প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান গুগল এবং জার্মানির বিদ্যুৎ কোম্পানি আরডব্লিউই ইউরোপের ফিউশন শক্তি–ভিত্তিক স্টার্টআপ প্রোক্সিমা ফিউশন–এ ৪১১ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা প্রায় বাংলাদেশি ৫,৭৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জার্মানির মিউনিখভিত্তিক প্রোক্সিমা ফিউশন জানিয়েছে, এই অর্থায়ন পর্বে নেতৃত্ব দিয়েছে এক্সটিএক্স ভেঞ্চারস এবং ইস্ট এক্স ভেঞ্চারস । কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে গুগল ও আরডব্লিউই।
এই বিনিয়োগের পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৩,৭৮০ কোটি টাকা)।
আরডব্লিউই একাই এই অর্থায়নে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করেছে যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৫১ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রোক্সিমা ফিউশনের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় জার্মানির বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের গুন্ডরেমিংগেন এলাকায় একটি পুরোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থানে বিশ্বের প্রথম স্টেলারেটর ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করবে তারা।
প্রোক্সিমা ফিউশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকো সিওর্তিনো বলেন, “এই বিনিয়োগ প্রমাণ করে, ইউরোপ শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনই নয়, সেই প্রযুক্তিকে ভিত্তি করে বিশ্বমানের কোম্পানিও গড়ে তুলতে পারে।”
ফিউশন শক্তি কী?
বর্তমানের বেশিরভাগ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভারী পরমাণু ভেঙে শক্তি উৎপাদন করা হয়। এতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়।
অন্যদিকে ফিউশন প্রযুক্তিতে সূর্যের মতো দুটি হালকা পরমাণুকে একত্র করে শক্তি উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। বিজ্ঞানীরা লেজার বা শক্তিশালী চুম্বকের সাহায্যে এই প্রক্রিয়া তৈরি করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির মতো দূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বা দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের সমস্যা থাকবে না।




