• ই-পেপার

আকুর দেনা শোধের পর রিজার্ভ ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার

চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য : মুক্তাদির

বাসস
চামড়া খাত থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের লক্ষ্য : মুক্তাদির

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া থেকে তৈরি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ তার চামড়াশিল্পের সম্ভাবনার মাত্র ০ দশমিক ২৬ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে উৎপাদন ও রপ্তানি ১২ থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে বিদেশি ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্স বা পরিবেশগত ও মান-সংক্রান্ত শর্ত কঠোর না থাকায় দেশের নন-কমপ্লায়েন্ট ট্যানারিগুলোও কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে কমপ্লায়েন্স একটি প্রধান শর্তে পরিণত হওয়ায় কাঁচা চামড়া রপ্তানি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) দক্ষ পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স মানদণ্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি, কারণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত অবকাঠামো এখনো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।’

মুক্তাদির বলেন, ‘এসব মানদণ্ড পূরণে সরকার সিইটিপিকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।’ তিনি জানান, ২৫ হাজার ঘনফুট পানি পরিশোধনের সক্ষমতা নিয়ে সিইটিপি স্থাপন করা হলেও বর্তমানে এটি ১৪ হাজার ঘনফুটের বেশি পানি পরিশোধন করতে সক্ষম নয়।

মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হলেও এলডব্লিউজি সনদের অভাবে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে চামড়া রপ্তানির জন্য এলডব্লিউজি সনদ একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। এই নিরীক্ষায় পরিবেশগত মান প্রতিপালন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা এবং পণ্যের উৎস শনাক্তযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়। ফলে প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের জন্য এ সনদ অর্জন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, দেশের চামড়া রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ২০০৯-১০ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি থেকে আয় ছিল ২২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা পাঁচ বছর পর বেড়ে ৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। কিন্তু এরপর থেকে রপ্তানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা নেমে আসে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরো কমে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চামড়া রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের।

জুলাইয়ের ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার

অনলাইন ডেস্ক
জুলাইয়ের ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় আট হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গতকাল (৬ জুলাই) রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

ফের কমল জেট ফুয়েলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
ফের কমল জেট ফুয়েলের দাম

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ জুন দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়েছিল। এ ছাড়া তখন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়।

সম্পত্তির হেবা দলিলে উৎসে কর থাকবে কি না, জানাল এনবিআর

অনলাইন ডেস্ক
সম্পত্তির হেবা দলিলে উৎসে কর থাকবে কি না, জানাল এনবিআর

সম্পত্তির হেবা (দান) দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে উৎসে কর নয়, শুধু দানকর প্রযোজ্য বলে স্পষ্ট করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন আয়কর আইন ও বিধিমালার ভাষাগত অস্পষ্টতা দূর করে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় সংস্থাটি।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত স্পষ্টীকরণে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১২৫ ধারা এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান রয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ১২৫ ধারায় নতুন উপধারা (২ক) সংযোজন করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে দানকর ই-চালানের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাই সংগ্রহ করবেন।

এনবিআর বলেছে, এই বিধান শুধুমাত্র হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়। হেবা বা দানের ক্ষেত্রে দানকারীকে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে দানকর পরিশোধ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে না।

অন্যদিকে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর প্রযোজ্য নয়। এ ধরনের নিবন্ধনের সময় কেবল নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহ করা হবে বলে স্পষ্ট করেছে এনবিআর।

সম্পত্তি নিবন্ধনের আগে নির্ধারিত কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক করায় নতুন আয়কর আইন ও বিধিমালায় হেবা এবং দান দলিলে কর পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হেবা ও দানসংক্রান্ত জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থবিল-২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইনের ১২৫ ধারা সংশোধন এবং আয়কর বিধিমালা-২০২৬ জারির পর নতুন বিধানে কর আদায়ের বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হেবা বা দানের ক্ষেত্রে দানকরের পাশাপাশি উৎসে করও দিতে হবে কি না, তা পরিষ্কার না থাকায় নিবন্ধন কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।