• ই-পেপার

বয়স যাচাইয়ে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

এআই ডিজাইনে গুরুত্ব বাড়াতে পুরনো সফটওয়্যার বন্ধ করছে সিনপসিস

অনলাইন ডেস্ক
এআই ডিজাইনে গুরুত্ব বাড়াতে পুরনো সফটওয়্যার বন্ধ করছে সিনপসিস
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার নির্মাতা সিনপসিস চিপ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু পুরনো সফটওয়্যার বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। এর পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি এআইভিত্তিক চিপ ডিজাইন প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করতে চায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স, কিওক্সিয়া ও কোরভোসহ ১০টির বেশি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সিনপসিস।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব সফটওয়্যারের নতুন সংস্করণ আর বাজারে আনা হবে না। তবে আগের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সেবা চালু থাকবে।

বন্ধ হতে যাওয়া সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে ইকুইপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেম এবং ফল্ট ডিটেকশন অ্যান্ড ক্লাসিফিকেশন। এগুলো চিপ কারখানার যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষণ করে এবং উৎপাদনে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

রয়টার্সের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সিনপসিস ইতোমধ্যে কয়েক ডজন কর্মী ছাঁটাই করেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

সিনপসিসের এক মুখপাত্র বলেন, পুরোনো কিছু পণ্য বন্ধ করে বেশি মূল্য সংযোজনকারী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্রাহকদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চিপ শিল্পে এখন এআইভিত্তিক ডিজাইন প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই অনেক সফটওয়্যার কোম্পানি এই খাতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, বড় কিছু চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যারও তৈরি করছে।

এদিকে স্যামসাং জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ফলে সিনপসিসের এ সিদ্ধান্তে তাদের চিপ উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এআই চাহিদায় ১৯ গুণ বেড়েছে স্যামসাংয়ের মুনাফা, কমেছে শেয়ারদর

অনলাইন ডেস্ক
এআই চাহিদায় ১৯ গুণ বেড়েছে স্যামসাংয়ের মুনাফা, কমেছে শেয়ারদর
ছবিঃ রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তাদের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেড়েছে। তবে শক্তিশালী আর্থিক ফল প্রকাশের পরও কম্পানিটির শেয়ারদর বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপের দাম বেড়েছে, যা স্যামসাংয়ের মুনাফা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

স্যামসাংয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৮৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন উন (প্রায় ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। এক বছর আগে একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন উন (প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার) যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৮ হাজার ২৮৬ কোটি ৬২ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

একই সময়ে কম্পানির রাজস্ব প্রায় ১২৯ শতাংশ বেড়ে ১৭১ ট্রিলিয়ন উনে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ফলাফল বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তবে এত ভালো ফল প্রকাশের পরও মঙ্গলবার স্যামসাংয়ের শেয়ারদর একপর্যায়ে ১০ শতাংশের বেশি কমে যায় এবং লেনদেন শেষে প্রায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারও ৬ শতাংশ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে এআই ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগের গতি কমে গেলে মেমোরি চিপের চাহিদাও কমতে পারে। বিশেষ করে মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট (গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান)-এর মতো বড় প্রযুক্তি কম্পানিগুলো যদি এআই অবকাঠামোতে ব্যয় কমায়, তাহলে চিপ নির্মাতাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে স্যামসাং জানিয়েছে, মে মাসে করা বেতন চুক্তি অনুযায়ী সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের কর্মীদের জন্য বড় অঙ্কের বোনাসের অর্থও সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যয় না থাকলে কম্পানিটির পরিচালন মুনাফা ১০০ ট্রিলিয়ন উন ছাড়িয়ে যেতে পারত।

উল্লেখ্য, স্যামসাং আগামী ৩০ জুলাই দ্বিতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সেখানে বিভিন্ন ব্যবসা বিভাগের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট

অনলাইন ডেস্ক
৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট
ছবিঃ রয়টার্স

