• ই-পেপার

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদার

রিয়াদ এয়ারের টিকিট বিক্রি শুরু, ফ্লাইট শুরু ৭ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
রিয়াদ এয়ারের টিকিট বিক্রি শুরু, ফ্লাইট শুরু ৭ আগস্ট

আগামী ৭ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লইট শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রিয়াদ এয়ার’। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

সৌদি আরবকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং যাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই রিয়াদ এয়ারের মূল লক্ষ্য। রিয়াদ এয়ারের এই নতুন সার্ভিস ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে। বাণিজ্য ও অবকাশ, উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আগামী ৭ আগস্ট থেকে রিয়াদ এয়ারের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রুটে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। রিয়াদ থেকে ঢাকা (স্থানীয় সময়ে)–রিয়াদ থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে রিয়াদ (স্থানীয় সময়ে)–ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং রিয়াদ পৌঁছাবে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার একটি মজবুত ভিত্তি রয়েছে। এই শক্তিশালী অংশীদারি এখন ভ্রমণ ও অবকাশের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে এবং ঢাকা-রিয়াদ রুটে এই প্রিমিয়াম সার্ভিস সেই যাত্রাকে আরো দৃঢ় করে তুলবে।

সৌদি আরবের রাজধানী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রিয়াদ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ, আধুনিক অভিজ্ঞতা, বিনোদনকেন্দ্র এবং প্রগতিশীল অর্থনীতির এক নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে। সরাসরি যাতায়াত করতে পারলে বাংলাদেশি যাত্রীরা আন্তর্জাতিক মানের লাইফস্টাইল ইভেন্ট, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষার সুযোগ ইত্যাদি সহজেই উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবেও কাজ করবে। ফলে রিয়াদ এয়ারের নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার পার্টনারশিপের মাধ্যমে ঢাকার যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবে।

রিয়াদ এয়ার অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা পছন্দের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে। যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘স্ফিয়ার’ এর ‘ফাউন্ডিং মেম্বার’ হতে পারবেন এবং প্রথম ফ্লাইট থেকেই সেরা অফারের গ্যারান্টি, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধাসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ পেতে পারেন।

রিয়াদ এয়ারের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে ‘বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি’ এই চারটি ক্লাস রয়েছে, যেখানে যাত্রীরা আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিটি ক্লাসে প্রতিটি সিটের সঙ্গেই আছে ব্লুটুথ অডিও ও হেডফোন জ্যাক। বিজনেস এলিট ও বিজনেস ক্লাসে আছে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড আসন (১-২-১ বিন্যাস), এসি পাওয়ার, ইউএসবি-সি ও ইউএসবি-এ চার্জিং, হাই-ফিডেলিটি সাউন্ড সিস্টেম, যা সরাসরি হেডরেস্টে সাউন্ড পোঁছাবে। প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (২-৩-২ বিন্যাস), প্রাইভেসি হেডরেস্ট উইং, বাড়তি স্টোরেজ, চারটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট। ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (৩-৩-৩ বিন্যাস), সিক্স-ওয়ে অ্যাডজাস্টেবল হেডরেস্ট, দুটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট। আরো আছে, প্যানাসোনিক অ্যাভিওনিক্সের অ্যাস্ট্রোভা সিস্টেম, যেখানে যাত্রীরা ৫০০ এরও বেশি মুভি, ৬০০ এরও বেশি টিভি সিরিজ এবং ১০০০টি অডিও অ্যালবাম ও প্লে-লিস্ট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সকল যাত্রীরা পাবেন সৌদি-নির্মিত কায়ানি ইন-ফ্লাইট প্রোডাক্টস। শিশুদেরদের জন্য থাকবে বেস্পোক ডিজনি অ্যামেনিটি কিটস।

এই রুটের অন্যতম আকর্ষণ ‘স্ফিয়ার’ লয়্যালটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের বিশেষ সুবিধাগুলো হল- পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো তারিখ থাকবে না, বন্ধু বা পরিবারের যে কারো সঙ্গে পয়েন্ট শেয়ার, ফ্লাইটে ফ্রি ওয়াই-ফাই, গেমিফাইড চ্যালেঞ্জ ও লিডারবোর্ড, নতুন রুটে দ্রুত অ্যাক্সেসসহ ‘দ্য ফাউন্ডার্স’ ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

