চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন কার্যকর এবং স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একসময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার। আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
তারা অবিলম্বে জয়রামপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন কার্যকর এবং স্টেশনের সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের নামে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি বেতন-ভাতা নিলেও তারা স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাও দাবি করেন তারা।
হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘জয়রামপুর স্টেশনের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, ‘জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে স্টেশনটি তার গুরুত্ব হারাতে বসেছে।’
খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো যৌক্তিক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
ইউএনওর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।




