• ই-পেপার

সন্তানের জেদ কমাতে মাতা-পিতার করণীয়

ইউরোপে প্রথমবারের মতো যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে স্বতন্ত্র ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অনুষদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইউরোপে প্রথমবারের মতো যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে স্বতন্ত্র ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অনুষদ
জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়।

জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বতন্ত্র ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৭ সালে তা উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ‘ক্যাম্পাস অব রিলিজিয়নস’-এ ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইসলামিক থিওলজির পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ব বিভাগকে একই স্থানে আনা হবে। ২০২১ সাল থেকে পশ্চিম জার্মানির মুনস্টার শহরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচ ভেলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

নবগঠিত অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন মোহানাদ খোরশিদে বলেন, ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের অংশ হতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান। মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ১৫ বছরের কাজের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, এই অর্জন তাকে গভীর কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামের একটি উদার, আলোকিত ও মুক্তমনা ব্যাখ্যার পক্ষে কাজ করতে চাই। তার মতে, এই অনুষদের প্রভাব শুধু ইউরোপেই নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বেও পড়বে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক থিওলজির প্রধান ছিলেন খোরশিদে। নতুন অনুষদ হওয়ায় এখন ইসলামিক থিওলজি নিজস্বভাবে পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণা ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে এবং গবেষণা তহবিল সংগ্রহও সহজ হবে। আশা করা হচ্ছে, এই নতুন মর্যাদার ফলে তৃতীয় পক্ষের গবেষণা তহবিল সংগ্রহ করাও সহজতর হবে।

২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেন্দ্রটিতে বর্তমানে আটজন অধ্যাপক ও ৫০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন। আগামী কয়েক বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন খোরশিদে।

জার্মানির বিভিন্ন সরকারি স্কুলে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা চালু হওয়ায় যোগ্য শিক্ষকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় প্রায় ৩ হাজার ইসলাম ধর্মের শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৩৩০ জন।

২০২৭ সাল থেকে ইসলাম ও সমাজকর্ম নামে একটি স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান খোরশিদে। তিনি জানান এতে যুবসেবা, হাসপাতালের ধর্মীয় পরামর্শ, প্রবীণদের সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

অনুষদের নীতিমালায় ইসলাম ও গণতন্ত্রের সামঞ্জস্য, কোরআনের সমকালীন ও গবেষণাভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং আন্তধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চরমপন্থা, ইহুদি-বিদ্বেষ এবং ইসলামবাদের বিরোধিতার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোরশিদে বলেছেন, নতুন অনুষদের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে যে পরিমাণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। আফ্রিকা ও এশিয়ার মতো দূরবর্তী অঞ্চলের গণমাধ্যমগুলোও এই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিনি বিশেষভাবে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

খোরশিদে বলেন, মানুষ একটি মুক্তমনা ইসলামের আকাঙ্ক্ষা করে। তিনি বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে জার্মানির সীমানা ছাড়িয়ে ইসলামের ভবিষ্যৎ বিকাশ সংক্রান্ত বৃহত্তর রূপ দিতে মুনস্টার সাহায্য করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র নরবার্ট রবার্স বলেন, একই ছাদের নিচে খ্রিস্টান ও ইসলামিক থিওলজিকে একত্রিত করার উদ্যোগের শক্তিশালী প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী আনেত্তে শাভান এই পদক্ষেপকে একটি মাইলফলক খ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি ইউরোপজুড়ে একাডেমিক ধর্মতত্ত্বের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
 

জার্মানিতে উসমানী স্থাপত্যের শেহিতলিক জামে মসজিদ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জার্মানিতে উসমানী স্থাপত্যের শেহিতলিক জামে মসজিদ
সংগৃহীত ছবি

