• ই-পেপার

পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ

সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
সংগৃহীত ছবি

সময় মিডিয়া লিমিটেডের (সময় টিভি) বিজ্ঞাপন বিল বাবদ ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনার পরে এই আদেশ দেন। সময় টিভির সাবেক পরিচালক আহমেদ জোবায়ের বাদী হয়ে আদালতে এই নালিশি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের ওমেদার অঙ্কন মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

​এর আগে আসামিপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর না করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্ত নেন।

​মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অন্য আসামিরা হলেন সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান, সাবেক পরিচালক মোর্শেদুল ইসলাম, সাবেক হেড অব মার্কেটিং মো. আহসানুল ইসলাম এবং সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার (মার্কেটিং) আয়েশা সিদ্দিকা।

​মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ওই মাসের বিজ্ঞাপন বিল মওকুফের নোটিশ দেন। আসামিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা সময় টিভির আগস্ট মাসের বিজ্ঞাপন বিল বাবদ মোট ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা উত্তোলন করে কম্পানির হিসাব বিভাগে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে ই-মেইল মারফত অর্থ ও রসিদ বই ফেরত দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেননি। থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করায় বাদী আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে সমন জারি করেছিলেন। আজ নির্ধারিত দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এই আদেশ আসে।

জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার
সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ইকবাল বাহার। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমন গাজী নামে এক যুবককে হত্যার মামলায় সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ইকবাল বাহার, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুন্না ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পুলিশের পৃথক দুই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ীর থানায় উপপরিদর্শক এমাদুল করিম। 

আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণে সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহারের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানার অপর একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো একান্ত প্রয়োজন। 

এ ছাড়া একই মামলায় করা আরেক আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আসামি হারুনুর রশীদ মুন্না ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

আবেদনে বলা হয়, সরাসরি নির্দেশ ও মদদে মো. ইয়াছিন উদ্দিন ওরফে শুটার লিটন ইমন গাজীকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমন গাজীর মৃত্যু হয় বলে তদন্তে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। হারুনুর রশীদ মুন্না ও কাজী মনিরুল ইসলাম মনু পৃথক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন গাজী। এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

১৫ বছর আগের শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ বছর আগের শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১৫ বছর আগে শিশু মাহফুজকে (৮) অপহরণের পর হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তারা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় প্রায় দেড় মাস আটকের পর ওই বছরের ২০ আগস্ট রাতে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখেন আসামিরা।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল।

ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

এর আগে একই মামলায় দুই নাবালক আসামি মেহেদী ও সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক
এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা
সংগৃহীত ছবি

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

গতকাল সোমবার রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’

মামলার বাদী জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন। 

এ ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।