মৌসুমী ও নিম্ন চাপের প্রভাবে মধ্যরাতের ভারী বর্ষণে ফের ডুবল মহানগরী খুলনাসহ আশপাশের এলাকা। বৃষ্টি থেমে গেলেও বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন এলাকা জলবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বুধবার দুপুরে হালকা বৃষ্টি হলেও রাত দেড়টার পর তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। ঘন্টা খানেকের বৃষ্টিতে সড়ক ছাাপিয়ে বৃষ্টির পানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কার্যালয়, প্রতিষ্ঠান, আবসিক এলাকার বাসাবাড়িতে ঢুকে যায়। সকালে পরীক্ষার জন্য বেড়িয়ে সবচেয়ে বিড়াম্বনায় পড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধ অবস্থা দেখা গেছে। নগরীর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, বুধবার দুপরের পর থেকে হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও রাত দেড়টার পর ঘন্টাব্যাপী টানা বর্ষা শুরু হয়। মুর্হূতেই নগরীর টুটপাড়া, নিরালা আবাসিক হাজী মেহের আলী রোড, দোলখোলা, নতুন বাাজার, বাস্তুহারা কলোনি, মুজগুন্নী, বয়রা, দৌলতপুর, খালিশপুরের নিম্মাঞ্চল, শিপইয়ার্ড, লবণচরা, বাগমারাসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি বাসা-বাড়িতে প্রবেশ করে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্তরত টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ জেগে দেখি- বাসার মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। ভারী বৃষ্টি হলে আর কথা নেই। অল্প সময়ে বৃষ্টিতেই এখন পানি জমে যাচ্ছে।’
নগরীর বয়রা বাজার এলাকার বাসিন্দা পলাশ দাস বলেন, মুজগুন্নি স্কুল, শিক্ষা অফিসসহ আশপাশের এলাকা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সিটি করপোরেশনের চেষ্টা কাজে আসছে না। রূপসা, ভৈরব, ময়ূর নদ উঁচু হয়ে গেছে। তাই পানি নামতে দেরী হচ্ছে।’
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সর্বশেষ খুলনায় রেকর্ড ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি। আরো কয়েকদিন বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে।
খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই নগরীতে বিড়ম্বনা হচ্ছে। নদী-খাল, ড্রেনগুলো দখলমুক্ত ও পরিকল্পিত কাজ করা জরুরি। না হলে খুলনা শহরে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ভারী বর্ষণে পুরো নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এদিন গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৭৫ মিলিমিটার।




