• ই-পেপার

ক্যাম্পাসে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আটক

পুরনো প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
পুরনো প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা, কেন্দ্রসচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ কেন্দ্রে পুরনো প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথমপত্র এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়ায় কেন্দ্রসচিবসহ তিনজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির বিষয়টি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা শিক্ষকরা হলেন সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল, অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। কেন্দ্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান। তবে বিষয়টি গোপন রাখতে তানোর কলেজের শিক্ষকরা বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ২ জুলাই এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ৭ জনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন তানোর কলেজের শিক্ষকরা। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে জানা জানি হলে ওই কলেজের শিক্ষকরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীদের চাপ সৃষ্টি করেন।

কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দিয়ে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা যাতে কারো কাছে না বলি বা অভিযোগ না করি সে জন্য তানোর কলেজের শিক্ষক মাসিন্দা গ্রামের মামুন স্যার আমাদের শাসিয়েছেন। নিজেদের শিক্ষা জীবনের কথা ভেবে অবশেষে আমরা তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই।’

সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডে জানানো হয়েছে। আমাকে কেন্দ্রসচিব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্র সচিব দেওয়া হয়েছে।’

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের সভাপতি নাঈমা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। রবিবার শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ভুলক্রমে ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা নেওয়া এবং দায়িত্ব অবহেলার কারণে কলেজের (অধ্যক্ষ) কেন্দ্রসচিব এবং কক্ষ পরিদর্শক দুজন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে কোনো সমস্য যেন না হয়, সে জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

১৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা বলছে বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জেলায় বন্যার শঙ্কা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যা বলছে বোর্ড

দেশের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভারি বৃষ্টি এবং নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের ১৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এদিকে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমনা পরীক্ষা চলমান। আন্ত শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, কোনো অঞ্চলে বন্যা বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আন্ত শিক্ষা বোর্ড বলছে, এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘১৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে, এ বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। কোনো জেলায় বন্যা হলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

বোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষা বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের নিকটবর্তী স্থানে নিয়ে আসার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তবে কোনো জেলায় বন্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

গত ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এবার সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে গোপনীয়তা রক্ষায় নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

চলমান এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ, পাঠানো ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে আন্ত শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্ত শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা নির্দেশনা পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ, পরীক্ষা কক্ষে পাঠানো এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে, পরীক্ষার কক্ষে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো প্রশ্নপত্র দেওয়া যাবে না।

প্রশ্নপত্র বিতরণ শেষে অব্যবহৃত প্রশ্নপত্র তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র বা তার কোনো অংশ পরীক্ষা কক্ষের বাইরে নেওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা, কক্ষ পরিদর্শক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং নির্দেশনাসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে অধিদপ্তর। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্ধারিত ই-মেইলে এসব তথ্য পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের তথ্য (সংখ্যা) প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত ছকে তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

ছক অনুযায়ী, কতজন পুরুষ ও নারী প্রধান শিক্ষক এবং কতজন পুরুষ ও নারী সহকারী শিক্ষক বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে কারা দুই বছর পর্যন্ত এবং কারা দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনুপস্থিত, সেটিও পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।