• ই-পেপার

সিরিজ বাঁচাতে ২৪৮ রান করতে হবে বাংলাদেশকে

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ বিতর্কে জল ঢেলে দিলেন ফিফার প্রধান রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ বিতর্কে জল ঢেলে দিলেন ফিফার প্রধান রেফারি
ফিফার প্রধান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত কামব্যাকে ম্যাচ জয় ছাপিয়া আলোচনায় রেফারিং বিতর্ক। ম্যাচ  ফিক্সিংসহ রেফারিদের দায়িত্ব পালনে উঠেছে পক্ষপাতিত্বের মত গুরুতর অভিযোগ। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে উঠা বিতর্কে কড়া বিবৃতি দিলেন ফিফার প্রধান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সব বিতর্কে জল ঢেলে স্পষ্ট জানালেন,  ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনও জায়গা ফুটবলে নেই।

ইনসাইড ফিফা ডট কমে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের সবগুলো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই রেফারি। প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচে রেফারি কোনো ভুল করেননি।

বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমনটা হলে রেফারি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি হুমকি আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। এটা একেবারেই অনুচিত বলে যোগ করেন তিনি।

একইসঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর হস্তক্ষেপ তত্ত্বও খারিজ করেছেন তিনি। ইতালীয় কিংবদন্তির জোরালো দাবি, ‌ফিফার রেফারিং কারও দ্বারা প্রভাবিত হয় না। খোদ ফিফা প্রেসিডেন্টও প্রভাব খাটান না। তিনি সবসময় আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন।'

টুর্নামেন্ট চলাকালীন নির্দিষ্ট কোনও ঘটনা নিয়ে সাধারণত মুখ খোলে না ফিফা। তবে মিসর-ম্যাচের বিতর্ক জমেছে গোটা ফুটবল বিশ্ব। বাধ্য হয়েই নিয়ম ব্যাখ্যার পথে হেঁটেছেন কোলিনা।

মূলত গোল হওয়ার আগে আক্রমণের সময় বল দখলের পর্ব নিয়ে বিস্তর বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই বিষয়ে ফিফার প্রধান রেফারির মন্তব্য, ‌‘প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিএআর গোটা আক্রমণ পর্বটি খতিয়ে দেখে। গোল হওয়ার আগে বিল্ড-আপের সময় যদি কোনও ফাউল হয় এবং তার প্রভাব পড়ে, তবে ভিএআর অন-ফিল্ড রেফারিকে তা রিভিউয়ের নির্দেশ দেয়!’

প্রসঙ্গত, গোলের ঠিক কতক্ষণ আগে বা কত দূরে ফাউল হয়েছে, নিয়মে তার কোনও নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের সীমা বাঁধা নেই।

মোস্তফা জিকোর একটি কাঙ্ক্ষিত গোল বাতিল করেছিল ভিএআর। সেই প্রসঙ্গ টেনে ফিফার প্রধান রেফারির স্পষ্ট ব্যাখ্যা, ‘মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারোয়ান আতিয়া পরিষ্কারভাবে আর্জেন্তিনার ৬ নম্বর লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পা মাড়িয়ে দেয়। আমাদের মতে ফাউল ফাউলই।’

মাঠে রেফারি যদি সেই ফাউল দেখতে না পান, ভিএআর অনায়াসে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ফাউলটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হলেও নিয়ম অনুযায়ী তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এই যুক্তিতে বাতিল হয় মিশরের গোল। রেফারি একদম নিয়ম মেনে সঠিক বাঁশি বাজান বলে জানান তিনি।

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি পাননি মোহাম্মদ সালাহ। এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখিয়েছে ফারাও শিবির। কিন্তু কোলিনার চোখে এই সিদ্ধান্তটিও একশো শতাংশ নির্ভুল। বিল্ড-আপে ফাউল না হলে ভিএআর রেফারিকে সেই মতোই পরামর্শ দেয় উল্লেখ করে কোলিনা বলেন, ‘বিপক্ষের কারো পায়ে মানে ফাউল। কিন্তু ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং তারপর ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মে শারীরিক সংস্পর্শ হয়, তবে তা ফাউল নয়।’

সালাহ এবং হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে ঠিক এটাই ঘটেছিল। রেফারি এবং ভিএআর একে ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই হিসেবে বিবেচনা করেছে।  সিদ্ধান্তে কিছুটা ‘ব্যক্তিনিষ্ঠতা’ থাকতে পারে। কিন্তু টুর্নামেন্ট জুড়ে নিয়মের এই সমতায় ফিফা পুরোপুরি সন্তুষ্ট বলে যোগ করেন ফিফার এই প্রধান রেফারি।

তিন বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ডাকআউটে দাঁড়ানো কোচ দালিচের পদত্যাগ

ক্রীড়া ডেস্ক
তিন বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ডাকআউটে দাঁড়ানো কোচ দালিচের পদত্যাগ
ছবি : রয়টার্স

ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সবচেয়ে সফল  প্রধান কোচ জ্লাটকো দালিচ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ নয় বছর ক্রোয়েটদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণ দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার এই কোচ। এর মাধ্যমে ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালিস্টদের সঙ্গে দালিচের সম্পর্কের অবসান হলো। 

