• ই-পেপার

১৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা বলছে বোর্ড

বাকৃবিতে শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এক শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজিবুল হক আবিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক ও ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম।

অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় ফার্মাকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী তার ভর্তিজনিত কিছু ত্রুটির কারণে আমার চেম্বারে আসেন। সেসময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকৃবি শাখা ছাত্রদল নেতা নাজিবুল হক আবিদও আসেন। ভর্তিসংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে বলতে নাজিব আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। গালাগাল, হেনস্তা করা থেকে শুরু করে হুমকি দেওয়াও শুরু করেন। মৌখিকভাবে সর্বপ্রকারে আমাকে হেনস্তা করেছেন।’

অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম আরো বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমি উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি। আমি এটির যথাযথ বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. নাজিবুল হক আবিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগের জুনিয়র এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ভর্তিজনিত ত্রুটি নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে যাই। ওই শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ করেছেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন। এরপরে সর্বশেষ থিসিস সেমিস্টারে গিয়ে কিছুদিন আগে তাকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটি থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে যে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ পাঠানো হয়নি। সিজিপিএ-৪ রেজাল্ট করা মেধাবী একজন ছাত্রকে দুই সেমিস্টার পার করার পরে হুট করে ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তার সঙ্গে এটি গুরুতর অন্যায় করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমি স্যারের সঙ্গে ন্যায়সংগত কথা বলেছি।’

শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে আমি জোরালোভাবে কথা বলেছি এবং ন্যায়সংগত কথা জোরালোভাবেই বলা উচিত। বিভিন্ন মানুষ এটিকে বিভিন্নভাবে নিতে পারে। আমরা তাকেই হুমকি দিতে পারব যিনি হাসিনার মতো স্বৈরাচার। ন্যায়ের পক্ষে থাকা মানুষকে আমরা কখনো হুমকি দেব না। জোরালোভাবে কথা বলাকে উনি হুমকি মনে করছেন।’

ঘটনার বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘ছাত্রদলের কেউ যদি অসাংগঠনিক কোনো কাজ করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাজিবুল হক আবিদ নামে ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না, ছাত্রজীবনও শেষ। তিনি তার বিভাগের বড় ভাই হিসেবে তার জন্য একটি দাবি নিয়ে স্যারের কাছে গেছেন। তবে একজন শিক্ষকের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছেন সেটি অবশ্যই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অন্যায় করেছেন। আমরা সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে সেই ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

পুরনো প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
পুরনো প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রে পুরনো প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথমপত্র এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্রসচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা শিক্ষকরা হলেন সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল, অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। কেন্দ্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান। তবে বিষয়টি গোপন রাখতে তানোর কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ২ জুলাই এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ৭ জনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন তানোর কলেজের শিক্ষকরা। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে জানা জানি হলে ওই কলেজের শিক্ষকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের চাপ সৃষ্টি করেন।

কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা যাতে কারো কাছে না বলি বা অভিযোগ না করি সে জন্য তানোর কলেজের শিক্ষক মাসিন্দা গ্রামের মামুন স্যার আমাদের শাসিয়েছেন। নিজেদের শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে অবশেষে আমরা তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই।’

সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হয়েছে। আমাকে কেন্দ্রসচিব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্র সচিব দেওয়া হয়েছে।’

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। রবিবার শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে কলেজের (অধ্যক্ষ) কেন্দ্রসচিব এবং কক্ষ পরিদর্শক দুজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সমস্য যেন না হয়, সে জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

ক্যাম্পাসে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আটক

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
ক্যাম্পাসে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে গাঁজা সেবনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এর ১২তম তলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক সোহরাব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার নলদাহ এলাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাবায়, একই অভিযোগে এর আগেও ওই শিক্ষার্থীকে দুইবার আটক করা হয়। তবে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ।

আটকের পর সোহরাব আলী বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে আমার ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসি। আমি ভালো গান করি, তাই মাঝে মাঝে একটু গাঁজা সেবন করি। আমি কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে আর এমন করব না।’

‎আনসার সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে ফোনে খবর পাই যে একাডেমিক ভবন-২-এর ১২তম তলায় একজন গাঁজা সেবন করছেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি।’

‎এ বিষয়ে সোহরাব আলীর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তাকে আমরা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। বেশ কিছুদিন ধরে সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে। অনেক বোঝানোর পরও তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখতে পারিনি। সে মানসিকভাবে অসুস্থ, যার কারণে এমন আচরণ করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক বলেন, ‘আমরা মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন করব। মাদক সেবনে নিরুৎসাহিত করব। যাতে কেউ ক্যাম্পাসে মাদক সেবন না করেন সে বিষয়ে শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান করব। পরবর্তীতে বহিরাগত কেউ এটা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

চলমান এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ, পাঠানো ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে আন্ত শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্ত শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা নির্দেশনা পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ, পরীক্ষা কক্ষে পাঠানো এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে, পরীক্ষার কক্ষে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো প্রশ্নপত্র দেওয়া যাবে না।

প্রশ্নপত্র বিতরণ শেষে অব্যবহৃত প্রশ্নপত্র তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র বা তার কোনো অংশ পরীক্ষা কক্ষের বাইরে নেওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা, কক্ষ পরিদর্শক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।