• ই-পেপার

বায়রার নির্বাচন আগামী ১৪ নভেম্বর

গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসার ওপর জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসার ওপর জোর

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনালসহ বিভিন্ন এন্ডোক্রাইন রোগ মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব রোগের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড কমন এন্ডোক্রাইন ডিসওর্ডার’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সেমিনারের বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর ও গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।

সেমিনারে গর্ভাবস্থায় অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, থাইরয়েড ম্যালিগন্যান্সির ইতিহাস থাকা নারীদের চিকিৎসা, প্রোল্যাকটিনোমা, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস) এবং গ্রেভস ডিজিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক চিকিৎসা নির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কেসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়।

বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. শাহিন ইবনে রহমান, ডা. আহমেদ ইফরাদ বিন রওনক, ডা. সানজিদা ইসলাম, ডা. রিফাত ফেরদৌস ও ডা. আফিয়া জয়নব তন্নি। আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ডা. নাজমা আক্তার, ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান, ডা. মারুফা মোস্তারী, ডা. ফৌজিয়া আনার এবং ডা. রেজওয়ানা সোবহান।

অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের প্রভাব শুধু মায়ের স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি।

অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে। এসব অগ্রগতি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় শেষ পর্যন্ত রোগীদের আরো নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা বলেন, এন্ডোক্রাইন রোগের চিকিৎসায় এখন মাল্টিডিসিপ্লিনারি সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক আয়োজন চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করতে সহায়তা করছে।

উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের সময়োপযোগী ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মা ও নবজাতকের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক নির্দেশনা সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি।

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন বলেন, দেশে এন্ডোক্রাইন চিকিৎসার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও চিকিৎসকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার (পিএমডি) শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি তখনই রোগীর কাছে পৌঁছায়, যখন চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত।

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ২৫ উদ্যোক্তাকে ৫৪ লাখ টাকার পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ২৫ উদ্যোক্তাকে ৫৪ লাখ টাকার পুরস্কার

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে ২৫ জন উদ্যোক্তাকে মোট ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও এসএমই ফাউন্ডেশন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সার্কুলার অর্থনীতি এবং টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্লিনটেক অ্যাকসেলারেটর অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় সারা দেশ থেকে ৬৪১ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জনকে চূড়ান্ত পর্বে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন। প্রথম তিনজনকে ৫ লাখ টাকা, পরবর্তী সাতজনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী ১৫ জনকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন ও ভোগের প্রতিটি ধাপে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা গেলে একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ও বর্জ্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হলেও পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ৩১ শতাংশ। শুধু ঢাকায় প্রতিদিন ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ৩৭ শতাংশ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৯ ও ১২ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং এতে কর্মরত রয়েছেন ৩ কোটির বেশি মানুষ।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সুবিধা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা।

রিয়াদ এয়ারের টিকিট বিক্রি শুরু, ফ্লাইট শুরু ৭ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
রিয়াদ এয়ারের টিকিট বিক্রি শুরু, ফ্লাইট শুরু ৭ আগস্ট

আগামী ৭ আগস্ট থেকে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লইট শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি আরবের নতুন জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রিয়াদ এয়ার’। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

সৌদি আরবকে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং যাত্রীদের জন্য বিশ্বমানের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই রিয়াদ এয়ারের মূল লক্ষ্য। রিয়াদ এয়ারের এই নতুন সার্ভিস ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে। বাণিজ্য ও অবকাশ, উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আগামী ৭ আগস্ট থেকে রিয়াদ এয়ারের নতুন বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট রুটে প্রতিদিন সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। রিয়াদ থেকে ঢাকা (স্থানীয় সময়ে)–রিয়াদ থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ২০ মিনিটে এবং ঢাকা পৌঁছাবে পরদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে রিয়াদ (স্থানীয় সময়ে)–ঢাকা থেকে ছাড়বে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং রিয়াদ পৌঁছাবে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার একটি মজবুত ভিত্তি রয়েছে। এই শক্তিশালী অংশীদারি এখন ভ্রমণ ও অবকাশের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে এবং ঢাকা-রিয়াদ রুটে এই প্রিমিয়াম সার্ভিস সেই যাত্রাকে আরো দৃঢ় করে তুলবে।

