• ই-পেপার

ঝিনাইদহে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

নওগাঁয় নিজ জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁয় নিজ জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর রাণীনগরে নিজ জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে সাখওয়াত হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার মালশন গ্রামের ওমরপুর মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাখওয়াত হোসেন ওই গ্রামের মোহাম্মদ খয়বর আলীর ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল। তিনি জানান, সকালে সাখওয়াত হোসেন বাড়ির পাশে তার নিজ জমিতে কৃষি কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
ছবি : কালের কণ্ঠ

কৃষিজমি, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি অবৈধ ড্রেজার ও প্রায় আড়াই হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলার তুলাগাঁও গ্রামে পরিচালিত অভিযানে একটি অবৈধ ড্রেজার ও প্রায় এক হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। পরে রামের দিঘিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মালিক মো. আব্দুস ছামাদকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি ড্রেজার এবং প্রায় এক হাজার ৫০০ ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছিল। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে এসব অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে কৃষিজমির মাটি কাটা, খাল-বিল ও জলাশয়ের ক্ষতি করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। জনস্বার্থে কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে কুসিক

কুমিল্লা প্রতিনিধি
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে কুসিক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। বর্তমানে প্রায় ৪৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার অটোরিকশাকে অনুমোদন দেওয়া হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে কিংবা ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করে অটোরিকশা চালালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-সংক্রান্ত এক মতবিনিময়সভায় কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এসব তথ্য জানান।  

ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই অটোরিকশা নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হবে। নিবন্ধিত প্রতিটি অটোরিকশায় চীন থেকে আমদানি করা বিশেষ লাইসেন্স প্লেট সংযুক্ত করা হবে। এসব প্লেটে অন্তত আটটি আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (সিকিউরিটি ফিচার) থাকবে। এর ফলে জালিয়াতি বা নকল প্লেট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, কেউ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া লাইসেন্স প্লেট ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, নগরীতে অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে যানজট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের ফলে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে বহু মানুষ আহত হচ্ছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জনভোগান্তি কমাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নগরবাসীর স্বার্থ ও জনকল্যাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 

আশ্রয়শিবিরে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত, ইউএনএইচসিআরের শোক

১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

উখিয়া (কক্সবাজার)প্রতিনিধি
আশ্রয়শিবিরে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত, ইউএনএইচসিআরের শোক
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে টানা ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। একই সঙ্গে দুর্যোগপ্রবণ এই শরণার্থী শিবিরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, নিরাপদ অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে ইউএনএইচসিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এক বিবৃতিতে বলেন, গত ৮ জুলাই মাদরাসার দেয়াল ধসে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তাদের প্রতি ইউএনএইচসিআর গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে এ সপ্তাহের শুরুতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতিও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই মর্মান্তিক প্রাণহানি আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শরণার্থী শিবিরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখনো ভূমিধস, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ নানা পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত টানা দুর্যোগে ১৫ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৮ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১১৯ জন এবং সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০৭ জন।

এ সময়ে মোট ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনার মধ্যে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝোড়ো হাওয়া এবং ২১টি আকস্মিক বন্যার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয় আংশিক এবং ১৩টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মানবিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সামনে থাকা অনেক ঝুঁকি যথাযথ পরিকল্পনা, সম্পদ ও টেকসই দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকটের কারণে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জমির অভাবে অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ঘনত্ব কমানো এবং আরো নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ঝুঁকি জরুরি পরিস্থিতিতে রূপ নেওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু অর্থায়ন ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মর্মান্তিক ঘটনাগুলো সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

তিনি আরো বলেন, শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, জমি ও পরিকল্পনার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ইউএনএইচসিআর তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগও চলমান থাকবে।