• ই-পেপার

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল

প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড

পিটার বাটলার
প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড
মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

ইংল্যান্ডের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান এখন পর্যন্ত বেশ ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটি মূলত এমন সব প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, যারা রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে এবং নেতিবাচক কৌশলে যেকোনোভাবে ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।

তবে আমার বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। কারণ এখন থেকে যেসব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতেই বাধ্য হবে। মেক্সিকো ম্যাচটি এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তারা দারুণ খেলেছে, কিন্তু নিজেদের ভুলের মূল্যও দিয়েছে।

প্রতিপক্ষের নেতিবাচক ফুটবলে লাভবান ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচের আগ পর্যন্ত আমার মনে হয়নি, ইংল্যান্ড তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেখাতে পেরেছে। পরিস্থিতির দাবি মেনে দলটিকে ভিন্ন ধরনের ফুটবল খেলতে হয়েছে। তাই তাদের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা বিচ্ছিন্ন, মুহূর্তভিত্তিক। হয়তো সেই ফুটবল সব সময় দর্শকদের চোখে নান্দনিক লাগেনি।

কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই সাফল্য আসে না। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেভাবেই হোক জয়ের পথ খুঁজে নেওয়া। মেক্সিকো অবশ্যই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে এবং দুর্দান্ত লড়াই করেছে। তাদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও ছিল অসাধারণ। এর সঙ্গে ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতার মাঠে খেলার সুবিধা এবং স্বাগতিক দর্শকদের পূর্ণ সমর্থন।

তার পরও আমার কাছে মনে হয়েছে, ইংল্যান্ডের রক্ষণ ছিল দারুণ সুশৃঙ্খল আর আক্রমণে তারা ছিল নিখুঁত ও কার্যকর। প্রায় ৪০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলা যে কতটা কঠিন, তা সবাই জানে। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলটি যে সাহস, ঐক্য এবং লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তবে একে শুধু একটি জয় হিসেবেই দেখতে হবে। এখন সামনে কোয়ার্টার ফাইনাল। তাই বিনয়ী থাকতে হবে, মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা যাবে না।

ইংল্যান্ড দলে যেমন কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তেমনি বেশ কিছু বড় শক্তির জায়গাও আছে। হ্যারি কেইন অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিশ্বমানের একজন ফুটবলার। আর জুড বেলিংহাম এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। এই বিশ্বকাপেও তিনি সেটির প্রমাণ দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ম্যাচজয়ীদের একজন। আমি আগেও বলেছি, ইংল্যান্ড হয়তো এখন পর্যন্ত চোখ-ধাঁধানো ফুটবল খেলেনি, কিন্তু তারা ধারাবাহিকভাবে জয়ের পথ বের করেছে; আর বড় টুর্নামেন্টে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মেক্সিকোকে হারানোর ম্যাচটিই ইংল্যান্ডের সত্যিকারের টার্নিং পয়েন্ট। তবে সামনে আরো বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ নরওয়ে। সেখানে আর্লিং হালান্ডের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সে দুর্দান্ত একজন ফিনিশার এবং শারীরিক সক্ষমতায় অনন্য।

রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ মিসরের

ক্রীড়া ডেস্ক
রেফারিং নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ মিসরের
রেফারির সিদ্ধান্তর প্রতিবাদ করছেন মিশরের কোচ। ছবি : রয়টার্স

নাটকীয়ভাবে ম্যাচ হেরেছে মিসর। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরেও শেষে ৩-২ ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত কামব্যাকের ম্যাচে রেফারি পক্ষপাত করেছেন বলে জানিয়েছে মিসর। রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

ম্যাচ শেষে কোনো রাখঢাক না রেখেই মিসরের কোচ হোসেম হাসান জানান, আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টিকিয়ে রাখতেই তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। অন্যদিকে রেফারিকে ‘জালিম’ সংবোধন করেছেন ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো।

এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেডারেশনের যোগাযোগবিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ মোরাদ লিখেছেন, ‘মিসর ফুটবল ফেডারেশন আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করছে।’

রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার বিষয়টি ফিফার কাছে জানিয়েছেন মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা। তার দাবি, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোয় যেন দায়িত্ব দেওয়া না হয় রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার সহকারীদের। তার মতে, তাদের ভুল সিদ্ধান্তই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।

মিসরের অভিযোগ মূলত দুটি সিদ্ধান্তে। ভিএআরে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়ার বিপরীতে ফাউলের অভিযোগে পেনাল্টির আবেদন করার পরেও ভিএআর পর্যালোচনা না করায়।

কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার কখন মুখোমুখি

ক্রীড়া ডেস্ক
কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার কখন মুখোমুখি
বিশ্বকাপের ট্রফি। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ ৭২ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে সুইজারল্যান্ডের। ১৯৫৪ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ পেয়েছে তারা। দীর্ঘ খরা কাটানোর জয়টি এসেছে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ট্রাইব্রেকারে। 

শেষ ষোলোর ম্যাচে জয় পাওয়ায় শেষ দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। তাতে নির্ধারিত হয়েছে শেষ আটে কে কার মুখোমুখি হচ্ছে। 

আগামী ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হবে। তার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক ৮ দলের সূচি-

কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি
৯ জুলাই : ফ্রান্স ও মরক্কো—রাত ২টা—বোস্টন
১০ জুলাই : স্পেন ও বেলজিয়াম—রাত ১টা—লস অ্যাঞ্জেলেস
১২ জুলাই : ইংল্যান্ড ও নরওয়ে—রাত ৩টা—মায়ামি
১২ জুলাই : আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড—সকাল ৭টা—কানসাস

কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনাকে পেল সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনাকে পেল সুইজারল্যান্ড

নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও গোল এল না কলম্বিয়া সুইজারল্যান্ড ম্যাচে। দুই দলই বেশকিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ফিনিশিং এর দুর্বলতায়। তাই টাইব্রেকারেই গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। সেখানে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে সুইজারল্যান্ড। 

এই মহাকাব্যিক জয়ে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রাখল সুইজারল্যান্ড। এর আগে সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। আর এই জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে সুইসরা। আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শেষ চারের টিকিট কাটার মহাযুদ্ধে মাঠে নামবে এই দুই দল। এর আগে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার নিশ্চিত করে রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা।

ভ্যানকুভারে ম্যাচজুড়েই দুই দলের ফরোয়ার্ডদের হতাশ করেছেন দুই গোলরক্ষক। ম্যাচের ২১ মিনিটে প্রথম নিশ্চিত গোলের সুযোগ পায় কলম্বিয়া। বক্সের সামনে ডান দিকের উপরের কোণা থেকে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নিচ্ছিলেন গুস্তাভো পুয়ের্তা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাজপাখির মতো লাফিয়ে বল বাইরে ঠেলে দেন সুইস গোলকিপার গ্রেগর কোবেল।

প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির পর গুছিয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ৩১ মিনিটে কামিলো ভারগাসের ‘সুপার সেভে’ গোলবঞ্চিত হয় তারা। সুবিধাজনক স্থানে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাম দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন সুইস উইঙ্গার ফ্যাবিয়ান রাইডার। কলম্বিয়ান গোলরক্ষক ভারগাসের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে শট নিলেও তা দারুণভাবে প্রতিহত করেন ভারগাস।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫১ মিনিটে আবারও সুযোগ হারায় সুইজারল্যান্ড। ২০ গজ দূরে রাইডার সানচেজের ট্যাকলে পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়িয়ে জোরাল শট নেন, কিন্তু বল সাইড-নেটে লাগলে উল্লাসে মাতা হয়নি সুইসদের। পিছিয়ে ছিল না কলম্বিয়াও। ৬৩ মিনিটে কাছের পোস্ট ফাঁকা পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে (৯১ মিনিটে) ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডয়ে। ম্যানুয়েল আকানজির থ্রু বল ধরে তার নেওয়া শটটি গোলপোস্টের একদম সামনে দিয়ে বাইরে চলে যায়।

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ১০১ মিনিটে কলম্বিয়ার কাম্পাজের নিচু শট ভলিবলের মতো ঘুষি মেরে ঠেকান কোবেল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে স্নায়ু ধরে রেখে শেষ আটের টিকিট কেটে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।