• ই-পেপার

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড

টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি শতশত পরিবার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি শতশত পরিবার
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, ব্যাহত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ওয়াহেদপুর, পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক বাড়িঘর, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, রিকশা-ভ্যানচালক, সিএনজিচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কাজ না থাকায় অনেক পরিবার আয়-রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে পুরো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শত শত মানুষ এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

একই ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আগেই রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ ছিল। টানা বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢলে সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে।’

রিকশাচালক ফকির আহম্মদ বলেন, ‘তিন দিন ধরে ঠিকমতো আয় নেই, যাত্রীও কম। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই বৃষ্টির মধ্যে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।

মিঠাছরা বাজারের ভ্যানচালক আলী মিয়া বলেন, ‘তিন দিন ঘরে ছিলাম। ঘরে চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ বের হয়েছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোনো ভাড়া পাচ্ছি না।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে আউশ ধানের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে উপজেলার কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টি কমে গেলে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, সেসব এলাকার তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।’

মিরসরাইয়ে পরিত্যক্ত কারখানার গার্ডরুম থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে পরিত্যক্ত কারখানার গার্ডরুম থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া মির্জাপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত বিস্কিট কারখানার গার্ডরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগরের বিশ্বকলোনী এলাকার সাহেব আলীর ছেলে। তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সকালে কারখানার পাহারাদার গার্ডরুমে উঁকি দিয়ে একজনকে অস্বাভাবিকভাবে অর্ধবসা অবস্থায় দেখতে পান। কাছে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ আরো জানায়, আমিনুল ইসলাম কিভাবে ওই পরিত্যক্ত কারখানায় পৌঁছেছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারৈয়াঢালা রেঞ্জের আওতাধীন সব পাহাড়ি ঝরনায় আগামী তিন দিনের জন্য পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে খৈয়াছড়া, সহস্রধারা, নাপিত্তাছড়া, সোনাইছড়া, রূপসী ও বাওয়াছড়া ঝরনাসহ বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত সব পর্যটনকেন্দ্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন কোনো ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ সময় সব ধরনের টিকিট বিক্রিও বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ জানায়, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ঢল, পাহাড়ধস এবং ঝরনাগুলোতে পানির তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের ইজারাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো পর্যটককে ঝরনায় প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না এবং কোনো ধরনের টিকিট বিক্রি করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঝরনাগুলোতে পানির স্রোত অত্যন্ত প্রবল। এ সময়ে সেখানে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, প্রতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ঝরনায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এবারও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ঝরনাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ।

ফতুল্লায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীকে কুপিয়ে জখম

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
ফতুল্লায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীকে কুপিয়ে জখম
ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদী ওমর খৈয়ামকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় জাহিদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোরকা পরিহিত জাহিদ সাত থেকে আটজন মুখোশধারী সহযোগীকে নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় ওমর খৈয়ামের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহিদ এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে বাধা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া এবং পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ছুরিকাঘাত করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত জাহিদকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চলছে। তিনি বিভিন্ন সময় বোরকা পরে আত্মগোপনে চলাফেরা করেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছু সময় পর ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই মামলা প্রত্যাহার না করায় এবার তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।