• ই-পেপার

প্রাথমিক শিক্ষক পদে ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থীর ফলাফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ

প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না আজ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশিত হচ্ছে না। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। এ ছাড়া কারিগরি কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে ফল প্রকাশের কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। বড় কোনো সমস্যা দেখা না দিলে আগামী রবিবার (১২ জুলাই) বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে।

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশ করা হবে। এই ফল শিক্ষার্থীরা অনলাইনের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও জানতে পারবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক এ এস এম সিরাজুদ্দোহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন।

ফলাফল দেখার বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিস্টেম অ্যানালিস্ট দিলীপ কুমার সরকা বলেন, ‘টেলিটক এ জন্য একটি বিশেষ নম্বর চালু করেছে। যেকোনো মোবাইল অপারেটরের সিম থেকে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে।’

যেভাবে দেখবেন ফলাফল
ফল প্রকাশের পর মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে DPE স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। যেমন, DPE 123456। 

এ ছাড়া অনলাইনে https://ipemis.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে সহজেই ফলাফল দেখা যাবে।

৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন ডেস্ক
৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা প্রায় ৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে ১২ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পাঁচদিন  বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। 

বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১২ জুলাই (রোববার) থেকে ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১০ ও ১১ জুলাই (শুক্র ও শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর ১৭ ও ১৮ জুলাইও সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে টানা প্রায় ৯ দিনের বিরতি তৈরি হচ্ছে।

তবে এ সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বা অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে পৃথক কোনো নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

বেরোবিতে কবি আবদুল হাই শিকদারের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই নিয়ে বিশেষ গ্রন্থাগার

বেরোবি প্রতিনিধি
বেরোবিতে কবি আবদুল হাই শিকদারের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই নিয়ে বিশেষ গ্রন্থাগার
বুধবার ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে কবি আবদুল হাই শিকদারের বৈঠক।

যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ হাজার বই সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করে বইগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই ) ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে আবদুল হাই শিকদারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো.শওকাত আলী, ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি শুধু একজন ব্যক্তির বইয়ের সংগ্রহ নয়, দেশের জ্ঞান ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মাধ্যমে বইগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বইগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘এ উদ্যোগ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা দুর্লভ ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে ইউজিসি নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। তিনি বলেন, ‘শুধু বই সংরক্ষণ করলেই হবে না, দুর্লভ গ্রন্থগুলো ডিজিটাল আর্কাইভসেও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও পাঠক সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।’

কবি আবদুল হাই শিকদার জানান, তাঁর সংগ্রহে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশ্ব ইতিহাস, গবেষণা, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্য, শিশু সাহিত্য, বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রায় ১০ হাজার বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার বই দ্রুত সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক বই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় না।  তিনি বলেন, ‘সংগ্রহের একটি অংশ তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। বাকি বই কয়েক দশক ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করেছেন।’ তাঁর ইচ্ছা পুরো সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা, যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার ভাষাবিদ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণের অভাবে তাঁর সংগ্রহের বহু দুর্লভ বই একসময় ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি তাঁর গ্রন্থাগারের জায়গায় তেলের ঘানির দোকান গড়ে ওঠে। এ ধরনের ঘটনা দেশের জ্ঞান-ঐতিহ্যের জন্য বড় ক্ষতি। তাই ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ‘ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেছিলেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি নিজের সংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চান। আবদুল হাই শিকদার আরো জানান, তাঁর গ্রামের বাড়ি রংপুর বিভাগে। সেই বিবেচনায় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত গ্রন্থসংগ্রহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চান, যাতে এ অঞ্চলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা বইগুলো ব্যবহার করতে পারেন। 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবদুল হাই শিকদারের নামে একটি বিশেষ কর্নার বা পৃথক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’