আধুনিক ইউরোপের বুকে ইসলামী স্থাপত্যের এক অনন্য সৌন্দর্যের নাম শেহিতলিক জামে মসজিদ। জার্মানির রাজধানী বার্লিনের নয়কোলন এলাকায় অবস্থিত এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি শুধু নামাজের স্থানই নয়, বরং ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ২০০৫ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া এই মসজিদটি পরিচালনা করছে তুর্কি ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স (DİTİB)। প্রখ্যাত স্থপতি হিলমি শেনাল্প উসমানীয় পুনর্জাগরণ শৈলীতে এর নকশা প্রণয়ন করেন। ১৬ ও ১৭ শতকের ধ্রুপদী আনাতোলিয়ান ও অটোমান স্থাপত্যের আদলে নির্মিত এই মসজিদটি আজ বার্লিনের অন্যতম দর্শনীয় ইসলামী স্থাপনা।

চারতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১,৫০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এর প্রধান গম্বুজের উচ্চতা ২১.৩ মিটার এবং আকাশছোঁয়া দুটি মিনারের প্রতিটির উচ্চতা ৩৭.১ মিটার, যা দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মসজিদের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যও সমানভাবে মুগ্ধকর। গম্বুজ ও দেয়ালজুড়ে সোনালি ক্যালিগ্রাফি, নীল ও লাল রঙের মনোরম অলংকরণ এবং রঙিন কাঁচের জানালা দিয়ে প্রবেশ করা প্রাকৃতিক আলোর সমন্বয়ে এক শান্ত, নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী শিল্পকলার নিখুঁত প্রকাশ এই মসজিদের প্রতিটি কোণেই ফুটে উঠেছে। শেহিতলিক মসজিদ শুধু একটি ইবাদতখানাই নয়; এর সঙ্গে রয়েছে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, তথ্য ও সভাকেন্দ্র এবং একটি ক্যাফে। ফলে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তধর্মীয় সংলাপের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে পাশের ঐতিহাসিক শেহিতলিক তুর্কি কবরস্থান থেকে। ১৮৬৬ সালে কূটনৈতিক কবরস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই স্থানে তুর্কি ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সমাধি রয়েছে। তবে সেখানে আর্মেনীয় গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত চেমাল আজমি ও বাহাত্তিন শাকিরের কবর থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

১৯৯৯ সালে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ছয় বছরের নির্মাণকাজ শেষে ২০০৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তবে ২০১০ সালে মসজিদটি পরপর কয়েকবার অগ্নিসংযোগের হামলার শিকার হয়। পরে ২০১১ সালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাকে দুই বছর নয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

শেহিতলিক জামে মসজিদ শুধু জার্মানিতে বসবাসরত মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্রই নয়; বরং ইউরোপে ইসলামী স্থাপত্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবেও সুপরিচিত। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থী প্রতিবছর এই মনোমুগ্ধকর স্থাপনাটি দেখতে বার্লিনে ছুটে আসেন।

ধন-সম্পদ কেন প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ধন-সম্পদ কেন প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়?
সংগৃহীত ছবি

মানুষের জীবনে সম্পদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। অর্থের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়, জীবনযাত্রা সহজ হয় এবং সমাজে নানা কল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব হয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন যুগে যুগে মানুষকে ভাবিয়েছে—অঢেল সম্পদ কি সত্যিই মানুষের হৃদয়ে শান্তি ও প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারে? বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর বহু ধনকুবের ব্যক্তি অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও মানসিক অশান্তি, উদ্বেগ, হতাশা ও একাকীত্বে ভুগেছেন। অন্যদিকে, সীমিত সম্পদের অধিকারী অসংখ্য মানুষ আল্লাহর প্রতি ঈমান, সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার কারণে প্রশান্ত জীবন কাটিয়েছেন।

তাই সম্পদ সুখের উৎস নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। প্রকৃত সুখ নিহিত রয়েছে ঈমান, তাকওয়া, আল্লাহর স্মরণ, সন্তুষ্টি এবং পরকালের সফলতার মধ্যে। তাই সম্পদকে লক্ষ্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই মুমিনের কর্তব্য। 

১. সম্পদ মানুষের অন্তরের প্রশান্তি নিশ্চিত করতে পারে না
অর্থ দিয়ে বাড়ি, গাড়ি, বিলাসিতা কেনা যায়; কিন্তু হৃদয়ের প্রশান্তি কেনা যায় না। মানুষের অন্তরের শান্তি একমাত্র আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)।
এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, প্রকৃত মানসিক শান্তি সম্পদে নয়; বরং আল্লাহর জিকির ও তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেই নিহিত।

