• ই-পেপার

ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধস

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জনের মৃত্যু, ২৬ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১০ পুলিশ সদস্য

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি
বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, আহত ১০ পুলিশ সদস্য
বরিশালের আগৈলঝাড়া হামলায় আহত পুলিশ সদস্যেকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছে।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক মামলার এক আসামির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার পর একদল লোক আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি,গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রিয়াজ ফকির (২৬) জীবিত রয়েছেন এবং তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াজ আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের ফকিরবাড়ি এলাকার সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন জাকাত ফকিরের বাড়ির সামনে থেকে রিয়াজকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। জাকাত ফকিরও একাধিক মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

থানায় নেওয়ার পর রিয়াজ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, রিয়াজ ফকির একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে। এর আগে একবার গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের ওপর হামলা করে হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও বলেন, রিয়াজ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় তিনি মারা গেছেন বলে গুজব ছড়িয়ে দেয়। সেই গুজবের জেরে বিকেলে একদল লোক থানায় হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ডিম ভেঙে পৃথিবীতে এসেছে সাত ছানা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
ডিম ভেঙে পৃথিবীতে এসেছে সাত ছানা
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের মাঠে চড়ে বেড়াচ্ছে উটপাখির ছানা। ছবি: সংগৃহীত

একেকটি ছানার উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। উটপাখির এমন ছয়টি ছানার একটি দল। স্বভাবসিদ্ধ গলা বাড়িয়ে মুখ উঁচুনিচু করছে। বাচ্চাগুলো খাবার খাচ্ছে, চড়ে বেড়াচ্ছে। মাঝে-মধ্যে ভোঁ-দৌড়ও দিচ্ছে। ডিম ভেঙে ছানাগুলো পৃথিবীতে এসেছে দেড় মাস আগে।  

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে প্রত্যন্ত পল্লীতে অবস্থিত দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের মাঠে দিব্যি চরে বেড়াচ্ছে ছানাগুলো। 

জানা গেছে, ডিম থেকে ছানা পাওয়া গিয়েছিল মোট সাতটি। এর পাঁচটি জন্ম নেয় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের গবেষণাগারের ইনকিউবেটরে। বাকি দুটির জন্ম হয় দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানার ইনকিউবেটরে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। তবে মারা যায় একটি। 

উটপাখির ছানা ফোটার পর নিবিড় পরিবেশে পরিচর্যা এবং বেড়ে ওঠার জন্য বিষয়টি গোপন রাখা হয়। একপর্যায়ে গত সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. আব্দুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

উটপাখির ছানা

যে ছানাটি মারা যায়, সেটি হাবিপ্রবির জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের গবেষণাগারে ইনকিউবেটরে ফুটানোগুলোর একটি। বর্তমানে ছয়টি ছানা দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে স্বভাবসিদ্ধ গলা বাড়িয়ে মুখ উঁচুনিচু করছে। বাচ্চাগুলো খাবার খাচ্ছে, চড়ে বেড়াচ্ছে। মাঝে-মধ্যে ভোঁ-দৌড়ও দিচ্ছে।

এদিকে বিষয়টি জানা যানি হওয়ার পর ‘মরুভূমির জাহাজ’ খ্যাত উটপাখি দেখতে পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দীন মিঞা বাবুল জানান, সাড়ে তিন মাস আগে ঢাকা থেকে দুটি উটপাখি পার্কে নিয়ে আসেন তিনি। এর এক সপ্তাহ পর ২৪টি ডিম দেয়। বিষয়টি দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগে জানানো হলে তারা সেখান থেকে ডিম সংগ্রহ করে তাদের গবেষণাগার ও পার্কের নিজস্ব ইনকিউবেটরে বাচ্চা  ফোটানোর জন্য বসান। 

রইচ উদ্দীন আরো জানান, ৪৫ দিন পর গত ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের ইনকিউবেটরে পাঁচটি ও পার্কের ইনকিউবেটরে দুইটি ছানা ফোটে। এরমধ্যে একটি ছানা মারা যায়। ছানাগুলোকে পার্কে রাখা হয়েছে। সেখানে চড়ে বেড়াচ্ছে তারা। তিনি জানান, ঢাকা থেকে আনা উটপাখি দুটি আরো আটটি ডিম পাড়ে। সেগুলো পার্কের ইনকিউবেটরে বসানো হয়েছে। সেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটাবে।

দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্ক পরিদর্শন শেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যন্ত পল্লী গ্রামে দিনাজপুর মিনি চিড়িয়াখানা ও পার্কে সুন্দর ছায়া সুনিবিড় পরিবেশে উটপাখির ডিম থেকে সাতটি বাচ্চা জন্ম নেওয়া অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। এতে  দেশে উটপাখির বংশ বিস্তারে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিল। 

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. মো. আব্দুর রহিম বলেন, দেশে এই প্রথম কোনো মিনি চিড়িয়াখানায় উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। আমাদের দেশে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা জন্ম নিলে এক সপ্তাহের বেশি টেকেনি। কিন্তু বর্তমানে বাচ্চাগুলোর বয়স দেড় মাস। আশা করা যাচ্ছে এবার গবেষণা সফল হবে।

হাবিপ্রবিতে প্রায় ছয় বছর ধরে উটপাখির বংশবৃদ্ধি, বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালন করে দেশে প্রোটিনের জোগান দেওয়ার বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়।

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড অ্যানিমেল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রাশেদুল ইসলাম বলেন, মরুভূমির আবহাওয়ায় উটপাখির প্রচণ্ড  গরম সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে, তবে বৃষ্টি ও শীতপ্রধান এলাকায়ও এ পাখি সহজে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। তিনি জানান, উটপাখির একটি ডিমের ওজন ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়। মৌসুমে একেকটি উটপাখি ৬০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে সময় লাগে ৪২ থেকে ৪৫ দিন।

উটপাখির বাচ্চাগুলোর সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করছেন কৃষিবিদ মোর্শেদা বেগম লুপু ও পাশে সহযোগিতায় ছিলেন স্বামী ইঞ্জিনিয়ার রইচ উদ্দিন মিঞা বাবুল।

ঝিনাইদহে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ও ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ তিনজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার বিহারী মোড় এলাকা ও পৌরসভার নিমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানে শহরের একটি হোটেল থেকে ৪০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম বাবু (২১) ও রিমন (১৮) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে একই দিনে কালীগঞ্জ পৌরসভার নিমতলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ড্রাগ হাউজের সামনে অভিযান চালিয়ে ফুলবাড়ী (মধ্যপাড়া) গ্রামের ইমন হোসেনকে (২৫) ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এলাকায় মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদ। সংগৃহীত ছবি

দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জেরে একটি প্রভাবশালী মহল এ হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মীর সবুর আহম্মেদ কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মুক্তাগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (জিডি) করেছেন সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিক সবুরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। কলটি রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে উপজেলার সাম্প্রতিক সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিক ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে কল কেটে দেন।

সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদ বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করছি। সত্য তুলে ধরার কারণে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর হুমকিদাতার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।’