• ই-পেপার

গোপনে বিয়ে করেছিলেন সিয়া-চেতন

ইসরায়েলি বাধা

গাজায় দেড় হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় দেড় হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু
রয়টার্স ছবি

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাধায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দেড় হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ‘চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতির’ মধ্যে কাজ করছে। আমরা প্রতিদিনই রোগী হারাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, দখলদার বাহিনী আজ পর্যন্ত যে চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি, তার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে কিডনি রোগীদের ৫০ শতাংশেরও বেশি মারা গেছে।

আল-বারশ দাবি করেন, চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশে ইসরায়েলি বাধা অব্যাহত থাকায় সংকট আরো তীব্র হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত সেবার অভাবে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম আইন জারি করা দেশেও বয়স যাচাইয়ে ব্যর্থ

অনলাইন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম আইন জারি করা দেশেও বয়স যাচাইয়ে ব্যর্থ
সংগৃহীত ছবি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিশ্বের প্রথম আইন কার্যকর করা দেশ অস্ট্রেলিয়া। এ দেশে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর হলেও ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের প্রাথমিক ধাপেই বড় ধরনের দুর্বলতা ধরা পড়েছে। ফলে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরামর্শ দেওয়া গবেষক দলের পরিচালিত ওই গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আইন কার্যকরের পর খোলা ৫০টি পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টের একটিতেও বয়সের প্রমাণ চাওয়া হয়নি। যদিও সব অ্যাকাউন্টেই ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল।

গত ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া আইনে ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খুলতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করতে ‘যৌক্তিক ব্যবস্থা’ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকার একাধিক পদ্ধতিতে বয়স যাচাইয়ের সুপারিশ করেছে।

তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী এখনো সহজেই এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে অস্ট্রেলিয়া আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।

২০২৫ সালে এক হাজারের বেশি অস্ট্রেলিয়ানের ওপর বয়স যাচাই প্রযুক্তি পরীক্ষা চালানো প্রতিষ্ঠান কেজেআরের পরিচালক অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের বয়স প্রমাণ করতে বলা উচিত ছিল। কিন্তু একবারও আমাদের বয়স যাচাই বা কোনো বয়স নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে বলা হয়নি।’

গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টগুলো মেটার ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউবসহ বয়সসীমার আওতাভুক্ত ১০টির মধ্যে ৯টি প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় রয়েছে।

এ বিষয়ে হ্যামন্ড জানান, কিছু অ্যাকাউন্টে কিশোরদের জন্য ব্যাংকিং সেবার বিজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা যায় প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য বয়স সম্পর্কে ধারণা করেছিল।

এদিকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ১৬ বছর বয়স উল্লেখ করে খোলা একটি পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টও দেখানো হয়েছে।

তবে ব্যবহারকারী যদি সরাসরি নিজের বয়স ১৬ বছরের নিচে উল্লেখ করেন, তাহলে কোনো প্ল্যাটফর্মই তাকে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি। একমাত্র অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘কিক’ বয়সের প্রমাণ ছাড়া অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি।

স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গুগল ও এক্স কোনো জবাব দেয়নি।

মেটার এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘পরীক্ষামূলক এই গবেষণাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ, কোনো ব্যবহারকারীর আচরণে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ইঙ্গিত মিললে বা অ্যাকাউন্টটি রিপোর্ট হলে তখনই আনুষ্ঠানিক বয়স যাচাইয়ের ধাপে যাওয়ার কথা।’

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা এখনো বিশ্বাস করে যে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে গবেষণার উপদেষ্টারা বলছেন, শুরু থেকেই তারা সতর্ক করেছিলেন যে বাস্তবে শিশু-কিশোররা ভুয়া জন্মতারিখ ব্যবহার করে সহজেই নিয়ম এড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই বিষয়টি পরীক্ষার আওতায় আনা হয়নি।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের অস্ট্রেলিয়া প্রধান কোলম গ্যানন বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়ে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বারবার বলা হয়েছিল, এটি গবেষণার অংশ নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে নিয়ম ফাঁকি দেওয়াই কিশোরদের প্রধান উপায় হয়ে উঠেছে।’

অন্যদিকে যুব ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞ আমান্ডা থার্ড রয়টার্সকে বলেন, ‘শুরুতে প্ল্যাটফর্মগুলো স্বঘোষিত অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার দিকে জোর দিচ্ছে। বছরের মাঝামাঝি থেকে আরও উন্নত বয়স অনুমান প্রযুক্তি চালু হলে ভবিষ্যতে ফল আরও কার্যকর হতে পারে।’

