• ই-পেপার

ইরানে মার্কিন হামলা, বাড়ল তেলের দাম

সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছেন ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ তথ্য জানান।

রয়টার্সের দেখা ওই চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, তিনি আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সিরিয়ার পুনর্গঠনের পথে থাকা সব বাধা দূর করার চেষ্টা করবেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে ট্রাম্প আরো বলেন, খুব শিগগিরই সিরিয়া পুনর্গঠনের কাজ আরো সহজ হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কম্পানি দেশটিতে বিনিয়োগে আগ্রহী। এসব বিনিয়োগ সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ট্রাম্প ও আহমেদ আল-শারার বৈঠকের পর এই চিঠি সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ট্রাম্প বলেন, এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। এখন কংগ্রেস ৪৫ দিন বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো দেশকে সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলে সেই দেশের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা বন্ধ থাকা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনে কড়াকড়ি। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সাফওয়াত রাসলান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সিরিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গতি আসবে এবং দেশটি আবার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

গত বছর ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি বাতিল করে নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কমানোর পথ তৈরি হয়। এদিকে সিরিয়ার পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে সৌদি আরবের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশ দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বুধবার ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রশংসাও করেন। আল-শারা ২০১৬ সালে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার আগে সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন নুসরা ফ্রন্টের একজন কমান্ডার ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তিনি কয়েকটি ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জোটের নেতৃত্ব দিয়ে বাশার আল-আসাদের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। ট্রাম্প বলেন, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আল-শারার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি আরো বলেন, ‘সবাই তাকে সম্মান করে, আমিও করি।’

ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮১১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১৬ হাজার ৭৪০ জন। দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পরও হাজারো মানুষ ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত সরকারি হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬০৩ মেট্রিক টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৬ লাখ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৯৮ জন।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ৩০ হাজার ৭৬ জন সরকারি কর্মী কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯২ জন স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৪ হাজার ৩৮৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীও এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য দেশজুড়ে ৮৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রথম ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০২টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বহু ভবন ধসে পড়ে, হাজারো মানুষ হতাহত হন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই দুর্যোগের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় পরিসরে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনের কাজ চলছে।


 

১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি : রয়টার্স

১৫ জন রোগীকে হত্যার দায়ে জার্মানির একজন ডাক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বার্লিনের একটি আদালত ৪১ বছর বয়সী ওই ডাক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।  তাকে শুধু ‘ইয়োহানেস এম.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিনি ১২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষকে হত্যা করেন। নিহতদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে। আদালতে শুনানিতে জানা যায়, নিহতরা সবাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার সময় ওই ডাক্তার রোগীদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধের প্রাণঘাতী মিশ্রণ প্রয়োগ করতেন, যার ফলে তাদের মৃত্যু হতো। তদন্তকারীরা আরো জানান, নিজের অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে তিনি কয়েকবার আগুন লাগিয়েছিলেন।

প্রসিকিউটরদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের অল্প কিছুদিন আগে তিনি একই দিনে দুই রোগীকে হত্যা করেন। প্রথমে তিনি মধ্য বার্লিনে ৭৫ বছর বয়সী এক পুরুষকে হত্যা করেন। কয়েক ঘণ্টা পরে পাশের একটি এলাকায় ৭৬ বছর বয়সী এক নারীও তার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে হত্যার পর তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন ডাক্তারটি, তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রমাণিত ১৫টি হত্যাকাণ্ডই হয়তো পুরো ঘটনার একটি অংশ মাত্র। প্রসিকিউটররা বর্তমানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো কয়েক ডজন সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন।

জার্মানিতে ১৫ জন রোগী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ চিকিৎসক প্রায় এক বছর ধরে চলা বিচারের বেশিরভাগ সময় নীরব ছিলেন। তবে গত মাসে তিনি তার ১২ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হত্যা করার কথা আদালতে স্বীকার করেন। ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ হলো, গুরুতর বা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক কষ্ট প্রশমন করার একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাব্যবস্থা।

আদালতে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি সঠিক কাজই করছেন এবং রোগীদের দুঃখকষ্ট ও অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘পুরো সময় আমি ভেবেছিলাম এটাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো।’

তিনি আরো বলেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে যে কষ্ট ও ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। প্রসিকিউটররা বর্তমানে ডাক্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন।

জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে, এটি জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিণত হতে পারে। ওই চিকিৎসক আদালতকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শুরু হওয়া অতিরিক্ত মামলাগুলোর কার্যক্রমে তিনি শুরু থেকেই সহযোগিতা করবেন।

বিচারের শুরুতে নিহতদের স্বজনরা আদালতে বলেন, তারা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, একজন চিকিৎসক, যার ওপর তারা আস্থা রেখেছিলেন, এমন ভয়াবহ অপরাধ করতে পারেন। তাদের অনেকেই এই ঘটনার ধাক্কা থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেননি।

জার্মানিতে ১৫ রোগী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত চিকিৎসকের বিচারে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২১ সালে নিহত ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালতকে বলেন, ‘সে কখনো বলেনি যে সে আর বাঁচতে চায় না।’

২০২৪ সালে নিহত ৭২ বছর বয়সী এক নারীর ছেলে জানান, তার মা ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, তার মায়ের বোনের সঙ্গে বাল্টিক সাগর এলাকায় ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আদালতে বলেন তিনি, ‘আমার মা বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন।’

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকের অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর। এজন্য তাকে শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই নয়, কারাভোগের পরও প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি সমাজের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে না পারেন। এ ছাড়া আদালত তার চিকিৎসা পেশায় কাজ করার অধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে। ফলে তিনি আর কখনো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

এদিকে, প্রসিকিউটররা এখনও ডাক্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন। এসব অভিযোগও প্রমাণিত হলে, মামলাটি জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম বড় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
 

২ দিনে ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত অন্তত ১২ জন

অনলাইন ডেস্ক
২ দিনে ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত অন্তত ১২ জন
ছবি : রয়টার্স

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ইরানশাহরে একজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলার পর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

এর আগের দিনও দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৮ জন ইরানি সেনা নিহত হন। বুধবার (৮ জুলাই) আইআরএনএ জানায়, বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ নিয়ে দুই দিনে মার্কিন হামলায় ১২ জন নিহত হলো। তবে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই দিনে দেশটির পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি আইআরএনএকে বলেন, ‘ইসরায়েল-মার্কিন সরকার আজ (৯ জুন) ভোররাতে আহভাজের উপকণ্ঠের একটি স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’

তিনি জানান, হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরানে টানা দ্বিতীয় রাতেও ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন দফা হামলায় তারা ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। 

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম ও আবু মুসা দ্বীপেও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

এবারের হামলায় নতুন করে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের এলাকাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানশাহর, কোনারাক ও চাবাহার শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। চাবাহারে বেসামরিক এলাকা, সামরিক ঘাঁটি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেটি এবং একটি সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানশাহরে হামলার সময় ছিটকে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি বিমানবন্দর স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে অন্তত একজন নিহত হন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর ও আশপাশের এলাকাও মার্কিন বিমান হামলার শিকার হয়েছে। বুশেহরে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকারের হামলা। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে এবং আগামী দিনগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।