• ই-পেপার

এআই খাতে ‘বুদবুদের’ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করল তাইওয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের আরো ৪ শহরে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালু করছে ওয়েমো

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের আরো ৪ শহরে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালু করছে ওয়েমো
ছবিঃ রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি (চালকবিহীন বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় গাড়ি) সেবা আরো সম্প্রসারণ করছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের স্বচালিত গাড়ি বিভাগ ওয়েমো। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির আরো চারটি শহরে এই সেবা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (৮জুলাই) সিএনবিসির প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

নতুন শহরগুলো হলো সান ডিয়েগো, লাস ভেগাস, ট্যাম্পা (ফ্লোরিডা) এবং ডেনভার। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। পরে ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের জন্যও এটি উন্মুক্ত করা হবে।

ওয়েমো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টির বেশি শহরে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে এ খাতে বড় অবস্থান তৈরি করেছে। তবে টেসলা ও জুকস-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানও ধীরে ধীরে নতুন শহরে তাদের সেবা সম্প্রসারণ করছে।

মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ওয়েমোর বহরে প্রায় ৪ হাজার চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি রয়েছে। এসব গাড়িতে কোম্পানির পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে সম্প্রসারণের পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। সম্প্রতি ভারি বৃষ্টির সময় কয়েকটি গাড়ি পানিতে আটকে পড়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের সময় সান ফ্রান্সিসকোতে দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে কয়েকটি রোবোট্যাক্সির ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। একটি গাড়িকে আতশবাজির দিকেও যেতে দেখা যায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়েমো অ্যালফাবেটসহ অন্যান্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করে। এ বছরের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রথম আন্তর্জাতিক রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

ওয়েমো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের চালকবিহীন গাড়িতে ২ কোটির বেশি যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ যাত্রা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রে এসকে হাইনিক্সের শেয়ার বিক্রিতে ৭ গুণের বেশি চাহিদা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে এসকে হাইনিক্সের শেয়ার বিক্রিতে ৭ গুণের বেশি চাহিদা
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ার বিক্রিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। কম্পানিটির ২৮ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির জন্য বরাদ্দের তুলনায় সাত গুণের বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়। 

এই অর্থ দিয়ে এসকে হাইনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে নতুন কারখানা ও উৎপাদন সরঞ্জামে বিনিয়োগ করবে। গত মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড ৮৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের আইপিওর পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ হতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত হলে এসকে হাইনিক্সের বাজারমূল্য প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন প্রতিষ্ঠান মাইক্রনের কাছাকাছি যেতে পারে। বর্তমানে মাইক্রনের মূল্যায়ন এসকে হাইনিক্সের তুলনায় কিছুটা বেশি।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপের চাহিদা বেড়েছে। এই চিপ উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সম্প্রতি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, এসকে হাইনিক্স ভবিষ্যতেও এনভিডিয়ার সবচেয়ে বড় মেমোরি চিপ সরবরাহকারী থাকবে। তিনি আরো জানান, শক্তিশালী চাহিদার কারণে আগামী কয়েক বছর মেমোরি চিপের সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর কম্পানিগুলোর শেয়ারের গতি কিছুটা কমেছে, তবুও গত এক বছরে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৬৮০ শতাংশ বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহে শেয়ারটির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমলেও বৃহস্পতিবার তা আবার ৫ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শেষ করেছে।

কম্পানিটি বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করবে। এবং ১০ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাসডাক শেয়ারবাজারে এর এডিআর লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে কম্পানিটির শেয়ারের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, করপোরেট সুশাসন নিয়ে উদ্বেগের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক কম্পানির মূল্যায়ন এখনো তুলনামূলক কম থাকে।

ব্রডকমের সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের চিপ চুক্তি করল অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
ব্রডকমের সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের চিপ চুক্তি করল অ্যাপল
ছবি : রয়টার্স

অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্রডকমের সঙ্গে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি চিপ সরবরাহ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ব্রডকমের একটি কারখানাও সম্প্রসারণ করা হবে।

বুধবার (৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে সোমবার ব্রডকম জানায়, ২০৩১ সাল পর্যন্ত অ্যাপলের কাছে চিপ সরবরাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি হয়েছে।

অ্যাপল জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় এফবার ফিল্টার নামে বিশেষ ধরনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি চিপ তৈরি করা হবে। এসব চিপ আইফোনসহ অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তারবিহীন (ওয়্যারলেস) সংযোগ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হবে। ২০২৩ সাল থেকে এ প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে অ্যাপল ও ব্রডকম।

চুক্তির অংশ হিসেবে ব্রডকম কলোরাডোর ফোর্ট কলিন্স শহরের কারখানা সম্প্রসারণে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এই কারখানায় অন্তত ১৫ বিলিয়ন চিপ উৎপাদন করা হবে।

অ্যাপল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আরও বেশি চিপ সংগ্রহের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক বলেন, ফোর্ট কলিন্সে তৈরি উন্নতমানের এই চিপগুলো অ্যাপল ডিভাইসের কর্মক্ষমতা ও সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বাড়াতে পেরে তারা গর্বিত।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের প্রতি অ্যাপল কৃতজ্ঞ।

আগামী বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে রেবেলিয়নস

অনলাইন ডেস্ক
আগামী বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে রেবেলিয়নস
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা স্টার্টআপ রেবেলিয়নস আগামী বছরের প্রথমার্ধে দেশটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান রেবেলিয়নসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পার্ক সাংহিউন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া। এরপর আমেরিকান ডিপোজিটারি রিসিপ্ট (এডিআর)-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে পারেন।

পার্ক জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আইপিওর সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হবে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে আসবে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি এআই খাত নিয়ে উচ্ছ্বাস কিছুটা কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে চিপ কম্পানিগুলোর শেয়ারের দামেও চাপ দেখা যায়। তবে এ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রেবেলিয়নস।

চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিনিয়োগ হিসেবে ৪০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে। এতে কম্পানিটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার। এটি দেখায় এনভিডিয়ার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে কম খরচে এআই চিপ তৈরি করা কম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

সর্বশেষ বিনিয়োগ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ন্যাশনাল গ্রোথ ফান্ড ২৫ হাজার কোটি ওন (প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে। এটি সরকারের ‘কে-এনভিডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় প্রথম সরাসরি বিনিয়োগ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশ্বমানের একটি দক্ষিণ কোরীয় চিপ কম্পানি গড়ে তোলা।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত রেবেলিয়নস মূলত এআই ইনফারেন্সের জন্য নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট ডিজাইন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ায় হলেও যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে।

উল্লেখ্য রেবেলিয়নসের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরামকোর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ওয়াদ ভেঞ্চারস, স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং এসকে টেলিকম। আর কম্পানিটির আইপিও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জেপি মরগান।