বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এক শিক্ষককে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজিবুল হক আবিদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক ও ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম।
অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় ফার্মাকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর এক শিক্ষার্থী তার ভর্তিজনিত কিছু ত্রুটির কারণে আমার চেম্বারে আসেন। সেসময় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকৃবি শাখা ছাত্রদল নেতা নাজিবুল হক আবিদও আসেন। ভর্তিসংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে কথা বলতে বলতে নাজিব আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। গালাগাল, হেনস্তা করা থেকে শুরু করে হুমকি দেওয়াও শুরু করেন। মৌখিকভাবে সর্বপ্রকারে আমাকে হেনস্তা করেছেন।’
অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম আরো বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমি উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি। আমি এটির যথাযথ বিচার দাবি করছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. নাজিবুল হক আবিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগের জুনিয়র এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ভর্তিজনিত ত্রুটি নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে যাই। ওই শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ করেছেন এবং পরীক্ষার ফলাফলে সিজিপিএ-৪ পেয়েছেন। এরপরে সর্বশেষ থিসিস সেমিস্টারে গিয়ে কিছুদিন আগে তাকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটি থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে যে তার ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তাকে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা নোটিশ পাঠানো হয়নি। সিজিপিএ-৪ রেজাল্ট করা মেধাবী একজন ছাত্রকে দুই সেমিস্টার পার করার পরে হুট করে ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। তার সঙ্গে এটি গুরুতর অন্যায় করা হয়েছে বলে আমি মনে করছি এবং এই বিষয়টি নিয়ে আমি স্যারের সঙ্গে ন্যায়সংগত কথা বলেছি।’
শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ন্যায়ের পক্ষে আমি জোরালোভাবে কথা বলেছি এবং ন্যায়সংগত কথা জোরালোভাবেই বলা উচিত। বিভিন্ন মানুষ এটিকে বিভিন্নভাবে নিতে পারে। আমরা তাকেই হুমকি দিতে পারব যিনি হাসিনার মতো স্বৈরাচার। ন্যায়ের পক্ষে থাকা মানুষকে আমরা কখনো হুমকি দেব না। জোরালোভাবে কথা বলাকে উনি হুমকি মনে করছেন।’
ঘটনার বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জানান, ‘ছাত্রদলের কেউ যদি অসাংগঠনিক কোনো কাজ করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাজিবুল হক আবিদ নামে ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না, ছাত্রজীবনও শেষ। তিনি তার বিভাগের বড় ভাই হিসেবে তার জন্য একটি দাবি নিয়ে স্যারের কাছে গেছেন। তবে একজন শিক্ষকের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করেছেন সেটি অবশ্যই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অন্যায় করেছেন। আমরা সাংগঠনিকভাবে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ বিষয়ে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে সেই ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’





