• ই-পেপার

১৫ রোগীকে হত্যা, জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ইরানে মার্কিন হামলা, বাড়ল তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে মার্কিন হামলা, বাড়ল তেলের দাম
ছবি : রয়টার্স

ইরানের কৌশলগত বন্দরনগরী চাবাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার টোকিও সময় সকাল ৭টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫.২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.০২ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪.৫৬ ডলারে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইরানে মার্কিন হামলার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

আবুধাবির প্রধান রপ্তানিযোগ্য অপরিশোধিত তেল মুরবান ক্রুডের দাম ৬.৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। এশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই গ্রেডের তেলের দাম আন্তর্জাতিক অন্যান্য বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে এর দাম ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ইউনিট ৩.২২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে, যা জ্বালানির দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে পারে। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ইরানের একমাত্র সমুদ্রবন্দর চাবাহারে সামরিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় রাতভর মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এই এলাকায় এটিই ছিল প্রথম মার্কিন সামরিক অভিযান। এর ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং উত্তেজনা হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চাবাহারে হামলা শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

চাবাহারে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বাজারের আশঙ্কা, ইরান প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো বা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যদিও চাবাহার বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত, বিশ্লেষকদের মতে মূল উদ্বেগ হলো সংঘাত বিস্তৃত হয়ে পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ধরনের আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে তেলের বাজারে। আবুধাবির মুরবান অপরিশোধিত তেলের দাম অন্যান্য প্রধান বেঞ্চমার্কের তুলনায় বেশি হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুরবান তেলের মূল্যবৃদ্ধি এশিয়ার ক্রেতাদের উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর শোধনাগারগুলো এই তেল ব্যাপকভাবে ব্যবহার ও লেনদেন করে থাকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুরবান অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যে ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে তেলের দাম বাড়লেও তা এখনও আগের সংঘাতের সময় দেখা ১০০ ডলারের বেশি স্তরে পৌঁছায়নি। এর অর্থ, বাজার এখনো দীর্ঘমেয়াদি বা বড় ধরনের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না বা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে কি না, সেদিকে বাজারের নজর রয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর জ্বালানি বাজার এ অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সামরিক সংঘাত বাড়লে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও বীমা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ ও বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল বা তেল উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন ঘটে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
 

ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১
সংগৃহীত ছবি

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮১১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১৬ হাজার ৭৪০ জন। দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পরও হাজারো মানুষ ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত সরকারি হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬০৩ মেট্রিক টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৬ লাখ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৯৮ জন।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ৩০ হাজার ৭৬ জন সরকারি কর্মী কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯২ জন স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৪ হাজার ৩৮৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীও এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য দেশজুড়ে ৮৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে প্রথম ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০২টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বহু ভবন ধসে পড়ে, হাজারো মানুষ হতাহত হন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই দুর্যোগের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় পরিসরে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনের কাজ চলছে।


 

ইরানে নতুন মার্কিন হামলায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে নতুন মার্কিন হামলায় নিহত ৩
ছবি : রয়টার্স

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলার পর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

এর আগের দিনও দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৮ জন ইরানি সেনা নিহত হন। বুধবার (৮ জুলাই) আইআরএনএ জানায়, বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ নিয়ে দুই দিনে মার্কিন হামলায় ১১ জন নিহত হলো। 

খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি আইআরএনএকে বলেন, ‘ইসরায়েল-মার্কিন সরকার আজ (৯ জুন) ভোররাতে আহভাজের উপকণ্ঠের একটি স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’

তিনি জানান, হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরানে টানা দ্বিতীয় রাতেও ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন দফা হামলায় তারা ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। 

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম ও আবু মুসা দ্বীপেও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

এবারের হামলায় নতুন করে দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের এলাকাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানশাহর, কোনারাক ও চাবাহার শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। চাবাহারে বেসামরিক এলাকা, সামরিক ঘাঁটি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেটি এবং একটি সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানশাহরে হামলার সময় ছিটকে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি বিমানবন্দর স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে অন্তত একজন নিহত হন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর ও আশপাশের এলাকাও মার্কিন বিমান হামলার শিকার হয়েছে। বুশেহরে ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকারের হামলা। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে এবং আগামী দিনগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
 

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে ‘ঐতিহাসিক’ অংশীদারত্বের আহ্বান মোদির

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে ‘ঐতিহাসিক’ অংশীদারত্বের আহ্বান মোদির
ছবি: রয়টার্স

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি করেছে। তিনি বলেছেন, পারমাণবিক জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সবুজ হাইড্রোজেন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।

বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ভারত অর্থনৈতিক রোডম্যাপ বিষয়ক এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মোদি। বুধবার রাতে তিনি মেলবোর্নে পৌঁছান। মোদি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তর আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে। তিনি কম-কার্বন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন প্রকল্পেও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজ খাতে যৌথভাবে কাজ করার এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার ভাষায়, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেলপথ এবং নগর অবকাঠামো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য ভারত একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দেশ। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের সামনে ভারতের বাজার বড় সুযোগ তৈরি করছে।

মোদির এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন ভারত ও অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করতে চায়। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশটি অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ানসুপার’ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে আরো ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এদিকে অস্ট্রেলিয়ান ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ পত্রিকা জানিয়েছে, ভারতকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

২০১৪ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও এরপর ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, এই জ্বালানি শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাকে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘জীবন্ত সেতু’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মোদির নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে নতুনভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।  

অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রবাসী সম্প্রদায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৩ সালের সফরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলবোর্নের একটি বড় স্টেডিয়ামে প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকায় স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশ সফরে বড় জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়া মোদির জন্য নতুন নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভারতীয়দের বড় বড় সমাবেশে তিনি ভাষণ দিয়েছেন। তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ও সিডনির একটি বড় ইনডোর স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান মোদি। ইন্দোনেশিয়ায় তিনি কৃষি ও প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি সই করেন। এর মধ্যে ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে শুক্রবার দুপুরে তিনি নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হবেন। এরপর সেখান থেকে ভারতে ফিরবেন।