চ্যানেলনিউজএশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দালিচের অধীনে ক্রোয়েশিয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে রানার্স-আপ এবং কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। কিন্তু এবার দলটি কোনো পদক ছাড়াই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ক্রোয়েশিয়ার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ৫৯ বছর বয়সী দালিচ বলেছেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার হয়ে নতুন সাফল্য অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তীব্র ইচ্ছা আজও আমার মধ্যে রয়েছে। 

কিন্তু আমি মনে করি, এই অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের ইতি টানার এটাই সঠিক সময়। আমি পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর পেছনে নিজের অবদান রাখতে পেরেছি, এ নিয়ে আমি গর্বিত বলে যোগ করেন তিনি।

২০১৭ সালের অক্টোবরে ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন দালিচ। 

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এইচএসএন) প্রধান মারিয়ান কাসটিচ বলেছেন, ‘ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে ডালিচের নাম সবসময়ই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে যেতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগালের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে তাদের বিদায় ত্বরান্বিত হয়। 

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের জমজমাট লড়াইয়ে ৪ ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের জমজমাট লড়াইয়ে ৪ ফুটবলার
ছবি : স্কাইস্পোর্টস

৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে জমে উঠেছে। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আরলিং হালান্ড এবং হ্যারি কেইন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যথাক্রমে শীর্ষস্থানে রয়েছেন গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে। তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। 

টুর্নামেন্টের শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে এই বহু আকাঙ্ক্ষিত পুরস্কারটি প্রদান করা হয়। যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান হয়, তখন গোলে কে বেশি অ্যাসিস্ট করেছে বিবেচনায় নিয়ে পুরস্কারটি দেওয়া হয়। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়া

এরপরও যদি নিষ্পত্তি না হয় তখন মোট খেলার সময় বিবেচনা করা হবে এবং যিনি কম মিনিট খেলেছেন, তাঁকে প্রথম হিসেবে গণ্য করা হয়।

৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। রাউন্ড অব ১৬-এ মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ গোল পান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। তিনি ৫ ম্যাচে ৮ গোল করেছেন, এর মাঝে একটি অ্যাসিস্টও রয়েছে।

গত বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পে ৭ গোল এবং ২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে মেসির ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছেন। যদি গোলসংখ্যা সমান হয়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বেশি অ্যাসিস্ট করার কারণে এমবাপ্পেই এই মুহূর্তে টাইব্রেকারে এগিয়ে থাকবেন।

নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই আরলিং হালান্ড নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে টেনে তুলেছেন। রাউন্ড অব ১৬-এ শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে তিনি একাই জোড়া গোল করেন। এতে ৫ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৭। এমবাপ্পের গোল সংখ্যা সমান হওয়ায় অ্যাসিস্ট বিবেচনায় পিছিয়ে রয়েছেন এই ম্যানসিটির তারকা। 

২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ী হ্যারি কেইন মেক্সিকোর বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ৬-এ নিয়ে গেছেন। এতে তার একটি  অ্যাসিস্টও রয়েছে। তিনি এই তালিকায় চতুর্থ নম্বরে আছেন। ইংল্যান্ডের এই অধিনায়ক যেকোনো মুহূর্তে বাকিদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

দল বর্ধিত এই বিশ্বকাপে ফাইনালিস্ট হলে ৮ ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। যা এই গোলমেশিনদের জন্য এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোল) ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ফক্স স্পোর্টসের বেটিং অডস অনুযায়ী, তালিকায় এই মুহূর্তে মেসি (+১২০) এবং এমবাপে (+১৪০) সবচেয়ে ফেভারিট হিসেবে রয়েছেন। 

মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিকে নিয়ে কেন আনন্দিত ইয়ামাল
মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইয়ামাল। ছবি : রয়টার্স

ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পৌঁছালেও জাদু দেখানো শেষ হয়নি লিওনেল মেসির। প্রতিনিয়ত মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সেও তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে পুলকিত লামিনে ইয়ামাল। 

মেসিকে নিয়ে তাই ভীষণ আনন্দিত ইয়ামাল। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রতি মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম এল মুন্দো দের্পোতিভোয়। স্পেনের প্লেমেকার বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য। মেসি কে সবাই জানে। কিন্তু এই বয়সে এসেও তার কাছে এমন দুর্দান্ত পারফম্যান্স, হয়তো কেউ আশাই করেনি। এ জন্যই তাকে নিয়ে আমি সত্যি আনন্দিত।’

২০২২ বিশ্বকাপে নিজের আজন্ম স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেসি। স্বপ্নের বিশ্বকাপ জেতায় মনে করা হচ্ছিল তার আর কিছুই চাওয়া-পাওয়া নেই। কিন্তু এই বিশ্বকাপে যা করছেন তাতে মনে হচ্ছে ক্ষুধা যেন তার শেষ হয়নি। কাতার বিশ্বকাপের মতোই এবারও আর্জেন্টিনাকে একাই টানছেন ইন্টার মায়ামির স্ট্রাইকার। দলের ১৪ গোলের ৮টি তার করা।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া নেইমার-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল। এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙিয়ে দিয়েছে এমনটা জানিয়ে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘নেইমার-রোনালদোকে নিয়েও আমি আনন্দিত। যদিও তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন যারা খেলছে তাদের শৈশব রাঙানোর নায়ক তারা।’