ইন্দোনেশিয়াকে বহুমাত্রিক ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ভারত

অনলাইন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়াকে বহুমাত্রিক ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ভারত
রয়টার্স ছবি

বহুমাত্রিক উৎক্ষেপণ করা বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ এবং আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘অ্যাস্ট্রা’ ইন্দোনেশিয়াকে সরবরাহ করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানী জাকার্তা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় এক সরকারি কর্মকর্তা।

ভারতীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রায় ৬৩ কোটি মার্কিন ডলারের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মোদির দুই দিনের ইন্দোনেশিয়া সফরেই সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস প্রাইভেট লিমিটেডের নির্মিত ‘ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র’ কেনা তৃতীয় দেশ হবে ইন্দোনেশিয়া। এর আগে ভারত থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েছিল ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এ সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে বড় অগ্রগতি এনে দেবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করবে। 

ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রার দৌরাত্ম্য কত?

ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ব্রহ্মোস’ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়।

অন্যদিকে অ্যাস্ট্রা হলো দৃষ্টিসীমার বাইরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। যেটি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর রুশ নির্মিত ‘সুখোই যুদ্ধবিমানে’ সংযুক্ত করাও সম্ভব।

এর আগে মার্চ মাসে ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছিল, তারা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তখন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, চুক্তিটির সম্ভাব্য মূল্য ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে ৪ দিনের সংঘাতে প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্রহ্মোস ব্যবহার করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে জাকার্তা সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

2

ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

সফরের আগে মোদি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি, ইন্দো-প্যাসিফিকে অবাধ, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অঞ্চল গড়ে তোলার অঙ্গীকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করবে।

প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে উসকানি বলা ভুল : তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে উসকানি বলা ভুল : তাইওয়ানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা
ছবি : রয়টার্স

তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, সম্ভাব্য চীনা হামলা মোকাবেলায় দেশটির প্রস্তুতি কোনো উসকানি নয়। বরং তাইওয়ানের জনগণের উচিত চীনের হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং এখন থেকেই প্রস্তুত থাকা।

চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটিকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও কখনো নাকচ করেনি। এদিকে চীনা সামরিক বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আশপাশের আকাশ ও সমুদ্র এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে, যা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

চীনের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান। সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় দেশটির সরকার সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে এবং নিয়মিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা মহড়া চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে এই উদ্যোগকে ‘সমগ্র সমাজের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির’ কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেন।

তাইপেতে এক অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-মহাসচিব লিন ফেই ফান বলেন, চীনের বিপুল সামরিক ব্যয় এবং তাইওয়ানের আশপাশে চলমান সামরিক তৎপরতা বাস্তব হুমকি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে উসকানি হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই, চীনের এসব প্রস্তুতির লক্ষ্য একটাই, সামরিক আগ্রাসন এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা।’

এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। বেইজিং নিয়মিতই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য দায়ী করে এবং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে আখ্যা দেয়। চীনের দাবি, তাদের সামরিক তৎপরতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য।

তবে তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-মহাসচিব লিন ফেই ফান বলেন, বেইজিংয়ের কর্মকাণ্ড তাইপের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, ‘যে দেশ বলে প্রণালির দুই পাশের মানুষ একই পরিবারের, তাদের তাইওয়ান প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট পরীক্ষা চালানোর প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।’

লিন আরো বলেন, ‘তাইওয়ান আজ পর্যন্ত একটি বিমান বা একটি যুদ্ধজাহাজও চীনের আকাশসীমা বা জলসীমায় পাঠায়নি। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে অন্য কেউ নয়, চীনই।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য জনগণকে প্রস্তুত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইউক্রেনের যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে তাইওয়ানে এমন কিছু ঘটতে পারে না, এমন ধারণা করা ভুল হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। লিন ফেই-ফান বলেন, ‘আমরা যদি আজ প্রস্তুতি না নিই, তাহলে আগামীকাল হঠাৎ করে শক্তি অর্জন করা সম্ভব হবে না। আমরা যদি আজ মহড়া না করি, তাহলে কোনো সংকট দেখা দিলে সবচেয়ে মৌলিক করণীয় কী, সেটিও হয়তো জানব না।’

তিনি বলেন, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও চাপ প্রয়োগের নীতি পরিত্যাগ করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। লিনের ভাষায়, ‘কিন্তু তাইওয়ান যদি এখন নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তাহলে বিশ্বের মানচিত্রে আর তাইওয়ান বলে কিছু থাকবে না।’