• ই-পেপার

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬ জেলের একজন জীবিত উদ্ধার

স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুত পটিয়া স্বাস্থ্য বিভাগ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুত পটিয়া স্বাস্থ্য বিভাগ

চলমান দুর্যোগপূর্ণ বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সৃষ্ট যেকোনো স্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল টিমের টিম লিডারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলো পরিদর্শন করছেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা, পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড়, ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, চর্মরোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এসব পরিস্থিতি মাথায় রেখে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখা হয়েছে।

এছাড়া দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহকে প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া দিতে একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০১৭৩০-৩২৪৪৫১। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বা তথ্যের প্রয়োজন হলে এ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সহায়তা, রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে আশ্রয়কেন্দ্র ও প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে মেডিকেল টিমগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ‘চলমান বৈরী আবহাওয়ায় পটিয়া উপজেলার কোথাও যেন স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম চালু রেখে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। জরুরি ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগের সময় সাধারণত ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, জ্বর, চর্মরোগ ও সাপের কামড়ের ঘটনা বাড়ে। তাই আমরা মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছি। কোথাও স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সুন্দরবনে ৩ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার জিম্মি জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবনে ৩ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার জিম্মি জেলে
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুন্দরবনের বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)।

কোস্ট গার্ড জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরো জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী তিন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাহিনীটি আরো জানিয়েছে, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি

পর্যটক ও হাউসবোট মালিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
পর্যটক ও হাউসবোট মালিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কায় টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটক ও হাউসবোট মালিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মেঘালয়ে ভারি বর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অব্যাহত আছে বর্ষণ। এতে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে হাওরে নৌযান চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিয়ে হাওরে যাত্রা না করার আহ্বান জানানো হয়। 

এ ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী পরিহার করে হাউসবোটে মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়, রিং-এর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার কথা জানান হয়েছে। নির্দেশনায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ নির্দেশনা মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে হাউসবোট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ প্রদানের নির্দেশনা আসলে অবিলম্বে তা বাস্তবান করার আগাম সতর্কবার্তা জারি করে প্রশাসন।


 

মহেশপুরে এডিপি প্রকল্পের উপকরণ পেল ৬০ পরিবার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মহেশপুরে এডিপি প্রকল্পের উপকরণ পেল ৬০ পরিবার
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দুস্থ ও অসহায় ৬০টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের উপকারভোগীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, কীটনাশক ছিটানোর স্প্রে মেশিন, আলমারি ও বাইসাইকেল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরডিবি কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহাগ খান। এছাড়া স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সহায়তা করতেই সরকারের এ উদ্যোগ। বিতরণ করা উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করলে উপকারভোগী পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।