• ই-পেপার

রিয়াদ এয়ারের টিকিট বিক্রি শুরু, ফ্লাইট শুরু ৭ আগস্ট

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদার

পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট সচেতনতামূলক উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুলে আয়োজিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্নতা একটি অভ্যাস, আর এই অভ্যাস গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা সম্ভব। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই বিদ্যালয় থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরিদা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে যে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে বর্জ্য পৃথক করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং লাল, নীল ও কালো রঙের বিনে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং বিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক স্কুলের ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি টিমের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে গঠিত ক্লিন স্কুল টিম নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট, বারান্দা, খেলার মাঠ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা তদারকি করবে। পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণ, ডেঙ্গুর লার্ভা বিস্তার রোধে সচেতনতা সৃষ্টি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্লিন স্কুল টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, পুরো এলাকাই পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ক্লিন স্কুল টিমের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালু এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

ঐতিহ্য থেকে ফ্যাশনে, শীতলপাটির নতুন যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐতিহ্য থেকে ফ্যাশনে, শীতলপাটির নতুন যাত্রা
ছবি: কালের কণ্ঠ

শীতলপাটি দেখেছেন অনেকেই। তবে শীতলপাটির বুনন আর মোটিফে তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবি, টেবিল ল্যাম্প, ফুলদানি কিংবা মগ—এসব কি কখনো দেখেছেন? বাংলার ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে সমকালীন শিল্প, ফ্যাশন ও জীবনযাপনের উপকরণের সঙ্গে নতুনভাবে উপস্থাপনের এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখা গেল রাজধানীর ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে।

ফ্যাশন ডিজাইনার ও শিল্পী এম ডি ফয়সালের পরিকল্পনা ও নকশায় তৈরি শীতলপাটি-অনুপ্রাণিত পোশাক ও নানা নান্দনিক পণ্যের একক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে সেখানে। প্রদর্শনীতে শীতলপাটির ঐতিহ্যবাহী বুননকে আধুনিক নকশার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে পোশাক, আলোকসজ্জার সামগ্রী, ফুলদানি, মগসহ বিভিন্ন ব্যবহারিক ও শৌখিন পণ্য।

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে সৃজনশীলতার অনুসন্ধানে কাজ করে চলেছেন এম ডি ফয়সাল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও নিরীক্ষামূলক কাজ করে আসছেন তিনি। শীতলপাটির বুনন, নকশা, ঐতিহ্য ও শিল্পভাষাকে সমকালীন ফ্যাশন এবং ব্যবহারিক নকশার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টাই তার সৃজনকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার দীর্ঘ সৃজনযাত্রার নির্বাচিত কাজ নিয়েই বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শুরু হয়েছে একক প্রদর্শনী।

২০১৩

প্রদর্শনীর সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শিল্পীর মা মমতাজ সুলতানার হাতে উদ্বোধন। মায়ের হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় প্রদর্শনীর যাত্রা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানান ফ্যাশন ডিজাইনার ও গবেষক চন্দ্রশেখর সাহা, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ফারুক আহমেদ মোল্লা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী ও গবেষক শাওন আকন্দ বলেন, শীতলপাটি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ। এটি আমাদের নিজস্ব শিল্প-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এম ডি ফয়সাল শীতলপাটির মোটিফ ও নকশাকে সমকালীন নানা পণ্যে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করেছেন। তার নির্মিত কাজগুলো নান্দনিকতার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্যকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

আয়োজকদের ভাষ্য, আবহমান বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকশিল্প শীতলপাটি। মুর্তা গাছের বেতি দিয়ে বিশেষ বুননকৌশলে তৈরি এই পাটি শুধু দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য, নান্দনিক নকশা এবং টেকসই গুণের কারণে দেশে-বিদেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শিল্পী এম ডি ফয়সাল জানান, আধুনিক যুগের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের নানা উপকরণে শীতলপাটির নকশা ও বুননের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই তার এই দীর্ঘ গবেষণা। তিনি বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশীয় লোকশিল্পের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আরো বাড়বে।

প্রদর্শনীতে শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কারিগর ও শিল্পীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয় শীতলপাটি তৈরির ঐতিহ্যবাহী বুননপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ। গ্যালারিজুড়ে সাজানো বাহারি নকশার শীতলপাটি এবং শীতলপাটি-অনুপ্রাণিত নান্দনিক পণ্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।

প্রদর্শনীটি চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 

২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ২৯৬, মামলা ৪৬

অনলাইন ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ২৯৬, মামলা ৪৬

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ২৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ৪৬টি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনায় ২২, লালবাগে ২১, ওয়ারীতে ৫২, মতিঝিলে ৩৬, তেজগাঁওয়ে ৫৪, মিরপুরে ৪১, গুলশানে ২১, উত্তরায় ৪২ ও গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে ১৩২ কেজি গাঁজা, ১৪ হাজার ৭৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ গ্রাম হেরোইন, একটি মোটরসাইকেল, একটি চাকু, দুটি এন্টিকাটার, একটি অটোরিকশা, একটি সিএনজি, ১৩ টি মোবাইল ফোন, একটি জিপ গাড়ি, একটি চাবি, একটি ককটেল ও পেট্রোল ভরা সাতটি প্লাষ্টিকের উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়| গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

৬০ ফিটে রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬০ ফিটে রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট সড়কে অবস্থিত কলাপাতা নামের একটি রেস্টুরেন্টের পেছনের অংশে গ্যাস বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে আগুন পাশের একটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার (৮ জুন) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলমান।