• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

৫ নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

বাসস
৫ নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবের কারণে দ্বীপ জেলা ভোলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করেছে। মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

মঙ্গলবার সকালে থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন অবস্থায় থেমে থেমে হালকা থেকে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর ও নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় ভোলা-মনপুরা-হাকিমুদ্দনসহ ৫টি নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলায় ৫৩.৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান ভোলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান। 

এদিকে অতি জোয়ার ও নদী উত্তাল থাকায় মেঘনা নদীতে জেলে নৌকার পাশাপাশি লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন নদী এলাকার জেলেরা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) প্রকৌশলী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাসানুজ্জামান বাসস'কে বলেন, তাদের সবশেষে পর্যবেক্ষণে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বাসস'কে জানিয়েছেন, সমুদ্রে ৩ নম্বর ও নৌবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হওয়ায় ভোলা জেলার মনপুরা-হাকিমুদ্দিনসহ অভ্যন্তরীণ ৫টি নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকেল সোয়া ৪টা নাগাদ জেলাব্যাপী ভারী ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া বইছিল।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা

নেপালের জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান গুনাকর ভট্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাঠমাণ্ডুতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গুনাকর ভট্টের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উভয় পক্ষ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সংযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ ছাড়া, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং উভয় দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিভিন্ন উপায় ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষা‌তে বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি থেকে সুষ্ঠু উত্তরণ নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিপাক্ষিক অংশীদারি আরো গভীরতর করা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
 

স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে উদ্যোক্তা উন্নয়নের পথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শুধু বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমে জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের যৌথ আলোচনা ও নীতিগত সংলাপ ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।’

তিনি স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি কার্যকর ও দূরদর্শী পরামর্শমূলক জোট গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দেশে দক্ষ উদ্যোক্তা, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসরকারি হাসপাতাল এবং শক্তিশালী ওষুধ শিল্প রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতাকে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে আরো সমন্বিতভাবে যুক্ত করতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন বা এপিআই খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা এবং পৃথক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি উৎপাদনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় একটি অংশ জনগণকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়, যা বিশ্বের অন্যতম উচ্চ হার। এই ব্যয় কমিয়ে আনতে এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

স্বাস্থ্যসেবাকে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত নীতিসহায়তা ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধি। তাই স্বাস্থ্য খাতেও উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাবৃত্তিকে উৎসাহিত করা হবে।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকারের নীতিগত সহায়তা, দক্ষ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন সম্ভব হবে। এর ফলে জনগণের দোরগোড়ায় আরো সহজে ও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।’

ক্যান্সার আক্রান্ত সন্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুলাই শহীদের মায়ের সাক্ষাৎ

অনলাইন ডেস্ক
ক্যান্সার আক্রান্ত সন্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জুলাই শহীদের মায়ের সাক্ষাৎ
ক্যান্সার আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা। ছবি : পিএমও বাংলাদেশ

ক্যান্সার আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ক্যান্সার আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ফাতেমা তুজ জোহরাকে একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ফাতেমা তুজ জোহরার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ। এর দুই সপ্তাহ পর তার ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সাত মাস পর তিনি স্বামীকেও হারান।

স্বামী ও এক সন্তানকে হারানোর পাশাপাশি ক্যান্সারে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। সে সময় বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান পরিবারটির পাশে দাঁড়ান এবং জিসানের চিকিৎসার সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন।

তৎকালীন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে জিসানের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জনাব তারেক রহমান নিয়মিত জিসানের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন। তার তত্ত্বাবধানেই এখন পর্যন্ত জিসানের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।