• ই-পেপার

৬০ ফিটে রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড

অটোরিকশা চালক হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
অটোরিকশা চালক হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩
প্রতীকী ছবি

রাজধানীতে অটোরিকশা চালক দিদারুল ইসলামকে অজ্ঞান করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অজ্ঞান পার্টি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে হৃদয় (৪০), মো. মানিক সরদার (৫২) ও মো. লিটন (৫০)।

বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং ডিএমপির লালবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া একটি অটোরিকশা, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

নিয়াজ মেহেদী বলেন, গত ২৮ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খিলগাঁও এলাকা থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন চালক দিদারুল। পরদিন ২৯ জুন ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোড এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, দিদারুল ইসলামকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ জুলাই রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ঘটনার পর ওয়ারী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।

মামলার তদন্তে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 

বিদ্যুৎবিহীন জাপান গার্ডেন সিটি, ভোগান্তিতে তিন হাজারের বেশি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎবিহীন জাপান গার্ডেন সিটি, ভোগান্তিতে তিন হাজারের বেশি পরিবার
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটি এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে আবাসিক এলাকাটির তিন হাজারের বেশি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশলী) মোরশেদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, জাপান গার্ডেন সিটি ডিপিডিসির একক গ্রাহক হিসেবে ৩৩ কেভি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। ডিপিডিসির সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও পরে জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ৩৩ কেভি সাবস্টেশন ও অভ্যন্তরীণ বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। এটি তাদের নিজস্ব সম্পদ হওয়ায় ট্রান্সফরমারটি মেরামত বা নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের দায়িত্বও তাদেরই। এ ঘটনায় ডিপিডিসির কোনো কারিগরি ত্রুটি বা দায় নেই।

মোরশেদ আলম বলেন, ডিপিডিসির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ফিডার, ব্রেকারসহ পুরো নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক রয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো সংকট নেই। তবে গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় ডিপিডিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। যদি জাপান গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষ মনে করে দ্রুত তাদের ট্রান্সফরমার সচল করা সম্ভব নয়, তাহলে ডিপিডিসির কাছে থাকা ছোট ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার সাময়িকভাবে ভাড়ার ভিত্তিতে দেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জাপান গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো সহায়তা চেয়ে আবেদন করেনি।

তিনি আরো বলেন, কোনো বহুতল ভবনের নিজস্ব ট্রান্সফরমার বিকল হলে সেটি সচল করার দায়িত্ব ভবন কর্তৃপক্ষের। ডিপিডিসি কেবল ভবন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একইভাবে জাপান গার্ডেন সিটির ট্রান্সফরমারও তাদের নিজস্ব হওয়ায় সেটি সচল করার দায়িত্বও তাদেরই। ডিপিডিসির নিজস্ব সাবস্টেশনগুলোতে একাধিক ট্রান্সফরমার থাকায় একটি বিকল হলেও অন্যটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ব্যবস্থায় সেই বিকল্প না থাকায় পুরো এলাকাই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
ফাইল ছবি

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিকব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঢাকার সায়েদাবাদ আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সিসিইএর ২১তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ কাঁচপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবামূলক ও পরিচালনাগত সুবিধা বাড়াতে শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট, অফিস কক্ষ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাব কমিটিতে উপস্থাপন করে। কমিটি প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করবে। কর্মকর্তারা জানান, কাঁচপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবা উন্নয়ন ও পরিচালনাগত সক্ষমতা জোরদার করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব : আনোয়ার হোসেন
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক আয়োজিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।’ 

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব আরো বলেন, ‘গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।’

এ সময় তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত (Multi-Approach) কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন। এ সময় কার্যকর মশক নিধনে সম্ভাব্য নতুন প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনী ধারণাসমূহের ওপর পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআরের অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।