• ই-পেপার

সিলেট সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

ঝিনাইদহে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ঝিনাইদহে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ও ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ তিনজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার বিহারী মোড় এলাকা ও পৌরসভার নিমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানে শহরের একটি হোটেল থেকে ৪০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম বাবু (২১) ও রিমন (১৮) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে একই দিনে কালীগঞ্জ পৌরসভার নিমতলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ড্রাগ হাউজের সামনে অভিযান চালিয়ে ফুলবাড়ী (মধ্যপাড়া) গ্রামের ইমন হোসেনকে (২৫) ৪ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এলাকায় মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

সংবাদ প্রকাশের জেরে কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সংবাদ প্রকাশের জেরে কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদ। সংগৃহীত ছবি

দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জেরে একটি প্রভাবশালী মহল এ হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মীর সবুর আহম্মেদ কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা প্রতিনিধি।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মুক্তাগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (জিডি) করেছেন সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাংবাদিক সবুরের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। কলটি রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একপর্যায়ে উপজেলার সাম্প্রতিক সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিক ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে কল কেটে দেন।

সাংবাদিক মীর সবুর আহম্মেদ বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করছি। সত্য তুলে ধরার কারণে একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাকিং করে হুমকিদাতার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।’

রাজহাঁস পালন করে বাড়তি আয় করছেন বাঞ্ছারামপুরের নারীরা

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
রাজহাঁস পালন করে বাড়তি আয় করছেন বাঞ্ছারামপুরের নারীরা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কানাইনগর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের সোনারামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম। মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা গ্রাম হওয়ায় এই গ্রামের নারীরা হাঁসের পাশাপাশি রাজহাঁস পালনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে, দিনভর রাজহাসের হাঁসের কলকলানিতে মুখর থাকে গ্রামটি।

গ্রামের বেশির ভাগ দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা রাজহাঁস পালন করে সংসারের অভাব-অনটন দূর করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠছেন। রাজহাঁস পালন করে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগানোসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয় মেটাচ্ছেন এসব নারীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই দশক আগে এ অঞ্চলে রাজহাঁস পালন শুরু হয়। যত দিন যাচ্ছে এই এলাকায় তত বেশি রাজহাঁসের সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয় এনজিওকর্মী শায়লা শারমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, আগে এই গ্রামের বহু নারীর অনেক স্বপ্নই ছিল অধরা। গাঁটে টাকা-পয়সা থাকত না বলে নিজের এবং ছেলে-মেয়ের আবদারও পূরণ করতে পারছিলেন না তারা। কিন্তু মেঘনা অধ্যুষিত সোনারামপুর ও পার্শ্ববর্তী দরিয়াদৌলত ইউনিয়নে কানাইনগর, শিবপুর, শান্তিপুর, ইছাপুর, মরিচাকান্দি, তাতুয়াকান্দিসহ বেশকিছু গ্রামের নারীরা এখন বাড়তি আয়ের পাশাপাশি স্বপ্নও দেখছেন। কারণ, সংসারে কাজের ফাঁকে রাজহাঁস পালন করে এখানকার নারীরা নিজেদের সাবলম্বী করে তুলেছেন। এখন তাদের আর টাকার জন্য বাড়ির কর্তার কাছেও ধরনা দিতে হয় না। স্বামীদেরও সহযোগিতা করছে তারা।

কানাইনগর গ্রামের রাজহাঁস পালনকারী গৃহিণী আছমা বলেন, ‘আমার বাড়িতে আটটি হাঁস আছে। তিন থেকে পাঁচ মাস বয়স হলে বিক্রি করে দেব। এখান থেকে ১০ হাজার টাকা পেলে আমার ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার বই খাতার দাম হয়ে যাবে। টাকার জন্য বাড়ির কর্তার কাছে ধরনা দেওয়ার দরকার পড়ে না।’

লাকি বেগম নামের আরেক নারী জানান, তার ৫টি রাজহাঁস আছে। একটি মেয়ে হাঁস বছরে দুই বার ডিম পাড়ে। প্রতিবার ১০-১১টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটিয়ে একদিন বয়সের এক জোড়া বাচ্চা ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি হাঁস থেকে বছরে ৩ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে। আর একটি বড় হাঁস বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।

শিবপুর গ্রামের গৃহবধূ তানিয়া আক্তার জানান, একেকটি রাজহাঁস তিন থেকে আটটি ডিম দেয়। চার মাস বয়সের একটি রাজহাঁস থেকে চার-পাঁচ কেজি মাংস পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আমার ও আমার সন্তানদের টুকটাক কেনাকাটা, চাহিদার জন্য স্বামীর কাছ থেকে টাকা খুঁজতে হয় না। রাজহাঁসের আয় থেকে উপার্জিত টাকা থেকে ব্যয় করি। 

হাঁস-মুরগির পাইকার বাতেন মিয়া জানান, তিনি সোনারামপুর হাট থেকে রাজহাঁস ও অন্যান্য জাতের হাঁস ক্রয় করে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন। বড় শহরগুলোতে রাজহাঁসের চাহিদার কারণে লাভও ভালো হয়।

বাঞ্ছারামপুর প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সেরদাতুল ইসলাম বলেন, রাজহাঁস যে পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করে তা অন্য কোনো প্রাণী গ্রহণ করে না। তারা ঘাস, লতা-পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে। 

তিনি জানান, অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় রাজহাঁসের রোগ-ব্যাধি খুব কম। তারপরও আমরা হাঁস পালনকারীদের প্লেগ ও কলেরা ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেই। বাড়ির পাশে ঘাস চাষের ব্যবস্থা থাকলে বাণিজ্যিকভাবে রাজহাঁস পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন ভেটেরিনারি এই সার্জন।
 

খুলনায় কারাগারের দেয়াল টপকে আসামির পলায়ন

খুলনা অফিস
খুলনায় কারাগারের দেয়াল টপকে আসামির পলায়ন
সংগৃহীত ছবি

খুলনা জেলা কারাগার-২ এর দেওয়াল টপকে ইমন মাঝি নামের এক আসামি পালিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই কারাগারের পূর্ব পাশের দেওয়াল ডিঙিয়ে সে পালিয়ে যায়। জেল সুপার আবু ছায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

খুলনা জেলা পুরাতন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মো. ইমন মাঝি লবণচরা থানা এলাকার সাচিবুনিয়া সেকেলার বটতলা জিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল মাঝির ছেলে।

কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, ইমন মাঝি সোনাডাঙা থানার একটি চুরি মামলার (নম্বর ০৯ (০১)২৫, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫) আসামি। চলতি বছরের ১৩ জুন থেকে জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ইমন মহানগরীর আইনজীবী সমিতি সংলগ্ন পুরাতন জেলা কারাগারের পূর্ব দিকের দেয়াল টপকে আইনজীবী সমিতির দিক থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি কারাগারের সিসি ফুটেজে ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে কারাগারের ‘পাগলা ঘণ্টা’ বাজানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন।

খুলনা কারাগারের সুপার মো. আবু সায়েম সাংবাদিকদের জানান, কোনো কিছুর সহযোগিতা ছাড়াই ইমন মাঝি নামে এক হাজতি কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়েছে। সিসি ফুটেজের চিত্রে পালানোর ঘটনাটি নজরে এলে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কারো গাফিলতি রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।