বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রাতে মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে নামবে ফ্রান্স। কিন্তু তার আগে ফ্রান্স মূল স্ট্রাইকারকে লক্ষ্য করে ঘৃণ্য আক্রমণ চালিয়েই যাচ্ছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিল্লা। বুধবার প্যারাগুয়ের সংসদে দাঁড়িয়ে আমারিল্লা এমবাপ্পেকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। তবে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেছেন, এসব কথায় বিচলিত নন এমবাপ্পে।
ঘটনার শুরু গত রবিবার রাউন্ড অব ৩২-এ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের ম্যাচের পর। ম্যাচে এমবাপ্পের পেনাল্টিতে দেওয়া একমাত্র গোলে জয় পায় ফ্রান্স। ম্যাচের পর প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে তর্ক হয় এমবাপ্পের। গিল হাত বাড়িয়ে দিলেও হাত মেলাননি এমবাপ্পে। এতেই চটেছেন আমারিল্লা।
খেলার মাঠকে রাজনীতিতে টেনে এনে তিনি এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে কুৎসিত বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। প্যারাগুয়ের বিরোধী দল লিবারেল পার্টির এই সিনেটর তার এক্স একাউন্টে এমবাপ্পেকে, ‘ঔপনিবেশিক ক্যামেরুনীয়’, ‘অহংকারী’, ‘বর্বর’-সহ বিভিন্ন অকথ্য গালি দেন।
ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের এমবাপ্পেকে আঘাত করা উচিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমবাপ্পেও ছেড়ে কথা বলেননি। মাঠের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি আক্রমণাত্মক। নিজের একাউন্টে সিনেটর আমারিল্লাকে ‘ঘৃণ্য নারী’ এবং ‘পদের অযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করে এমবাপ্পে লেখেন, ‘আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। এই বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা যে লড়াই করেছে, আপনার বেপরোয়া ও বর্ণবাদী মন্তব্য সেই গৌরবকে আড়াল করে দিয়েছে। আপনার মতো মানুষকে আমি কখনোই ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দেব না।’
জবাবে আমারিল্লা এমবাপ্পের বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগ এনে মামলা করার হুমকি দেন।
এমবাপ্পেকে এই বর্ণবাদী আক্রমণে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ফ্রান্স সরকার, ফুটবল ফেডারেশন, দল, ফিফা, এমনকি প্যারাগুয়ের সরকারও এমবাপ্পের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এমবাপ্পে থেমে গেলেও আমারিল্লার রাগ এখনো যায়নি। বুধবার প্যারাগুয়ের সংসদে দাঁড়িয়ে আবারও এমবাপ্পেকে নোংরা ভাষায় গালি দেন আমারিল্লা। তিনি তাকে জেলে পাঠানোরও হুমকি দেন।
আমারিল্লা বলেন, ‘অরল্যান্ডো গিল ছেলেটা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পা রেখেছিল, প্রথমবারের মতো ইউরোপে এসেছিল, বিশ্বের সামনে খেলছিল এবং একজন প্যারাগুয়েনের সমস্ত বিনম্রতা নিয়ে তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, আর তার সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করল এবং তার মুখের ওপর চিৎকার করল—সেটা ফরাসি আচরণ নয়। একজন ফরাসি নাগরিক কখনো এমন কাজ করতেন না।’
ফ্রান্সের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে আমারিল্লা বলেন, ‘ফ্রান্স মানে হলো রুশো, দেকার্ত, মন্তেস্কু, ভিক্টর হুগো, সিমোন দ্য বোভোয়ার, এবং মানুষ ও নাগরিকের অধিকারের ঘোষণাপত্র। আমি সেই মহান ফ্রান্স এবং তার বিশাল সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে এমবাপ্পের মতো একজনের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনতে অস্বীকার করছি।’
২০২০ সালে প্যারাগুয়েতে ব্রাজিলের খেলোয়াড় রোনালদিনহোকে কারাগারে পাঠানোর কথা উল্লেথ করে আমারিল্লা বলেন, ‘এমবাপ্পে, প্যারাগুয়েনদের সাথে পাঙ্গা নিতে এসো না। আমরা এখানে ইতিমধ্যে রোনালদিনহোকেও জেলে পুরেছিলাম... আর আমাকে অবমূল্যায়ন করো না, এমবাপ্পে। আমি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি... জেন্ডার সহিংসতা। নারীর প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতা। এটা বেশ গুরুতর বিষয়... সে আমার কাছে ক্ষমা চাক, কারণ এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি এখনো আমার কাছে রয়েছে।’
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমকেও এমবাপ্পেকে নিয়ে প্রশ্নের মুথে পড়তে হয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মাঠের বাইরের এই আলোচনা এমবাপ্পেকে মোটেও বিচলিত করতে পারেনি এবং সে সম্পূর্ণভাবে খেলায় মনোনিবেশ করছে। দেশম বলেন, ‘কিলিয়ান মানসিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছে। ও ম্যাচের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’