২. সম্পদ দুনিয়াবি পরীক্ষার একটি মাধ্যম
অনেকে মনে করেন সম্পদ মানেই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। অথচ কোরআন জানিয়ে দেয়, সম্পদ ও সন্তান উভয়ই মানুষের জন্য পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তো কেবল পরীক্ষা; আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে মহাপুরস্কার।’ (সুরা : তাগাবুন, আয়াত : ১৫)
অর্থাৎ সম্পদ মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তীও করতে পারে, আবার গাফেলও করে দিতে পারে।

৩. সম্পদের মোহ মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়
যখন সম্পদই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে যায়, তখন মানুষ ইবাদত, নৈতিকতা ও পরকালের কথা ভুলে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের গাফেল করে রেখেছে।’ (সুরা : তাকাসুর, আয়াত : ১)
এ কারণেই সম্পদ কখনো কখনো সুখের পরিবর্তে অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা ও হিংসার জন্ম দেয়।

৪. সম্পদ মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না
মানুষ যত ধনীই হোক, মৃত্যু তার অনিবার্য পরিণতি। মৃত্যুর সময় ধন-সম্পদ কোনো উপকারে আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার সম্পদ আমার কোনো কাজে এল না। আমার ক্ষমতাও বিলুপ্ত হয়ে গেল।’ (সুরা : হাক্কাহ, আয়াত : ২৮–২৯)
এ আয়াত কিয়ামতের দিন ধন-সম্পদের অসহায়ত্বের এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

৫. সম্পদের লোভ মানুষের অশান্তি বাড়ায়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি আদম সন্তানের জন্য স্বর্ণে পরিপূর্ণ একটি উপত্যকা থাকে, তবে সে আরেকটি উপত্যকা কামনা করবে। আর তার মুখ মাটি ছাড়া অন্য কিছু পূর্ণ করবে না। তবে যে তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৩৯)
এ হাদিস প্রমাণ করে, সম্পদের লোভের কোনো শেষ নেই। লোভ যত বাড়ে, সুখ তত কমে।

৬. প্রকৃত ধনী সেই, যার অন্তর তৃপ্ত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ধন-সম্পদের আধিক্যই প্রকৃত ধন নয়; বরং প্রকৃত ধনী হলো অন্তরের প্রাচুর্যের অধিকারী ব্যক্তি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৫১)
অন্তরের তৃপ্তিই প্রকৃত সুখের ভিত্তি। যার অন্তরে সন্তুষ্টি আছে, সে অল্প সম্পদেও সুখী।

৭. সম্পদ মানুষকে অহংকারে নিমজ্জিত করতে পারে
কোরআনে কারূনের ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, সম্পদের অহংকার মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে। কারূন তার বিপুল ধন-সম্পদের কারণে অহংকারী হয়ে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে তার ধন-সম্পদসহ ভূগর্ভে ধসিয়ে দেন।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৬–৮২)
এ ঘটনা প্রমাণ করে, সম্পদ যদি বিনয় ও কৃতজ্ঞতা না বাড়ায়, তবে তা মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।

৮. আল্লাহর সন্তুষ্টিই প্রকৃত সুখের উৎস
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম করবে—পুরুষ হোক বা নারী—আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)
এখানে ‘পবিত্র জীবন’ বলতে অন্তরের প্রশান্তি, সন্তুষ্টি, বরকতপূর্ণ জীবন এবং পরকালের সফলতা বোঝানো হয়েছে।

সম্পদকে প্রকৃত সুখের মাধ্যম বানানোর উপায় 

১. হালাল উপায়ে উপার্জন করা।
২. জাকাত ও সদকা আদায় করা।
৩. আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের হক আদায় করা।
৪. অপচয় ও অহংকার থেকে বিরত থাকা।
৫. সম্পদের ওপর নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
৬. দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের সফলতাকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানানো।