সৌদি আরবের রাজধানী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে রিয়াদ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ, আধুনিক অভিজ্ঞতা, বিনোদনকেন্দ্র এবং প্রগতিশীল অর্থনীতির এক নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে। সরাসরি যাতায়াত করতে পারলে বাংলাদেশি যাত্রীরা আন্তর্জাতিক মানের লাইফস্টাইল ইভেন্ট, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, উচ্চশিক্ষার সুযোগ ইত্যাদি সহজেই উপভোগ করতে পারবে। এছাড়া রিয়াদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবেও কাজ করবে। ফলে রিয়াদ এয়ারের নেটওয়ার্ক ও কোডশেয়ার পার্টনারশিপের মাধ্যমে ঢাকার যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে সহজেই পৌঁছাতে পারবে।

রিয়াদ এয়ার অ্যাপ, ওয়েবসাইট কিংবা পছন্দের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে। যাত্রীরা রিয়াদ এয়ারের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ‘স্ফিয়ার’ এর ‘ফাউন্ডিং মেম্বার’ হতে পারবেন এবং প্রথম ফ্লাইট থেকেই সেরা অফারের গ্যারান্টি, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধাসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ পেতে পারেন।

রিয়াদ এয়ারের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে ‘বিজনেস এলিট, বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি’ এই চারটি ক্লাস রয়েছে, যেখানে যাত্রীরা আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিটি ক্লাসে প্রতিটি সিটের সঙ্গেই আছে ব্লুটুথ অডিও ও হেডফোন জ্যাক। বিজনেস এলিট ও বিজনেস ক্লাসে আছে সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড আসন (১-২-১ বিন্যাস), এসি পাওয়ার, ইউএসবি-সি ও ইউএসবি-এ চার্জিং, হাই-ফিডেলিটি সাউন্ড সিস্টেম, যা সরাসরি হেডরেস্টে সাউন্ড পোঁছাবে। প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (২-৩-২ বিন্যাস), প্রাইভেসি হেডরেস্ট উইং, বাড়তি স্টোরেজ, চারটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট। ইকোনমি ক্লাসে আছে আরামদায়ক সিট (৩-৩-৩ বিন্যাস), সিক্স-ওয়ে অ্যাডজাস্টেবল হেডরেস্ট, দুটি ইউএসবি-সি চার্জিং পয়েন্ট। আরো আছে, প্যানাসোনিক অ্যাভিওনিক্সের অ্যাস্ট্রোভা সিস্টেম, যেখানে যাত্রীরা ৫০০ এরও বেশি মুভি, ৬০০ এরও বেশি টিভি সিরিজ এবং ১০০০টি অডিও অ্যালবাম ও প্লে-লিস্ট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া সকল যাত্রীরা পাবেন সৌদি-নির্মিত কায়ানি ইন-ফ্লাইট প্রোডাক্টস। শিশুদেরদের জন্য থাকবে বেস্পোক ডিজনি অ্যামেনিটি কিটস।

এই রুটের অন্যতম আকর্ষণ ‘স্ফিয়ার’ লয়্যালটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের বিশেষ সুবিধাগুলো হল- পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো তারিখ থাকবে না, বন্ধু বা পরিবারের যে কারো সঙ্গে পয়েন্ট শেয়ার, ফ্লাইটে ফ্রি ওয়াই-ফাই, গেমিফাইড চ্যালেঞ্জ ও লিডারবোর্ড, নতুন রুটে দ্রুত অ্যাক্সেসসহ ‘দ্য ফাউন্ডার্স’ ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিসি ফরিদার

পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট সচেতনতামূলক উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুলে আয়োজিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্নতা একটি অভ্যাস, আর এই অভ্যাস গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা সম্ভব। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই বিদ্যালয় থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ফরিদা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে যে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে বর্জ্য পৃথক করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং লাল, নীল ও কালো রঙের বিনে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং বিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার বিভিন্ন কৌশলও শেখানো হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক স্কুলের ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি টিমের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে গঠিত ক্লিন স্কুল টিম নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট, বারান্দা, খেলার মাঠ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা তদারকি করবে। পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণ, ডেঙ্গুর লার্ভা বিস্তার রোধে সচেতনতা সৃষ্টি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্লিন স্কুল টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, পুরো এলাকাই পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ক্লিন স্কুল টিমের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালু এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।