশে থাকবে এবং রোপণকৃত গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করবে।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের সাবেক সভাপতি মো. জুনায়েত শেখ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আমাদের এই আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং সবুজ ও নির্মল ক্যাম্পাস গড়ার অঙ্গীকার। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং প্রকৃতিকে ভালোবাসার চর্চায় এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ আমাদের ক্যাম্পাসকে আরো সুন্দর করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের জবি শাখার সদস্য জান্নাতুল মাওয়া লিশা বলেন, ‘দেশের পরিবেশকে সবুজায়নের লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ক্যাম্পাসে গাছগুলো যেমন পরিবেশকে সুন্দর করে তোলে, তেমনি এর পরিচর্যা করা আমাদের জন্যও আনন্দের।’

বসুন্ধরা শুভসংঘের আরেক সদস্য তৌফিক হোসেন বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং একটি সুন্দর সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন পরিবেশ রক্ষায় নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হয়। আমাদের এই ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষপ্রেম জাগিয়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে এ ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম আমরা অব্যাহত রাখব।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শুভসংঘের সদস্য রুপা, বিথি, রিতু রায়, তৌহিদ হেসেন, আলী কাজী, রোকন হোসেন, সামিয়া আক্তার, রোকেয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার, তহমিনাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মশার প্রজনন ধ্বংসে বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজের অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
মশার প্রজনন ধ্বংসে বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজের অভিযান

ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, আগাছা পরিষ্কার এবং পানি জমে থাকার উপযোগী স্থানগুলো পরিদর্শন করে তা পরিষ্কার করা হয়।

মাঠ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কোণা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এ সময় সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার করা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়।

ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার উপদেষ্টা সাব্বির রহমান বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা শুধু ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও। ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা যদি নিজ নিজ পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছির আরাফাত রাফি।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া  বর্তমানে দেশের অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং সামাজিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আমরা একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই। সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।’

দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি অরূপ কুমার রায় বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার উপদেষ্টা সাব্বির রহমান,বসুন্ধরা শুভসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছির আরাফাত রাফি, কলেজ শাখার সভাপতি অরূপ কুমার রায়, সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির, প্রদীপা রাণী, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নাইমুর রহমান দুর্জয়, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রিফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম আতিক, অনন্যা অনু ও আসাদুন নাহার মুক্তা, তথ্য সম্পাদক মো. মোনাইম হাসান নিয়ন, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম আরিফ, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক পাওয়েল চন্দ্র দেব শর্মা, মানবকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক অঞ্জলি সরকার, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

কর্মসূচির শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ বাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।