• ই-পেপার

আড়াইহাজারে জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১৫

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় দেন।

ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইরাকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তাঁকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৯(৪) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত জান্নাতুল নাঈম ইরার বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বাবু শেখ ছিল তাদের প্রতিবেশী।

রায় ঘোষণার পর ইরার মা রোকেয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়। খুনির রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। সরকারের কাছে আমার এটাই আবেদন।’

মামলার এজাহার ও তদন্তে বলা হয়, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়ার ও বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ইরাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তিনি ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যান বাবু। পরে স্থানীয় শ্রমিকরা গুরুতর আহত অবস্থায় ইরাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা করেন। একই দিন বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে পুলিশ বাবু শেখকে অভিযুক্ত করে ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের পর ২১ জুন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
সংগৃহীত ছবি

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ উপজেলা। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দুর্যোগের এই সময়ে মানুষের জীবন রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন। কোনো প্রাণ যেন সামান্য অসচেতনতার কারণেও ঝরে না পড়ে। সবাইকে অনুরোধ করব, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।”

তিনি জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরো ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন।’

উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট প্রয়োজন বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দী মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ আরো কার্যকর হবে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।’

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, ইফসা, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। যেকোনো দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসব দল।

পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে নিজেও মাঠে থাকার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শুকনো খাবার এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’

বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পাঁচ লিটার করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো মানুষ যেন অভুক্ত না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।

দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

সবশেষে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ও প্লাবিত জনপদের বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নয়।’’

লালপুরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত ২০ হাজার গরু, টিকা সংকটে ৩৬টির মৃত্যু

আব্দুল জব্বার সুজন, লালপুর (নাটোর)
লালপুরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত ২০ হাজার গরু, টিকা সংকটে ৩৬টির মৃত্যু
নাটোরের লালপুরে লাম্পি রোগে আক্রান্ত গরুর বাছুর।

নাটোরের লালপুর উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) এখন এক নীরব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে টিকার তীব্র সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণে প্রতিদিনই গরু হারাচ্ছেন কৃষকরা। উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার গরু এই রুগে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩৬টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। একদিকে গরুর মৃত্যু, আর অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে উপজেলার শত শত ক্ষুদ্র খামারি।

বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর গ্রামের ছোট খামারি হাবিল উদ্দিনের ছেলে মো. ফিরোজ আলীর গল্প যেন এই সংকটের প্রতিচ্ছবি। লাখ টাকা দামের ৫টি গরু ছিল তার খামারে। এই রোগের কারণে অর্ধেক দামে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। পরে আবার ৩টি গরু কিনেন খামারি ফিরোজ আলী। তার মধ্যে একটি গরুর ৩ মাসের বাছুর আবার লাম্পি রোগের আক্রান্ত হয়েছে।  প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন হলো আক্রান্ত হয়ে পড়ে আছে। এই রোগ সম্পর্কে তারা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তবে ঝাড়ফুক ও হোমিও ট্রিটমেন্ট নিয়ে চিকিৎসা করছে এই গবাদি পশুকে। নিজের টাকা খরচ করে আরো দুটি গরুর লাম্পি রোগের টিকা দিয়েছেন এই ছোটখাটো খামারি। এই লাম্পি রোগে সময়মতো সরকারি টিকা পেলে হয়তো কৃষকের এই ক্ষতি হতো না ।

গত বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা তীরবর্তী বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে প্রথম সংক্রমণ শুরু হয় এবং বিল্লাল আলী নামের এক কৃষকের ২টা গরু এই রোগে মারা যায়। গত এক মাসের মধ্যে মহরাজপুর, নাশোষা, নওশারা ও সুলতানপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রোগটি।

স্থানীয় পশু পল্লী চিকিৎসক মোসলেম উদ্দিন জানান, শুধু বিলমাড়িয়া ইউনিয়নেই গত এক মাসে ৪৫ থেকে ৫০টি গরু মারা গেছে এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে। যদিও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসেবে গত মে মাস থেকে এখনো পর্যন্ত ৩৬টি গরুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি।

নওশারা সুলতানপুর গ্রামের মো. নুর নবী ঘোষ জানান, তার খামারের ৬টি গরু ইতিমধ্যে মারা গেছে এবং আরো ৩টি এখনো আক্রান্ত। পশু হাসপাতালে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি।

একই গ্রামের মো. টুটুল ইসলামের ২টি গরু আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে। বারবার পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া মো. ফিরোজ আলি ও শাহানাজ পারভীনও একই সংকটে রয়েছেন।

পানসিপাড়া গ্রামের দিনমজুর কামরুল ইসলামের একটি গরু ১০ দিন ধরে আক্রান্ত। তিনি হোমিও চিকিৎসা, ধূপ, ন্যাপথলিনের বড়ি ও নিমপাতা ব্যবহার করে চিকিৎসার চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা ফতেপুর গ্রামের জোসনার। তার গরুটিও ১০ দিন ধরে আক্রান্ত, কিন্তু টিকা বা আধুনিক চিকিৎসা না পেয়ে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা চালাচ্ছেন।

বিজলী নামের এক নারীও একইভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তার গরুও দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে দিন দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২০২১ সালে সর্বপ্রথম লালপুরে এই রোগ সংক্রমণ হয়েছে।

লালপুর উপজেলায় মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি গরুর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার গরু ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গরু আক্রান্ত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাত্র ৩৫০ ডোজ টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ফলে বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যেখানে অন্তত ৫০ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন ছিল।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে কিছু তথ্যের গরমিল থাকতে পারে। আমরা প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’   তিনি আরো জানান, নতুনভাবে জুলাই মাসের জন্য ২৫ হাজার ডোজ টিকার চাহিদা পাঠানো হলেও এখনো কোনো সরবরাহ আসেনি।

এদিকে ভেটেনারি সার্জন ডা. শুভ কুমার দাস খামারিদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

টিকার অভাব, চিকিৎসা সংকট এবং দ্রুত সংক্রমণের কারণে লালপুরের খামারিরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ না হলে এই সংকট আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রীমঙ্গলের চা বাগান থেকে অজগর উদ্ধার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলের চা বাগান থেকে অজগর উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগান থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ভানুগাছ সড়কের ফিনলে টি কোম্পানির ভুরভুরিয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশন থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে নিয়মিত চা পাতা তুলছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কাজ বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পরে বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন এবং শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা অজগরটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। এটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অথবা কোনো সংরক্ষিত গভীর বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বর্ষা মৌসুমে খাবারের সন্ধানে বা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক সময় অজগর চা বাগানের ঝোপঝাড়ে চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।