ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে কয়েক বছর আগে ইতালিতে এসেছিলেন সোহান সরদার (২৫)। কষ্ট সয়ে ইউরোপের মাটিতে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনছিলেন তিনি। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা চিরতরে থামিয়ে দিল তার সব স্বপ্ন। গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণ। আর এর মাধ্যমে বিয়ের ৩ মাসের মাথায় ভেঙে গেল তার নতুন সংসারজীবন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাজে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন সোহান। এরপর তোরিনোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার তিনি মারা যান। সোহানের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদি গ্রামে। এসব তথ্য বিডি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই আরেক প্রবাসী নাজমুল সরদার।
নাজমুল বলেন, ‘২০২২ সালে লিবিয়ার ও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালিতে আসেন সোহান। সেখানে থাকার আইনি প্রক্রিয়া (আশ্রয় আবেদন) চলছিল। এর মধ্যেই মাত্র ৩ মাস আগে পারিবারিকভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার, নতুন করে সংসার সাজানোর সেই রঙিন স্বপ্ন ইতালির সড়কেই পিষ্ট হয়ে গেল।’
নাজমুল জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ইলেকট্রনিক স্কুটি চালিয়ে কাজে যাচ্ছিলেন সোহান। তোরিনো শহরের একটি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুইদিন মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়ে রবিবার হাসপাতালের বিছানাতেই মারা যান তিনি।
নাজমুল বলেন, ‘আমরা এখন হাসপাতালেই আছি। পুলিশ এসে সব তথ্য লিখে নিয়ে গেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। এলাকাটি একটু গ্রামাঞ্চল হওয়ায় সেখানে সিসি ক্যামেরা ছিল না, যার সুবিধা নিয়ে গাড়িটি পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশ গাড়ি ও চালককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আমরা এখন লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’
এদিকে পলাতক গাড়ি ও চালককে আটক করতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান মিলান কনস্যুলেটের শ্রম কনসাল মেহরুবা ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী, প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় সোহানের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’