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যা থেকে ৪ হাজার ৮০০ জনকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গেমিং বিভাগ এক্সবক্স-এ বড় ধরনের পুনর্গঠন করছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাঁটাই হওয়া কর্মীর সংখ্যা মাইক্রোসফটের মোট বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে এক্সবক্স বিভাগে। এই বিভাগ থেকেই প্রায় ৩ হাজার ২০০ কর্মী চাকরি হারাবেন। এর মধ্যে সোমবারই ১ হাজার ৬০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

মাইক্রোসফট গত কয়েক বছরে এক্সবক্স ব্যবসা সম্প্রসারণে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। অ্যাকটিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণও ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ। তবে এত বিনিয়োগের পরও গেমিং বাজারে সনির প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাই ব্যবসাকে আরও লাভজনক করতে এই পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সবক্সের চারটি গেম স্টুডিও আলাদা করা হবে। এর মধ্যে কম্পালশন গেমস ও ডাবল ফাইন প্রোডাকশনস স্বাধীন স্টুডিও হিসেবে পরিচালিত হবে। আর নিনজা থিওরি ও আনডেড ল্যাবস নতুন কাঠামোয় পরিচালিত হবে।

ছাঁটাই নিয়ে কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় মাইক্রোসফটের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা অ্যামি কোলম্যান বলেন, এবার যেসব পদ বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোর জায়গায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নতুন কাউকে বসানো হচ্ছে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, এআই প্রযুক্তি কাজের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতে এবং ব্যবসাকে আরও কার্যকর করতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমানোর পথে হাঁটছে। চলতি বছর অ্যামাজন ও মেটাও হাজারো কর্মী ছাঁটাই করেছে।

এদিকে এআই সেবার চাহিদা বাড়ায় মাইক্রোসফটের অ্যাজুর ক্লাউড ব্যবসা ভালো করছে। তবে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও এআই অবকাঠামোতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। সে কারণেই ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসাকে আরও লাভজনক করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফিউশন প্রযুক্তিতে ৪১১ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ পেল প্রোক্সিমা

অনলাইন ডেস্ক
ফিউশন প্রযুক্তিতে ৪১১ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ পেল প্রোক্সিমা
ছবি ঃ রয়টার্স

প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান গুগল এবং জার্মানির বিদ্যুৎ কোম্পানি আরডব্লিউই ইউরোপের ফিউশন শক্তি–ভিত্তিক স্টার্টআপ প্রোক্সিমা ফিউশন–এ ৪১১ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা প্রায় বাংলাদেশি  ৫,৭৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জার্মানির মিউনিখভিত্তিক প্রোক্সিমা ফিউশন জানিয়েছে, এই অর্থায়ন পর্বে নেতৃত্ব দিয়েছে এক্সটিএক্স ভেঞ্চারস  এবং ইস্ট এক্স ভেঞ্চারস । কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে গুগল ও আরডব্লিউই।

এই বিনিয়োগের পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৩,৭৮০ কোটি টাকা)।

আরডব্লিউই একাই এই অর্থায়নে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করেছে যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৫১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রোক্সিমা ফিউশনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় জার্মানির বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের গুন্ডরেমিংগেন এলাকায় একটি পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থানে বিশ্বের প্রথম স্টেলারেটর ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করবে তারা।

প্রোক্সিমা ফিউশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকো সিওর্তিনো বলেন, “এই বিনিয়োগ প্রমাণ করে, ইউরোপ শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনই নয়, সেই প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে বিশ্বমানের কোম্পানিও গড়ে তুলতে পারে।”

ফিউশন শক্তি কী?

বর্তমানের বেশিরভাগ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভারী পরমাণু ভেঙে শক্তি উৎপাদন করা হয়। এতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়।

অন্যদিকে ফিউশন প্রযুক্তিতে সূর্যের মতো দুটি হালকা পরমাণুকে একত্র করে শক্তি উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। বিজ্ঞানীরা লেজার বা শক্তিশালী চুম্বকের সাহায্যে এই প্রক্রিয়া তৈরি করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির মতো দূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বা দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমস্যা থাকবে না।