• ই-পেপার

সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছেন ট্রাম্প

চীনের গুয়াংজিতে বন্যায় মৃত ৩৯, নিখোঁজ ৯

অনলাইন ডেস্ক
চীনের গুয়াংজিতে বন্যায় মৃত ৩৯, নিখোঁজ ৯
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। এখনও অন্তত ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টি ও তীব্র বন্যায় গুয়াংজির বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর মধ্যেই একটি শক্তিশালী সুপার টাইফুন চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে লিউলান জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায়। ওই এলাকায় এখনও ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে এএফপির সাংবাদিকরা দেখেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও রাস্তা ও বাড়িঘর ঘন কাদায় ঢেকে আছে। নদীর অপর পারে আটকে পড়া মানুষের কাছে খাবার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে উদ্ধারকারীরা বড় ড্রোন ব্যবহার করছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বাঁধের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে রাবার বোটে করে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন।

এদিকে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। অনেককে ক্ষতিগ্রস্ত আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র সরাতে এক্সকাভেটর ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।

ইরানে মার্কিন হামলা, বাড়ল তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে মার্কিন হামলা, বাড়ল তেলের দাম
ছবি : রয়টার্স

ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী চাবাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার টোকিও সময় সকাল ৭টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫.২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.০২ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪.৫৬ ডলারে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আবুধাবির প্রধান রপ্তানিযোগ্য অপরিশোধিত তেল মুরবান ক্রুডের দাম ৬.৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। এশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই গ্রেডের তেলের দাম আন্তর্জাতিক অন্যান্য বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে এর দাম ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ইউনিট ৩.২২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে, যা জ্বালানির দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে পারে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ইরানের একমাত্র সমুদ্রবন্দর চাবাহারে সামরিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় রাতভর মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এই এলাকায় এটিই ছিল প্রথম মার্কিন সামরিক অভিযান। এর ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চাবাহারে হামলা শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

চাবাহারে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বাজারের আশঙ্কা, ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যদিও চাবাহার বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত, বিশ্লেষকদের মতে মূল উদ্বেগ হলো সংঘাত বিস্তৃত হয়ে পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ধরনের আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে তেলের বাজারে। আবুধাবির মুরবান অপরিশোধিত তেলের দাম অন্যান্য প্রধান বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরবান তেলের মূল্যবৃদ্ধি এশিয়ার ক্রেতাদের উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর শোধনাগারগুলো এই তেল ব্যাপকভাবে ব্যবহার ও লেনদেন করে থাকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুরবান অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যে ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে তেলের দাম বাড়লেও তা এখনও আগের সংঘাতের সময় দেখা ১০০ ডলারের বেশি স্তরে পৌঁছায়নি। এর অর্থ, বাজার এখনো দীর্ঘমেয়াদি বা বড় ধরনের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না বা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে কি না, সেদিকে বাজারের নজর রয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর জ্বালানি বাজার এ অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সামরিক সংঘাত বাড়লে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও বীমা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ ও বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বা তেল উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন ঘটে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
 

ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮১১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১৬ হাজার ৭৪০ জন। দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পরও হাজারো মানুষ ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত সরকারি হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬০৩ মেট্রিক টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৬ লাখ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৯৮ জন।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ৩০ হাজার ৭৬ জন সরকারি কর্মী কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯২ জন স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৪ হাজার ৩৮৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীও এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য দেশজুড়ে ৮৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রথম ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০২টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বহু ভবন ধসে পড়ে, হাজারো মানুষ হতাহত হন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই দুর্যোগের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় পরিসরে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনের কাজ চলছে।


 

১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি : রয়টার্স

১৫ জন রোগীকে হত্যার দায়ে জার্মানির একজন ডাক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বার্লিনের একটি আদালত ৪১ বছর বয়সী ওই ডাক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। জার্মানির গোপনীয়তা আইনের কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি।  তাকে শুধু ‘ইয়োহানেস এম.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিনি ১২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষকে হত্যা করেন। নিহতদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে। আদালতে শুনানিতে জানা যায়, নিহতরা সবাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার সময় ওই ডাক্তার রোগীদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধের প্রাণঘাতী মিশ্রণ প্রয়োগ করতেন, যার ফলে তাদের মৃত্যু হতো। তদন্তকারীরা আরো জানান, নিজের অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে তিনি কয়েকবার আগুন লাগিয়েছিলেন।

প্রসিকিউটরদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তারের অল্প কিছুদিন আগে তিনি একই দিনে দুই রোগীকে হত্যা করেন। প্রথমে তিনি মধ্য বার্লিনে ৭৫ বছর বয়সী এক পুরুষকে হত্যা করেন। কয়েক ঘণ্টা পরে পাশের একটি এলাকায় ৭৬ বছর বয়সী এক নারীও তার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নারীকে হত্যার পর তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন ডাক্তারটি, তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রমাণিত ১৫টি হত্যাকাণ্ডই হয়তো পুরো ঘটনার একটি অংশ মাত্র। প্রসিকিউটররা বর্তমানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো কয়েক ডজন সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন।

জার্মানিতে ১৫ জন রোগী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ চিকিৎসক প্রায় এক বছর ধরে চলা বিচারের বেশিরভাগ সময় নীরব ছিলেন। তবে গত মাসে তিনি তার ১২ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হত্যা করার কথা আদালতে স্বীকার করেন। ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ হলো, গুরুতর বা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক কষ্ট প্রশমন করার একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাব্যবস্থা।

আদালতে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে তিনি সঠিক কাজই করছেন এবং রোগীদের দুঃখকষ্ট ও অসুস্থতা থেকে মুক্তি দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘পুরো সময় আমি ভেবেছিলাম এটাই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো।’

তিনি আরো বলেন, তার কর্মকাণ্ডের কারণে যে কষ্ট ও ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তবে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, এই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। প্রসিকিউটররা বর্তমানে ডাক্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন।

জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে, এটি জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিণত হতে পারে। ওই চিকিৎসক আদালতকে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শুরু হওয়া অতিরিক্ত মামলাগুলোর কার্যক্রমে তিনি শুরু থেকেই সহযোগিতা করবেন।

বিচারের শুরুতে নিহতদের স্বজনরা আদালতে বলেন, তারা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, একজন চিকিৎসক, যার ওপর তারা আস্থা রেখেছিলেন, এমন ভয়াবহ অপরাধ করতে পারেন। তাদের অনেকেই এই ঘটনার ধাক্কা থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেননি।

জার্মানিতে ১৫ রোগী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত চিকিৎসকের বিচারে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২১ সালে নিহত ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালতকে বলেন, ‘সে কখনো বলেনি যে সে আর বাঁচতে চায় না।’

২০২৪ সালে নিহত ৭২ বছর বয়সী এক নারীর ছেলে জানান, তার মা ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, তার মায়ের বোনের সঙ্গে বাল্টিক সাগর এলাকায় ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আদালতে বলেন তিনি, ‘আমার মা বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন।’

রায়ে আদালত উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকের অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর। এজন্য তাকে শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই নয়, কারাভোগের পরও প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি সমাজের জন্য কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করতে না পারেন। এ ছাড়া আদালত তার চিকিৎসা পেশায় কাজ করার অধিকার স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে। ফলে তিনি আর কখনো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।

এদিকে, প্রসিকিউটররা এখনও ডাক্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ৭৬টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছেন। এসব অভিযোগও প্রমাণিত হলে, মামলাটি জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম বড় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।