• ই-পেপার

বরগুনায় সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে পর্যটক নিখোঁজ

ঋণের চাপে আত্মগোপন, সাজালেন অপহরণের নাটক

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ঋণের চাপে আত্মগোপন, সাজালেন অপহরণের নাটক
উদ্ধার হওয়া মো. রাশেদুল আলম। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিখোঁজ ডায়েরির পর মো. রাশেদুল আলম (৩৮) নামের এক যুবককে রাঙ্গুনিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি মো. রাশেদুল আলম (৩৮)। তিনি হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের মনিয়া পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে কয়েকদিন আগে রাশেদুল আলম আত্মগোপনে চলে যান এবং অপহরণের নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। পরে গত ১ জুলাই তার স্ত্রী রীনা আক্তার স্বামী নিখোঁজ ও অপহৃত হয়েছেন দাবি করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোরে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে রাশেদুল আলমকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম স্বীকার করেন, ঋণের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানান, নিখোঁজ ডায়েরির তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঋণের কারণে আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজানোর কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসী অংশ নেয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, পরকীয়ার কারণে এক সহকারী শিক্ষকের সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তিনি পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার সংসার ভেঙে গেছে এবং তিনি নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২ জুলাই ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ ও সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই ঘটনার পর দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়।

নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ, চার ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ, চার ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সদর উপজেলার কুতুবপুর, ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের নির্ধারিত কয়েকটি এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি আহ্বান করেছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক ও সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা রায়হান কবির স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ ও সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩-এর ধারা ৫ অনুযায়ী সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে পরামর্শ ও আপত্তি আহ্বান করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো এলাকা এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সস্তাপুর ও আশপাশের এলাকা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ইসদাইর, চাঁদমারী ও সংলগ্ন এলাকাও নাসিকের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাও সিটি করপোরেশনের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, প্রস্তাবিত সীমানা সম্প্রসারণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের কোনো পরামর্শ বা আপত্তি থাকলে তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময় শেষে প্রাপ্ত আপত্তিগুলোর বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এনসিপির পদযাত্রায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ আসামি রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনসিপির পদযাত্রায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ আসামি রিমান্ডে
ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার এসআই মো. বাহাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার উপপরিদর্শক মো. শাখাওয়াত ইমতিয়াজ আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামিরা হলেন সাবেক যুবলীগ নেতা মো. নুরুল ইসলাম (৫২) ও যুবলীগকর্মী মো. সজিব (৩২)।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, গ্রেপ্তারের সময় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের বাসা থেকে আটক করা হয়। তখন তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।

আইনজীবীরা আরো দাবি করেন, তৃতীয় পক্ষের উসকানি ও স্থানীয় শত্রুতার জেরে তাদের এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তবে এর সঙ্গে আসামিদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ জুলাই রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে মঞ্চের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন, তাদের মধ্যে দুই সাংবাদিকও রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের টিনের কৌটার অংশ, লাল স্কচটেপ, তারপিন ও বালুমাটি জব্দ করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি সমাবেশ শুরুর আগে এবং চলাকালে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পরিকল্পনা, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, সম্ভাব্য বিস্ফোরক উদ্ধার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।