ঐতিহ্য থেকে ফ্যাশনে, শীতলপাটির নতুন যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহ্য থেকে ফ্যাশনে, শীতলপাটির নতুন যাত্রা
ছবি: কালের কণ্ঠ

শীতলপাটি দেখেছেন অনেকেই। তবে শীতলপাটির বুনন আর মোটিফে তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, টেবিল ল্যাম্প, ফুলদানি কিংবা মগ—এসব কি কখনো দেখেছেন? বাংলার ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে সমকালীন শিল্প, ফ্যাশন ও জীবনযাপনের উপকরণের সঙ্গে নতুনভাবে উপস্থাপনের এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখা গেল রাজধানীর ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে।

ফ্যাশন ডিজাইনার ও শিল্পী এম ডি ফয়সালের পরিকল্পনা ও নকশায় তৈরি শীতলপাটি-অনুপ্রাণিত পোশাক ও নানা নান্দনিক পণ্যের একক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে সেখানে। প্রদর্শনীতে শীতলপাটির ঐতিহ্যবাহী বুননকে আধুনিক নকশার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে পোশাক, আলোকসজ্জার সামগ্রী, ফুলদানি, মগসহ বিভিন্ন ব্যবহারিক ও শৌখিন পণ্য।

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে সৃজনশীলতার অনুসন্ধানে কাজ করে চলেছেন এম ডি ফয়সাল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও নিরীক্ষামূলক কাজ করে আসছেন তিনি। শীতলপাটির বুনন, নকশা, ঐতিহ্য ও শিল্পভাষাকে সমকালীন ফ্যাশন এবং ব্যবহারিক নকশার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টাই তার সৃজনকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার দীর্ঘ সৃজনযাত্রার নির্বাচিত কাজ নিয়েই বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শুরু হয়েছে একক প্রদর্শনী।

২০১৩

প্রদর্শনীর সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শিল্পীর মা মমতাজ সুলতানার হাতে উদ্বোধন। মায়ের হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় প্রদর্শনীর যাত্রা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানান ফ্যাশন ডিজাইনার ও গবেষক চন্দ্রশেখর সাহা, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফারুক আহমেদ মোল্লা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী ও গবেষক শাওন আকন্দ বলেন, শীতলপাটি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ। এটি আমাদের নিজস্ব শিল্প-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এম ডি ফয়সাল শীতলপাটির মোটিফ ও নকশাকে সমকালীন নানা পণ্যে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করেছেন। তার নির্মিত কাজগুলো নান্দনিকতার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, আবহমান বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকশিল্প শীতলপাটি। মুর্তা গাছের বেতি দিয়ে বিশেষ বুননকৌশলে তৈরি এই পাটি শুধু দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য, নান্দনিক নকশা এবং টেকসই গুণের কারণে দেশে-বিদেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শিল্পী এম ডি ফয়সাল জানান, আধুনিক যুগের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের নানা উপকরণে শীতলপাটির নকশা ও বুননের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই তার এই দীর্ঘ গবেষণা। তিনি বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশীয় লোকশিল্পের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আরো বাড়বে।

প্রদর্শনীতে শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কারিগর ও শিল্পীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয় শীতলপাটি তৈরির ঐতিহ্যবাহী বুননপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ। গ্যালারিজুড়ে সাজানো বাহারি নকশার শীতলপাটি এবং শীতলপাটি-অনুপ্রাণিত নান্দনিক পণ্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।

প্রদর্শনীটি চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 

২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ২৯৬, মামলা ৪৬

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ২৯৬, মামলা ৪৬

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ২৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ৪৬টি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনায় ২২, লালবাগে ২১, ওয়ারীতে ৫২, মতিঝিলে ৩৬, তেজগাঁওয়ে ৫৪, মিরপুরে ৪১, গুলশানে ২১, উত্তরায় ৪২ ও গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে ১৩২ কেজি গাঁজা, ১৪ হাজার ৭৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ গ্রাম হেরোইন, একটি মোটরসাইকেল, একটি চাকু, দুটি এন্টিকাটার, একটি অটোরিকশা, একটি সিএনজি, ১৩ টি মোবাইল ফোন, একটি জিপ গাড়ি, একটি চাবি, একটি ককটেল ও পেট্রোল ভরা সাতটি প্লাষ্টিকের উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়| গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

৬০ ফিটে রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬০ ফিটে রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট সড়কে অবস্থিত কলাপাতা নামের একটি রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশে গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে আগুন পাশের একটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার (৮ জুন) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলমান।