• ই-পেপার

ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি
সংগৃহীত ছবি

লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে তারা বাংলাদেশে ফিরেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারকারীদের দ্বারা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স, ঘর ছাড়ল ১০ হাজার মানুষ

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স, ঘর ছাড়ল ১০ হাজার মানুষ
সংগৃহীত ছবি

তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল। আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, প্রচণ্ড গরম ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের পিরেনিজ-ওরিয়ঁতাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানল ইতিমধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর বিপুল সদস্য, বিশেষায়িত যানবাহন এবং আকাশপথে পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবারকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দাবানল মোকাবেলায় দিন-রাত কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের শুষ্কতা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে বনাঞ্চলগুলোতে অগ্নিঝুঁকি আরো বেড়েছে।

চরম গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটক, কৃষক এবং খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমজীবীরা। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং অসুস্থদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি পান করা, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ‘ট্যুর দ্য ফ্রান্সে’। আগুনের ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং সীমিত করা হয়েছে দর্শকদের উপস্থিতি।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি, বরফ এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে প্রতিযোগিতার কিছু অংশ পরিবর্তনের বিষয়েও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

ফরাসি পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকিও। দীর্ঘস্থায়ী খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং শুষ্ক উদ্ভিদ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণগুলোর একটি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের এবারের দাবানল শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ। এর প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, পর্যটন, অর্থনীতি এবং বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ওপর।

দক্ষিণ ইউরোপের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালীন দাবানল এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ফরাসি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট আরো ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

পুলিশ পরিচয়ে বাংলাদেশিকে অপহরণ, মালয়েশিয়ায় ৩ নাগরিক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
পুলিশ পরিচয়ে বাংলাদেশিকে অপহরণ, মালয়েশিয়ায় ৩ নাগরিক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ায় পুলিশের ছদ্মবেশে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে ৩ স্থানীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) পেরাক রাজ্যের পুলিশ প্রধান দাতুক মোহদ আলউই জয়নাল আবিদিন এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে রাজ্যের মানজুং জেলার পান্তাই রেমিস এলাকায় ৪৫ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি ডাকাতির শিকার হন।
 
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন পুলিশ পরিচয় দিয়ে দুই ব্যক্তি ওই প্রবাসীকে জোরপূর্বক একটি নিসান এক্স-টেইল এসইউভিতে তুলে হাতকড়া পরিয়ে দেয় এবং তার কাছে থাকা ৮ হাজার রিঙ্গিত ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে গাড়িটি পান্তাই রেমিস থানার দিকে না গিয়ে অন্য রাস্তায় রওনা দিলে ভুক্তভোগীর মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে চলন্ত গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে দেন ওই প্রবাসী, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি লুমুতের সেগারি এলাকার ১২ নম্বর মাইলে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে।
 
এরপর দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি থেকে নেমে ডাকাতরা একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। 

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রবাসী রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দ্রুত অভিযানে নামে মানজুং জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ পান্তাই রেমিস ও সেগারি থানা পুলিশ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চাংকাট ক্রুইং এলাকা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি, মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড, নগদ টাকা, হাতকড়া ও একটি ‘সহকারী পুলিশ’ পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
 
গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ডাকাতিতে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। আদালত আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে এবং তারা অন্য কোনো এলাকায় একই ধরনের অপরাধ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী কোটা অনুমোদনে বড় পরিবর্তন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী কোটা অনুমোদনে বড় পরিবর্তন
ছবি: কালের কণ্ঠ

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘কেস-বাই-কেস’ অনুমোদন ব্যবস্থা বাতিল করে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া চালুর ঘোষণা দিয়েছে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।

রবিবার (৬ জুলাই) রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আরামানান। তিনি বলেন, এখন থেকে বিদেশি কর্মী কোটা অনুমোদনের জন্য কোনো নিয়োগকর্তাকে মন্ত্রণালয়ে এসে ব্যক্তিগতভাবে আবেদন বা তদবির করতে হবে না। সব আবেদন এফডব্লিউসিএমএস-এর মাধ্যমে অনলাইনে জমা, যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হবে।

মন্ত্রী জানান, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও দীর্ঘসূত্রিতা কমবে।

তিনি আরো জানান, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার ওয়ান স্টপ সেন্টার (ওএসসি) এখন থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনলাইনে আবেদন যাচাই-বাছাই করে তাদের সুপারিশ ওয়ান স্টপ সেন্টারে পাঠাবে। এরপর নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী কোটা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগে ম্যানুয়ালি জমা দেওয়া ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের ২২ হাজার ৪৭৬টি কোটা আবেদনও নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিষ্পত্তি করা হবে।

মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই মাই ফিউচার জবস-এ স্থানীয় নাগরিকদের জন্য চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে এবং অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট ১৯৫৫-এর সেকশন ৬০ হাজার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। স্থানীয় কর্মী পাওয়া না গেলে তবেই বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা যাবে।

তবে বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান পাস (অ্যামপ্লয়মেন্ট পাস) ও ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর চূড়ান্ত দায়িত্ব আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে বলে জানান তিনি।

নতুন এ সিদ্ধান্তকে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়োগে এ ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।