রাজশাহীর তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রে পুরনো প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথমপত্র এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্রসচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতিপ্রাপ্তরা শিক্ষকরা হলেন সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল, অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। কেন্দ্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান। তবে বিষয়টি গোপন রাখতে তানোর কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ৭ জনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন তানোর কলেজের শিক্ষকরা। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে জানা জানি হলে ওই কলেজের শিক্ষকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের চাপ সৃষ্টি করেন।
কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা যাতে কারো কাছে না বলি বা অভিযোগ না করি সে জন্য তানোর কলেজের শিক্ষক মাসিন্দা গ্রামের মামুন স্যার আমাদের শাসিয়েছেন। নিজেদের শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে অবশেষে আমরা তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই।’
সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হয়েছে। আমাকে কেন্দ্রসচিব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্র সচিব দেওয়া হয়েছে।’
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। রবিবার শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে কলেজের (অধ্যক্ষ) কেন্দ্রসচিব এবং কক্ষ পরিদর্শক দুজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সমস্য যেন না হয়, সে জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’






