• ই-পেপার

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠাবে সরকার

পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে বাড়ি দেবে সরকার : দুর্যোগমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে বাড়ি দেবে সরকার : দুর্যোগমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

প্রতি বছর পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ের নিচে ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সরকারি এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২২তম দিন ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

মন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ধসের কারণে বেশকিছু প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঁচ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙ্গামাটিতে একজন এবং বান্দরবানে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ওই এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙ্গামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে আশ্রিত লোকজনের জন্য সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিশু খাদ্য এবং তিনবেলা খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার জন্য মাঠপর্যায়ে মাইকিং অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রী আরো জানান, গত ৭ জুলাই দুর্গত এলাকার সাহায্যের জন্য প্রথম দফায় প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির বিবেচনায় মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে চট্টগ্রামে ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২০ লাখ টাকা এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব ত্রাণ ভান্ডার থেকে প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মন্ত্রী বলেন, সংসদ অধিবেশন মূলতবি থাকার সুযোগে পাহাড়ি অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি এবং প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। পাহাড়ের নিচে বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রতি বছর যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকারের হাতে অনেক পরিত্যক্ত খাস জমি এবং আবাসন মন্ত্রণালয়ের জমি রয়েছে। সংসদ সদস্যরা যদি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করে ভূমিকা রাখেন, তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সেসব নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন ও বাড়ি বানিয়ে দিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভবিষ্যতে যাতে পাহাড় ধসে আর একটিও প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এফটিএ আলোচনায় প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দূর করতে হবে অশুল্ক বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এফটিএ আলোচনায় প্রস্তুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দূর করতে হবে অশুল্ক বাধা
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখতে অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর, ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, বিদ্যমান অশুল্ক বাধা অপসারণ এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ নিয়ে সম্ভাব্য অগ্রগতির বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইইউর উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরো শক্তিশালী হয়।

তিনি বলেন, ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ যে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষম, সে বার্তা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, জ্বালানি সংকটের সমাধান, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন

অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ ছড়িয়েছে, তাতে এ পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে লেবাননে পাঁচজন, সৌদি আরবে তিনজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুজন, ইরাকে একজন এবং বাহরাইন একজন মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মধ্যে একজনের লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে। ৯ জনের লাশ দেশে আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে লাশ দাফন বাবদ বিমানবন্দর থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধে নিহত হওয়ায় বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ জন নারী ও ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ হতে প্রবাসী কর্মী বিভিন্ন সময়ে ফেরত আনা হয়।

২০২টি গন্তব্যে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
২০২টি গন্তব্যে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি করেছে। এ সময় দেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে আরো রয়েছে- স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, ভারত, ইতালি, কানাডা, জাপান, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, বেলজিয়াম, চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও রাশিয়া।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়কালে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল বোনা পোশাক (ওভেন গার্মেন্টস), নিট পোশাক, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশলজাত (ইঞ্জিনিয়ারিং) পণ্য।

বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।

তিনি আরো বলেন, অর্থবছরটিতে এসব পণ্য থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।