ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইস্যুকৃত ২৬টি সরকারি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টার ফয়েল (মুড়ি) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ে ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে চেকের টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানেও পরিবর্তন আনা হয়। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে হিসাব পর্যালোচনার সময় অনিয়মটি ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল এবং অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলামকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। পরে তাঁদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, পার্থ সারথী পাল বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। এর আগে তিনি ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এমন একটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। একই বছরের মার্চ মাসে পার্থ সারথী পাল ছাগলনাইয়া উপজেলায় বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গত বছরের মে মাসে উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে সংঘটিত রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান জালিয়াতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত পার্থ সারথী পালের বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে। নূর ইসলামের বাড়ি ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামে এবং মো. ফিরোজের বাড়ি পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে।
সম্প্রতি ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি হয়েছেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে হিসাব পর্যালোচনার সময়ই অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।
ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই অপরাধ স্বীকার করেছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম জানান, আমি সম্প্রতি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি হওয়ার প্রাক্কালে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে হিসাব পর্যালোচনার সময়ই তাদের চেক জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায় করা হয়েছে।




