বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক মামলার এক আসামির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার পর একদল লোক আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি,গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রিয়াজ ফকির (২৬) জীবিত রয়েছেন এবং তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াজ আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের ফকিরবাড়ি এলাকার সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন জাকাত ফকিরের বাড়ির সামনে থেকে রিয়াজকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জাকাত ফকিরও একাধিক মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানায় নেওয়ার পর রিয়াজ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, রিয়াজ ফকির একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে। এর আগে একবার গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আরও বলেন, রিয়াজ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় তিনি মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে দেয়। সেই গুজবের জেরে বিকেলে একদল লোক থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।