শেষকথা, ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ নিজে ভালো বা মন্দ নয়; বরং এর ব্যবহারই মানুষের সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে। অর্থ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে পারে, কিন্তু অন্তরের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। প্রকৃত সুখ কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স, প্রাসাদ কিংবা বিলাসবহুল জীবনে নয়; বরং আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর স্মরণ, তাকওয়া, সন্তুষ্টি, কৃতজ্ঞতা এবং সৎকর্মময় জীবনের মধ্যেই নিহিত। তাই একজন মুমিনের উচিত সম্পদকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য না বানিয়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি আমানত হিসেবে ব্যবহার করা। কারণ দুনিয়ার সম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিই মানুষকে চিরস্থায়ী সুখ ও সফলতার ঠিকানায় পৌঁছে দেবে। ইনশাআল্লাহ।  

আখেরাতে সফল হওয়ার পাঁচ উপায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আখেরাতে সফল হওয়ার পাঁচ উপায়
সংগৃহীত ছবি

জীবনকে সুন্দর, সফল ও বরকতময় করতে মানুষ নানা উপায় খুঁজে বেড়ায়। অথচ ইসলাম আমাদের এমন কিছু মৌলিক নীতিমালা শিক্ষা দিয়েছে, যা মেনে চললে দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় জগতেই কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে চলতে পারলে মানুষের ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন এবং পরকাল—সবই আলোকিত হয়ে ওঠে। 

১. লোকচক্ষুর আড়ালে নিজের জীবনকে সুন্দর করা
মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গোপনে নিজেকে সংশোধন করা উচিত। যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে ভয় করে, পাপ থেকে বেঁচে থাকে এবং গোপনে নেক আমল করে, আল্লাহ তার প্রকাশ্য জীবনকে সম্মানিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের চেহারা বা দেহের দিকে তাকান না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

২. আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা
যখন একজন বান্দা তার রবের সঙ্গে সম্পর্ককে মজবুত করে—নামাজ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও তাকওয়ার মাধ্যমে—তখন আল্লাহ মানুষের হৃদয়ে তার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কও সহজ করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা : তালাক,  আয়াত ২–৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি আল্লাহর বিধান সংরক্ষণ কর; আল্লাহ তোমাকে সংরক্ষণ করবেন।’ (তিরমিজি : হাদিস : ২৫১৬)

৩. আখেরাতের প্রস্তুতি নেয়া 
যে ব্যক্তি আখেরাতকে তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানায়, আল্লাহ তার দুনিয়ার প্রয়োজনগুলোও সহজ করে দেন। কারণ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, আর আখেরাতই চিরস্থায়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আখেরাতই উত্তম এবং অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার প্রধান চিন্তা আখেরাত, আল্লাহ তার অন্তরে প্রাচুর্য দান করেন, তার কাজগুলো গুছিয়ে দেন এবং দুনিয়া তার কাছে অনুগত হয়ে আসে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৬৫)

৪. আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনকে প্রাধান্য দেয়া
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যদি দুনিয়ার কিছু স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়, তবে সেটিই প্রকৃত লাভ। কারণ দুনিয়ার ক্ষতি পূরণ হতে পারে, কিন্তু আখেরাতের ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে; আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা চিরস্থায়ী।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৬)

৫. আখেরাতকে মূল লক্ষ্য বানানো 
দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য ইমান, সততা ও নেক আমল বিসর্জন দেওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে সাময়িক সুখের চেয়ে চিরস্থায়ী মুক্তিকে বেছে নেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন তো অতি সামান্য ভোগসামগ্রী।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৩৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৫৬)

জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য বাহ্যিক চাকচিক্যে নয়; বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক, আন্তরিক ইবাদত, বিশুদ্ধ চরিত্র এবং আখেরাতমুখী জীবনবোধে। যে ব্যক্তি গোপনে নিজেকে সংশোধন করে, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভের চেয়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী সফলতাকে প্রাধান্য দেয়, সে-ই প্রকৃত সফল মানুষ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই পাঁচটি উপায় আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।