• ই-পেপার

মেসির দুই রেকর্ডকে স্বীকৃতি দিল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ‘ক্ষুধা’ নিবারণ করতে চায় সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ‘ক্ষুধা’ নিবারণ করতে চায় সুইজারল্যান্ড
কাতারের বিপক্ষে সতীর্থদের সঙ্গে গোল উদযাপন এমবোলোর (৮ নম্বর জার্সিধারী বিপরীতে)। ছবি : রয়টার্স

সময়টা কম নয়। ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা ফুরালেও এখানেই থামতে চায় না সুইসরা। শেষ আটে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ‘ক্ষুধা’ নিবারণ করতে চায় তারা।

তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন ‘হুংকারই’ দিয়ে রাখলেন ব্রিল এমবোলো। সুইস স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘মিশর দেখিয়ে দিয়েছে যে কি করা সম্ভব। ম্যাচের ৭০ মিনিট পার হওয়ার পর সম্ভবত সবাই মিশরের পক্ষেই বাজি ধরেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা কখনোই হাল ছাড়েনি, আর এটাই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার দলে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় রয়েছে, যা এই ম্যাচকে আরও কিছুটা বিশেষ করে তোলে। শ্রদ্ধা? হ্যাঁ, তাদের প্রতিও আমাদের আছে। তবে আমরা এটাও জানি প্রতিপক্ষকে কিভাবে হারাতে হয়। এর মধ্যে ওরাও (আর্জেন্টিনা) আছে। আমরা জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত।’

এমবোলোর আক্রমণভাগের সঙ্গী রুবেন ভার্গাসও আর্জেন্টিনাকে যেন হারাতে মুখিয়ে আছেন। তিনি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার সক্ষমতা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তারা বড় মঞ্চের অন্যতম ফেবারিট দল। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও। তবে এই টুর্নামেন্টে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’

অন্যদিকে লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলাটা ক্যারিয়ারের বিশেষ কিছু বললেও আর্জেন্টিনাকে হারাতে সবকিছু নিংড়ে দিতে চান রেমো ফ্রয়েলার। মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারে কখনো মেসির বিপক্ষে খেলিনি। নিশ্চিতভাবেই বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলাটা আমাদের প্রাপ্য। তবে একটা বিষয় পরিস্কার। আমরা এতে (শেষ আটে) সন্তুষ্ট নই। সবকিছু উজাড় করে দিয়ে লড়ব।’

আগামী ১২ জুলাই শেষ আটের ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড। ম্যাচটি হবে কানসাস সিটিতে।

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ বিতর্কে জল ঢেলে দিলেন ফিফার প্রধান রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ বিতর্কে জল ঢেলে দিলেন ফিফার প্রধান রেফারি
ফিফার প্রধান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত কামব্যাকে ম্যাচ জয় ছাপিয়া আলোচনায় রেফারিং বিতর্ক। ম্যাচ  ফিক্সিংসহ রেফারিদের দায়িত্ব পালনে উঠেছে পক্ষপাতিত্বের মত গুরুতর অভিযোগ। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে উঠা বিতর্কে কড়া বিবৃতি দিলেন ফিফার প্রধান রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। সব বিতর্কে জল ঢেলে স্পষ্ট জানালেন,  ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনও জায়গা ফুটবলে নেই।

ইনসাইড ফিফা ডট কমে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের সবগুলো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই রেফারি। প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনা করে তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচে রেফারি কোনো ভুল করেননি।

বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিশিয়ালদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমনটা হলে রেফারি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি হুমকি আসার আশঙ্কা তৈরি হয়। এটা একেবারেই অনুচিত বলে যোগ করেন তিনি।

একইসঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর হস্তক্ষেপ তত্ত্বও খারিজ করেছেন তিনি। ইতালীয় কিংবদন্তির জোরালো দাবি, ‌ফিফার রেফারিং কারও দ্বারা প্রভাবিত হয় না। খোদ ফিফা প্রেসিডেন্টও প্রভাব খাটান না। তিনি সবসময় আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন।'

টুর্নামেন্ট চলাকালীন নির্দিষ্ট কোনও ঘটনা নিয়ে সাধারণত মুখ খোলে না ফিফা। তবে মিসর-ম্যাচের বিতর্ক জমেছে গোটা ফুটবল বিশ্ব। বাধ্য হয়েই নিয়ম ব্যাখ্যার পথে হেঁটেছেন কোলিনা।

মূলত গোল হওয়ার আগে আক্রমণের সময় বল দখলের পর্ব নিয়ে বিস্তর বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই বিষয়ে ফিফার প্রধান রেফারির মন্তব্য, ‌‘প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিএআর গোটা আক্রমণ পর্বটি খতিয়ে দেখে। গোল হওয়ার আগে বিল্ড-আপের সময় যদি কোনও ফাউল হয় এবং তার প্রভাব পড়ে, তবে ভিএআর অন-ফিল্ড রেফারিকে তা রিভিউয়ের নির্দেশ দেয়!’

