• ই-পেপার

মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

নোয়াখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে যাত্রীবাহী বাস ও ফলবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে কার্তিক (৫৮) নামের এক ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নদোনা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কার্তিক লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নন্দী গ্রামের গণক ঠাকুর বাড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আল-বারাকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ফলবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপে থাকা ফল ব্যবসায়ী কার্তিক নিহত হন। আহত হন আরো দুজন।

আহতদের মধ্যে হৃদয় নামে একজনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে পানিবন্দি হাজারো মানুষ
পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে মৌলভীবাজারের রাজনগরে বাড়িঘরে পানি।

উজানের ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার উপক্রম। মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে উপজেলার কামারচাক ও টেংরা ইউনিয়নসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের বিভিন্ন অংশ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। বিশেষ করে কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পানিবন্দি এলাকায় ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং পানি বৃদ্ধি না কমলে রাজনগরের বন্যার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড তৎপর রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ‘আমরা গত রাত থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয় লোকজন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজ চলছে। পানিবন্দি মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানান, ‘রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়নে বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছি।’

জেলায় ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলায় বর্তমানে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৯নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাহিরগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে দুটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।  মৌলভীবাজার সদর  ৩৩০ ব্যাগ চাল। রাজনগর ২১০ ব্যাগ চাল। জুড়ী ১৫৭ ব্যাগ চাল। কমলগঞ্জ ২০৫ ব্যাগ চাল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গতদের জন্য শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হবে : সারজিস আলম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হবে : সারজিস আলম
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের মুক্তমঞ্চে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ নেতারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপি ইশতেহারে ঘোষণ দিয়েছিল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। কিন্তু কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হয়, তবে বেকারদের দ্বারা আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর শহরের মুক্তমঞ্চে উপজেলা এনসিপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আদালতের রায়ে তত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ফিরিয়ে নিয়ে আসায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘গণভোট, তত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনলেন, কিন্তু যে গণভোটের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এলেন সেটি বাস্তবায়ন করলেন না।’

সারজিস বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিবেক বিসর্জন দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তারা ১০ হাজার পুশ ইন করেছে, আরো পুশ ইন হবে। আমাদের সীমান্তে আর একটা পুশ ইন ও হত্যা আমরা দেখতে চাই না।’

একই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘যারা বলত শেখ হাসিনা পালায় না, তারা গাট্টি-বস্তা নিয়ে পুরো দলসহ পালিয়ে গেছে। যেখানে তাদের হেডকোয়ার্টার সেই ভারতে চলে গেছে। ওই ভারতের গর্তে বসে থেকে বাংলাদেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দেয়। আমরা বলতে চাই, শেখ হাসিনা আপনার জন্য ফাঁসির মঞ্চ অপেক্ষা করছে, আপনি বাংলাদেশে আসেন আমরা আপনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দিতে চাই।’

এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে পৌর শহরের  শহরের বিজ্ঞান মোড় থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পদযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব সাইফ মুস্তাফিজ ও মাহিন সরকার প্রমুখ।

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস
ছবি: কালের কণ্ঠ

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তীরবর্তী এলাকায় আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। 

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নদীটির পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ২০ সেন্টিমিটার বেড়ে সন্ধ্যা ছয়টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৬টায় সেখানে পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে।

পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে মূল ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের সবগুলো খোলা রয়েছে। দেশে এবং উজানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির কারণে নদীটিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।