কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু প্রযুক্তির জগতে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও নিজেদের প্রভাব বাড়াতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে এআই কম্পানিগুলো। তাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে এআই নিয়ে যেসব আইন ও নীতিমালা তৈরি হবে, সেগুলো প্রণয়নে ভূমিকা রাখা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে এআই-সংশ্লিষ্ট দুটি বড় রাজনৈতিক তহবিল বা সুপার পিএসি ইতিমধ্যে ২০ কোটি (২০০ মিলিয়ন) ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত ৪৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের ৪০ জন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে।
কেন এত অর্থ ব্যয় করছে এআই কম্পানিগুলো?
এআই প্রযুক্তি দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসা, শিল্প ও সরকারি সেবাসহ প্রায় সব খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে গোপনীয়তা, ভুয়া তথ্য, চাকরির ভবিষ্যৎ এবং শক্তিশালী এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন তৈরির আলোচনা চলছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চায়, এসব আইন যেন উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে না দেয় এবং ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে।
আই
কারা অর্থ দিচ্ছে?
সবচেয়ে বড় এআইভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন লিডিং দ্য ফিউচার ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ১২৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এই তহবিলে অর্থ দিয়েছেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান অ্যান্ড্রিসেন হোরোউইটজ, ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান, প্যালান্টিরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জো লনসডেল, এসভি অ্যাঞ্জেলের প্রতিষ্ঠাতা রন কনওয়ে এবং এআই প্রতিষ্ঠান পারপ্লেক্সিটি।
অন্যদিকে পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন জুনের শেষ পর্যন্ত ৮০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে অ্যানথ্রোপিক ২০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। তবে এই অর্থ রাজনৈতিক প্রচারের জন্য নয়, বরং এআই নীতিমালা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির কাজে ব্যয় করা হবে।
যাদের সমর্থন, তারাই এগিয়ে
এআই-সমর্থিত সুপার পিএসিগুলোর প্রভাব ইতিমধ্যেই নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে।
লিডিং দ্য ফিউচার যেসব ২৮ জন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের মধ্যে ২৫ জনই প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন যেসব প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই জয় পেয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী রাজনীতিতে এআই শিল্পের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে।
আই
কী ধরনের আইন চায় তারা?
দুটি সংগঠনই এআই নিয়ন্ত্রণে আইন চাইলেও, সেই আইনের ধরন নিয়ে তাদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়।
লিডিং দ্য ফিউচার চায়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণে একটি অভিন্ন জাতীয় আইন থাকুক, যাতে সব অঙ্গরাজ্যে একই নিয়ম কার্যকর হয়।
অন্যদিকে পাবলিক ফার্স্ট অ্যাকশন মনে করে, অঙ্গরাজ্যগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আইন করার সুযোগ পাবে। তবে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল আইন হলে সেটিকে তারা সমর্থন করবে।
যেখানে উভয়ের মত এক
দুটি সংগঠনই মনে করে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।
নতুন শক্তিশালী রাজনৈতিক লবি
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর আগে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত যেভাবে নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নিজেদের পক্ষে আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলেছিল, এখন একই পথ অনুসরণ করছে এআই শিল্প।
তাদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এআই-সংক্রান্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হবে, সেগুলোর পেছনে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এই রাজনৈতিক বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।






