যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদপত্র ডেইলি মেইলের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডের (এএনএল) বিরুদ্ধে করা মামলায় হেরে গেছেন রাজা তৃতীয় চার্লস ও প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার কনিষ্ঠ পুত্র প্রিন্স হ্যারি।
ফোন হ্যাকিং ও অবৈধ তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে করা এই মামলার রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতি নিকলিন বলেন, বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে সংশ্লিষ্ট সংবাদগুলো অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য বৈধভাবে সংগ্রহের বাস্তবসম্মত সুযোগ থাকলে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে সেটিকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, এই রায়কে ফোন হ্যাকিং কেলেঙ্কারি-সংক্রান্ত নতুন মামলাগুলোর কার্যত সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলায় জয়ের পর এএনএল আদালতের খরচ আদায়ের উদ্যোগ নেবে। এতে বাদীপক্ষকে প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত আইনি ব্যয় বহন করতে হতে পারে।
প্রিন্স হ্যারি ছাড়াও মামলার বাদীদের মধ্যে ছিলেন- স্টিফেন লরেন্সের মা ডরিন লরেন্স, সংগীতশিল্পী এলটন জন ও তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্লি, স্যাডি ফ্রস্ট এবং সাবেক লিবারেল ডেমোক্র্যাট মন্ত্রী সাইমন হিউজ।
বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছিল, ১৯৯৭ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত ৫৫টি প্রতিবেদন এবং আরো তিনটি ঘটনার ক্ষেত্রে ডেইলি মেইল ধারাবাহিকভাবে ফোন হ্যাকিং, ল্যান্ডলাইন আড়িপাতা, ব্যক্তিগত গোয়েন্দা দিয়ে নজরদারি, এমনকি পুলিশকে ঘুষ দিয়ে তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
তবে আদালত এসব অভিযোগের সবই খারিজ করে দিয়েছেন।
এসব অভিযোগকে ‘চাঞ্চল্যকর’ ও ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করে এএনএলের আইনজীবীরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো বৈধভাবে প্রেস কর্মকর্তা, আগের প্রকাশিত প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
রায়ের পর এএনএলের এক মুখপাত্র বলেন, এটি ডেইলি মেইল এবং এর সাংবাদিকদের জন্য এক বিশাল বিজয়।
তিনি আরো বলেন, শুরুতে যেসব গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল—যেমন গাড়ি বা বাড়িতে আড়িপাতার যন্ত্র বসানো, ফোনে আড়ি পাতা কিংবা ব্যাংক হিসাব অবৈধভাবে দেখা—এসবের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। আজকের রায়ে আমাদের সাংবাদিকদের সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।




