• ই-পেপার

সম্পত্তির হেবা দলিলে উৎসে কর থাকবে কি না, জানাল এনবিআর

ফের কমল জেট ফুয়েলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
ফের কমল জেট ফুয়েলের দাম

উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ জুন দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়েছিল। এ ছাড়া তখন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়।

ঈদের দীর্ঘ ছুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ব্যয়ের চাপ উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদের দীর্ঘ ছুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া ও ব্যয়ের চাপ উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে
সংগৃহীত ছবি

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও জুন মাসে তার গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গতি হারিয়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে মে মাসের তুলনায় জুন মাসে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) বা ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক কিছুটা কমেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত বাংলাদেশ পিএমআইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদ্যসমাপ্ত জুন মাসে দেশের সামগ্রিক পিএমআই সূচক নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ৯ পয়েন্টে, যা মে মাসের তুলনায় কম। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, পিএমআই সূচক ৫০-এর ওপরে থাকার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট খাতে প্রবৃদ্ধি বা সম্প্রসারণ হচ্ছে। তবে মে মাসের চেয়ে সূচক কমে যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘ ঈদের ছুটি, ভারি বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়া, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন ক্রয়াদেশ বা অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমেছে। এর বড় ধাক্কা লেগেছে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে, যা আবারও সংকোচনের মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কৃষি ও সেবা খাত টানা সম্প্রসারণের ধারা বজায় রাখলেও উৎপাদন খাতে নতুন অর্ডার ও উৎপাদন কার্যক্রমের গতি কমে গেছে। এটি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নির্মাণ খাতেও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটির কারণে জুন মাসে অনেক কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন সীমিত ছিল। পাশাপাশি টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও নির্মাণকাজ ব্যাহত হয়েছে। এতে একদিকে উৎপাদন যেমন ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে সময় ও খরচ উভয়ই বেড়েছে।

উদ্বেগের বড় কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন লাগামহীন পরিচালন ব্যয়ের কথা। জ্বালানি, পরিবহন এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যবসার খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান মুনাফা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় বাজারে ভোক্তা চাহিদাও কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নতুন ক্রয়াদেশের (অর্ডার) ওপর।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পিএমআই সূচকের বর্তমান অবস্থান অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকার বার্তা দিলেও উৎপাদন ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে সতর্কতার সংকেত দিচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প ও নির্মাণ খাতের এই দুর্বলতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা দেশের কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশ্য এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দেশের ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে যদি জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা পাওয়া যায়, তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও পুরোদমে গতি পাবে। ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকেও এই ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অর্থনীতির গতি ফেরাতে সবচেয়ে জরুরি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক মহলের কাছে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয় এই পিএমআই সূচক। জুনের তথ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের অর্থনীতি এখনো সম্প্রসারণের ধারায় থাকলেও, এই গতি ধরে রাখতে শিল্প ও নির্মাণ খাতে অবিলম্বে নতুন উদ্দীপনা ও নীতিগত নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (০৭ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো : ১৪০ টাকা ৫৪ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৪৯ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৪৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ৪০ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৮ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ০৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২০ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৫ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭১ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৭ টাকা ১৪ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

ঐতিহাসিক মাইলফলকে বাংলাদেশ, স্টারলিংককে ট্রানজিট হাবের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
ঐতিহাসিক মাইলফলকে বাংলাদেশ, স্টারলিংককে ট্রানজিট হাবের অনুমোদন

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্টারলিংক’-কে বাংলাদেশে গ্রাউন্ড স্টেশন ও ট্রানজিট হাব নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন থেকে স্টারলিংকের দক্ষিণ এশীয় হাব বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা এত দিন সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

এই অনুমোদনের ফলে স্টারলিংক তাদের উন্নত টেলিকম অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘অপরিশোধিত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ’ রপ্তানি করতে পারবে। এই প্রথম বাংলাদেশ কোনো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কম্পানিকে অন্য দেশে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিক বহনের অনুমতি দিল।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) একটি ৩ বছরের চুক্তির আওতায় স্টারলিংকের ব্যান্ডউইথের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে। যদি বিএসসিসিএল চাহিদা মেটাতে না পারে, তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস এবং ফাইবার@হোম থেকেও ব্যান্ডউইথ নিতে পারবে স্টারলিংক।

আন্তর্জাতিক বাজারে যে ইন্টারনেট রপ্তানি করা হবে, তা কোনো সরকারি নজরদারি, ফায়ারওয়াল বা ফিল্টারিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাবে না। একেই বলে ‘আনফিল্টার্ড ইন্টারনেট’। বিশ্বের যেসব দেশ আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ কেনে, তারা সাধারণত দ্রুতগতি এবং নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য সরাসরি ও আনফিল্টারড সংযোগ পছন্দ করে। বাংলাদেশ এই সুবিধা দেওয়ায় স্টারলিংক সিঙ্গাপুরের বদলে বাংলাদেশকে তাদের দক্ষিণ এশীয় ট্রানজিট হাব হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট আনফিল্টার্ড থাকলেও, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বিদ্যমান নিয়মের আওতাধীন থাকবে। 

দীর্ঘ কারিগরি পর্যালোচনার পর বিটিআরসি স্টারলিংককে কড়া নির্দেশ দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক ও দেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা ও বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। এই নিয়মের ফলে রপ্তানি করা ব্যান্ডউইথ দিয়ে শুধু বিদেশের গ্রাহকরা ইন্টারনেট পাবেন এবং দেশে থাকা কোনো নাগরিক বা বিদেশি পর্যটক এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন না; পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরের ব্যবহারকারীদের ডাটা বা ইন্টারনেট আগের মতোই সরকারি ফিল্টারিং ও নজরদারির মধ্য দিয়ে যাবে। স্টারলিংক ইতিমধ্যেই সরকারের এসব শর্ত মেনে প্রযুক্তিগত নথিপত্র ও মনিটরিং সিস্টেম বিটিআরসির কাছে জমা দিয়েছে, যার মাধ্যমে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এক লাফে অনেক উঁচুতে পৌঁছে গেল।