• ই-পেপার

নওগাঁয় নিজ জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে মা-মেয়েকে বেঁধে রেখে স্বর্ণ ও টাকা লুট

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ডে মা-মেয়েকে বেঁধে রেখে স্বর্ণ ও টাকা লুট
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মা ও মেয়ের নামাজ পড়ার সময় একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে দুর্বৃত্তরা। তাদের মুখ বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে ঘর থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের। 

বুধবার (৮ জুলাই)  সন্ধ্যায় উপজেলার বারআউলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


মামলার বিবরণে জানা যায়, গৃহবধূ তাহেরা বেগম ও তার মেয়ে ইসরাত সুলতানা নামাজ পড়ছিলেন। সিজদায় থাকা অবস্থায় ৬ থেকে ৭ জন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে তাদের মুখ বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রাখে। 

এরপর তারা আলমারির চাবি চায়। চাবি দিতে দেরি হওয়ায় তাহেরা বেগমকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে আলমারি ভেঙে অন্তত ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। 

দুর্বৃত্তরা চলে গেলে ইসরাত সুলতানা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ইসরাত সুলতানা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন।

তিনি জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। দুর্বৃত্তরা তাদের বেঁধে রেখে স্বর্ণালংকার এবং মায়ের চোখের অপারেশনের জন্য রাখা ২ লাখ টাকা নিয়ে যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

মির্জাপুরে নির্মাণের ৭ দিনের মধ্যে উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মির্জাপুরে নির্মাণের ৭ দিনের মধ্যে উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ফ্লাইওভার সংলগ্ন জোরপুকুর পাড় হয়ে টেকিবাড়ি গ্রীনসটি এলাকা পর্যন্ত ৪শ ৬০ মিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নির্মাণের ৭দিনের মধ্যেই হাতের টানে, পায়ের ঘষা ও যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট গর্ত। যানবাহন চলার সময় রাস্তা দেবে যাচ্ছে। দুর্যোগর্পূণ আবহাওয়ায় তড়িঘরি করে নির্মাণ করায় সড়কটির এই অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ফ্লাইওভার সংলগ্ন জোরপুকুর পাড় হয়ে টেকিবাড়ি গ্রীনসটি এলাকা পর্যন্ত ৪শ ৬০ মিটার সড়কের এই বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই ফ্লাইওভার সংলগ্ন জোরপুকুর পাড় হয়ে টেকিবাড়ি গ্রীণসিটি পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪শ ৬০ মিটার সড়কের কার্পেটিং করার কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত এক সপ্তাহ পূর্বে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে তড়িঘরি করে সড়কটির কার্পেটিং করা হয়। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। কার্পেটিং শুকানোর আগেই বৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনের চাকা এবং পায়ের ঘষায় কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন জায়গায় গর্ত হতে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো রাস্তা পরিষ্কার না করেই তড়িঘরি করে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। এছাড়াও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বিটুমিন ব্যবহারের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় যানবাহনের চাকার চাপে দেবে গেছে। পায়ের ঘষায় এবং হাতের টানে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজন সড়কটি পুনরায় নির্মানের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন, আলম ও নাইম জানান, ঠিকাদার যখন রাস্তার কাজ করে তখন দুর্যোগপূর্ণ  আবহাওয়া। এর মধ্যে তড়িঘরি করে কম বিটুমিন আর নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং শেষ করে। আমরা তাকে এভাবে কাজ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত করেননি। আমরা রাস্তাটি পুণরায় করার দাবি জানচ্ছি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তারেক খান বলেন, ‘বিভিন্ন চাপে বৃষ্টির দিনে কাজ করায় এমনটি হয়েছে। যেহেতু রাস্তাটি আমার তত্ত্বাবধানে হয়েছে তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আমি পুণরায় সংস্কার করে দিব।

মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা আমি শুনেছি। এখনো ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় যথাযথভাবে সংস্কার না করা পর্যন্ত বিল দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

টানা বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। জননিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখার পাশাপাশি কোনো দর্শনার্থীকে ঝরনায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৭ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনের জন্য ঝরনাগুলোতে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়ায় সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে মোট ১১টি ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯টিতে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য ঝরনাগুলোর মধ্যে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, বাওয়াছড়া, সহস্রধারা ও সোনাইছড়া। বর্ষা মৌসুমে এসব ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি হলেও একই সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পাথুরে ঝিরিপথ, খাড়া পাহাড়ি পথ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল এবং ঝরনার প্রবল স্রোতের কারণে বর্ষাকালে এসব এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মিরসরাই ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে উপজেলার বিভিন্ন ঝরনায় ৩৭টি ছোট-বড় দুর্ঘটনায় সাতজন পর্যটক নিহত এবং অন্তত ৫১ জন আহত হয়েছেন।

ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স থ্রি বি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারহোল্ডার গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত টিকিট বিক্রি ও পর্যটক প্রবেশ—দুটিই বন্ধ থাকবে।

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় এখনো ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে আকস্মিক ঢল, ঝরনায় প্রবল স্রোত এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।

কুমিল্লায় গোমতী নদীর দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় গোমতী নদীর দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার গোমতী নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রথম দিনের অভিযানে ৬০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ঝাঁকুনিপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গোমতী নদীর দুই পাড়ে মোট ১৪৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দিনের অভিযানে তালিকাভুক্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৬০টির বেশি স্থাপনা ভেঙে অপসারণ করা হয়। এ সময় এক্সকাভেটরসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার এবং কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গোমতী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে দোকান, ঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার কারণে বাঁধের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে পূর্বপ্রস্তুত তালিকা অনুযায়ী দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

এই প্রকৌশলী আরো বলেন, ‘এটি একদিনের অভিযান নয়। গোমতী নদীর তীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’