• ই-পেপার

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ : বাল্যবিয়ের ‘কারিগর’ কাজী মঈনের লাইসেন্স বাতিল

খুলনায় কারাগারের দেয়াল টপকে আসামির পলায়ন

খুলনা অফিস
খুলনায় কারাগারের দেয়াল টপকে আসামির পলায়ন
সংগৃহীত ছবি

খুলনা জেলা কারাগার-২ এর দেওয়াল টপকে ইমন মাঝি নামের এক আসামি পালিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই কারাগারের পূর্ব পাশের দেওয়াল ডিঙিয়ে সে পালিয়ে যায়। জেল সুপার আবু ছায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

খুলনা জেলা পুরাতন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মো. ইমন মাঝি লবণচরা থানা এলাকার সাচিবুনিয়া সেকেলার বটতলা জিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল মাঝির ছেলে।

কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, ইমন মাঝি সোনাডাঙা থানার একটি চুরি মামলার (নম্বর ০৯ (০১)২৫, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫) আসামি। চলতি বছরের ১৩ জুন থেকে জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ইমন মহানগরীর আইনজীবী সমিতি সংলগ্ন পুরাতন জেলা কারাগারের পূর্ব দিকের দেয়াল টপকে আইনজীবী সমিতির দিক থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি কারাগারের সিসি ফুটেজে ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের ‘পাগলা ঘণ্টা’ বাজানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন।

খুলনা কারাগারের সুপার মো. আবু সায়েম সাংবাদিকদের জানান, কোনো কিছুর সহযোগিতা ছাড়াই ইমন মাঝি নামে এক হাজতি কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়েছে। সিসি ফুটেজের চিত্রে পালানোর ঘটনাটি নজরে এলে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কারো গাফিলতি রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

টাকা নিয়ে বিরোধে কিশোর হত্যা মামলার আসামির যাবজ্জীবন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
টাকা নিয়ে বিরোধে কিশোর হত্যা মামলার আসামির যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

নেত্রকোনায় টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর জাকির হোসেনকে হত্যা মামলায় মো. জনি (৩১) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত জনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর সদর উপজেলার রাজুর বাজার এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন তার আত্মীয় খোকন মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন ১৬ অক্টোবর দুপুরে খোকন মিয়া তাকে বাড়ি ফেরার জন্য মদনগামী একটি টেম্পুতে তুলে দেন। কিন্তু এরপর জাকির আর বাড়িতে ফেরেননি।

স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন ১৭ অক্টোবর সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে, রাজুর বাজার এলাকার একটি ব্রয়লার মিলের পেছনের বিলের পানিতে একটি মরদেহ ভাসছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা মরদেহটি জাকির হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর নিহতের বাবা মঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ জনির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে জনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, জাকিরের কাছে ধার নেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি জাকিরকে হত্যা করে মরদেহ বিলের পানিতে ফেলে দেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে জনিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট পূরবী কুন্ডু।

চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পলান হোসেন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর তমালতলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত পলান হোসেন গোবিন্দপুর তমালতলা এলাকার মৃত ছয়রদ্দিনের ছেলে।

পরিবার সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনা এবং পরে স্ট্রোকের কারণে পলান হোসেন প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। শরীরের এক পাশ অবশ থাকায় তিনি লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করতেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর আগে বড়বোয়ালিয়া গ্রামের হাজারি মণ্ডলের ছেলে ইদবার মহুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিন কাঠা জমি কেনেন পলান হোসেন। পরিবারের অভিযোগ, জমি বিক্রির সময় এক স্থান দেখিয়ে রেজিস্ট্রির সময় অন্য একটি নিচু জমি লিখে দেওয়া হয়। পরে দেখানো স্থানে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর পর ইদবার মহুরী ওই জমির মালিকানা অস্বীকার করলে পলান হোসেন রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে গিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন। সেখানে তিন কাঠার পরিবর্তে দুই কাঠা জমি পান। বাকি এক কাঠা জমি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে ইদবার মহুরী, তার স্ত্রী বেলি খাতুন, নাতি রিয়াদ ও পুত্রবধূ মিতু খাতুন পলান হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং একটি ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এতে বাধা দিলে পলান হোসেনের স্ত্রী ফরিদা খাতুনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পলান হোসেন অন্য ঘরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইদবার মহুরী বাঁশের লাঠি দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের নাতি ফয়সাল দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার নানার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ঘর দখলের চেষ্টা করতে গিয়েই এ হামলা চালায়।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা তিন কাঠা জমি কিনেছিলাম। পরে নানা কৌশলে আমাদের অন্য জমিতে যেতে বাধ্য করা হয়। বাকি এক কাঠা জমি বুঝিয়ে দিতে বলায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।’

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, ‘জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লাঠির আঘাতে পলান হোসেন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।’

ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধস

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জনের মৃত্যু, ২৬ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জনের মৃত্যু, ২৬ হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

টানা ভারি বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মানবিক পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত ১৫ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ২৬ হাজার ১১৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৪৩০৭ জন সাময়িক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেনের একটি বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতি অনুসারে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ পর্যন্ত ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝোড়ো হাওয়া এবং ২১টি বন্যার ঘটনা রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ২৮০৯টি আশ্রয় আংশিক এবং ১৩টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মানবিক সংস্থাগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহাল রয়েছে।