• ই-পেপার

টাঙ্গাইলে জঙ্গল থেকে নবজাতক উদ্ধার

ফরিদপুরে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, ভোগান্তিতে শতাধিক পরিবার

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ, ভোগান্তিতে শতাধিক পরিবার
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে সরকারি মাটির রাস্তা দখল করে ঘরবাড়ি ও পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের সাব্বির খানের বাড়ি থেকে মমিন খানের বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘদিনের একটি সরকারি মাটির রাস্তা রয়েছে। এ পথ দিয়ে এলাকার প্রায় ১০০টি পরিবারের সদস্য নিয়মিত চলাচল করেন। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি উন্নয়নের অংশ হিসেবে সেখানে সরকারি উদ্যোগে ইট বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। ফলে এটি এলাকাবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ।

লিখিত অভিযোগে শাহিন বেপারী উল্লেখ করেন, একই গ্রামের ইদ্রিস বেপারী, সোনা মীর, কালাম মীর ও সালাম মীর পরিকল্পিতভাবে সরকারি রাস্তার একটি অংশ দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি ও পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা স্থানীয়দের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জনগণের চলাচলের রাস্তার ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। উভয় পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পার্বতীপুরে ইউএনওর বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পার্বতীপুরে ইউএনওর বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেনের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় তারা বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইউএনও মো. সাদ্দাম হোসেন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জনবান্ধব সেবা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পার্বতীপুরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

তারা আরো বলেন, এমন একজন কর্মদক্ষ ও জনবান্ধব কর্মকর্তার আকস্মিক বদলির খবরে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁর বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা ইউএনওর বদলির আদেশ বাতিল বা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জনস্বার্থে তাকে পার্বতীপুরে বহাল রাখার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এদিকে ইউএনওর বদলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে যাত্রীবাহী বাস ও ফলবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে কার্তিক (৫৮) নামের এক ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নদোনা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কার্তিক লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নন্দী গ্রামের গণক ঠাকুর বাড়ির বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আল-বারাকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ফলবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপে থাকা ফল ব্যবসায়ী কার্তিক নিহত হন। আহত হন আরো দুজন।

আহতদের মধ্যে হৃদয় নামে একজনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে পানিবন্দি হাজারো মানুষ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনগরে পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে পানিবন্দি হাজারো মানুষ
পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর বাঁধ তলিয়ে মৌলভীবাজারের রাজনগরে বাড়িঘরে পানি।

উজানের ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার উপক্রম। মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে উপজেলার কামারচাক ও টেংরা ইউনিয়নসহ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের বিভিন্ন অংশ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। বিশেষ করে কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পানিবন্দি এলাকায় ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং পানি বৃদ্ধি না কমলে রাজনগরের বন্যার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড তৎপর রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ‘আমরা গত রাত থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। স্থানীয় লোকজন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ফাটল মেরামতের কাজ চলছে। পানিবন্দি মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানান, ‘রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়নে বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছি।’

জেলায় ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলায় বর্তমানে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৯নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাহিরগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে দুটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।  মৌলভীবাজার সদর  ৩৩০ ব্যাগ চাল। রাজনগর ২১০ ব্যাগ চাল। জুড়ী ১৫৭ ব্যাগ চাল। কমলগঞ্জ ২০৫ ব্যাগ চাল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গতদের জন্য শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।