প্রসঙ্গত, গোলের ঠিক কতক্ষণ আগে বা কত দূরে ফাউল হয়েছে, নিয়মে তার কোনও নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের সীমা বাঁধা নেই।

মোস্তফা জিকোর একটি কাঙ্ক্ষিত গোল বাতিল করেছিল ভিএআর। সেই প্রসঙ্গ টেনে ফিফার প্রধান রেফারির স্পষ্ট ব্যাখ্যা, ‘মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারোয়ান আতিয়া পরিষ্কারভাবে আর্জেন্তিনার ৬ নম্বর লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পা মাড়িয়ে দেয়। আমাদের মতে ফাউল ফাউলই।’

মাঠে রেফারি যদি সেই ফাউল দেখতে না পান, ভিএআর অনায়াসে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ফাউলটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হলেও নিয়ম অনুযায়ী তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এই যুক্তিতে বাতিল হয় মিশরের গোল। রেফারি একদম নিয়ম মেনে সঠিক বাঁশি বাজান বলে জানান তিনি।

ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে পেনাল্টি পাননি মোহাম্মদ সালাহ। এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখিয়েছে ফারাও শিবির। কিন্তু কোলিনার চোখে এই সিদ্ধান্তটিও একশো শতাংশ নির্ভুল। বিল্ড-আপে ফাউল না হলে ভিএআর রেফারিকে সেই মতোই পরামর্শ দেয় উল্লেখ করে কোলিনা বলেন, ‘বিপক্ষের কারো পায়ে মানে ফাউল। কিন্তু ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং তারপর ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মে শারীরিক সংস্পর্শ হয়, তবে তা ফাউল নয়।’

সালাহ এবং হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে ঠিক এটাই ঘটেছিল। রেফারি এবং ভিএআর একে ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই হিসেবে বিবেচনা করেছে।  সিদ্ধান্তে কিছুটা ‘ব্যক্তিনিষ্ঠতা’ থাকতে পারে। কিন্তু টুর্নামেন্ট জুড়ে নিয়মের এই সমতায় ফিফা পুরোপুরি সন্তুষ্ট বলে যোগ করেন ফিফার এই প্রধান রেফারি।

তিন বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ডাকআউটে দাঁড়ানো কোচ দালিচের পদত্যাগ

ক্রীড়া ডেস্ক
তিন বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ডাকআউটে দাঁড়ানো কোচ দালিচের পদত্যাগ
ছবি : রয়টার্স

ক্রোয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সবচেয়ে সফল  প্রধান কোচ জ্লাটকো দালিচ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ নয় বছর ক্রোয়েটদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণ দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার এই কোচ। এর মাধ্যমে ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনালিস্টদের সঙ্গে দালিচের সম্পর্কের অবসান হলো। 

চ্যানেলনিউজএশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দালিচের অধীনে ক্রোয়েশিয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে রানার্স-আপ এবং কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। কিন্তু এবার দলটি কোনো পদক ছাড়াই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।

এক বিবৃতিতে ক্রোয়েশিয়ার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ৫৯ বছর বয়সী দালিচ বলেছেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার হয়ে নতুন সাফল্য অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তীব্র ইচ্ছা আজও আমার মধ্যে রয়েছে। 

কিন্তু আমি মনে করি, এই অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের ইতি টানার এটাই সঠিক সময়। আমি পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর পেছনে নিজের অবদান রাখতে পেরেছি, এ নিয়ে আমি গর্বিত বলে যোগ করেন তিনি।

২০১৭ সালের অক্টোবরে ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন দালিচ। 

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এইচএসএন) প্রধান মারিয়ান কাসটিচ বলেছেন, ‘ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে ডালিচের নাম সবসময়ই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

এবারের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে যেতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। রাউন্ড অব ৩২-এ পর্তুগালের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে তাদের বিদায় ত্বরান্বিত হয়। 

সিরিজ বাঁচাতে ২৪৮ রান করতে হবে বাংলাদেশকে

ক্রীড়া ডেস্ক
সিরিজ বাঁচাতে ২৪৮ রান করতে হবে বাংলাদেশকে
ইনিংসের প্রথম ওভারে উইকেট নেওয়ার পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন তাসকিনের (ক্যাপ ছাড়া)। ছবি : ক্রিকইনফো

সিরিজ বাঁচাতে হলে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। এমন বাঁচা-মরার ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। 

হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভার শেষে ২৪৭ রান করেছে জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বেন কারান। 

ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন কারান। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ইনিংসটি খেলেছেন ১১১ রানের। অপরাজিত ইনিংসটিতে কোনো ছক্কা না হাঁকালেও ৯ চার মারেন বাঁহাতি ওপেনার।

ইনিংসের প্রথম ওভারে ওপেনিং সঙ্গী ব্রায়ান বেনেট আউট হলেও জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন কারান। ওভারের ৫ বলে বেনেটকে শূন্য রানে বোল্ড করে তাসকিন আহমেদ। সেই রেশ শেষ না হতেই নিজের ফিরতি ওভারের শেষ বলে ইনোসেন্ট কাইকেও ফেরান বাংলাদেশি পেসার।

তাসকিনের জোড়া উইকেটের উদযাপনে পরে যোগ দেন নাহিদ রানা ও মিরাজ। দুজনে একটি করে উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ড করেন ৪ উইকেটে ৬৬ রান। সেখান থেকে স্বাগতিকদের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেন সিকান্দার রাজা ও কারান। দুজনে মিলে পঞ্চম উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন।

ব্যক্তিগত ৩৩ রানে রাজাকে ফেরান অধিনায়ক মিরাজ। দ্রুতই নতুন ব্যাটার ক্লাইভ মাদান্দেকে (৪) আউট করে বাংলাদেশকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। তবে সতীর্থ ব্র্যাড ইভান্সকে সঙ্গী করে কারান ঠিকই চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেন।

তাতে জিম্বাবুয়ের সবচেয় বড় জুটিও গড়েন ইভান্স-কারান। সপ্তম উইকেটে ৯৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন তারা। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ৮৩ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে।

শুরু থেকে কারান অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালন করলেও বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন ইভান্স। আটে নেমে ১৫২.৬৩ গড়ে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২ চারের বিপরীতে ৫ ছক্কায়। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন-মিরাজ।

এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে জয়ের দারুণ সুযোগ পেয়েও ২৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রান করলে ১১৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।