• ই-পেপার

সব মাদরাসায় পিটি ও খেলাধুলার আয়োজন নিয়ে নতুন নির্দেশনা

দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখছে প্রাণিসম্পদ খাত : পিএসসি সদস্য হাফিজ

বাকৃবি প্রতিনিধি
দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখছে প্রাণিসম্পদ খাত : পিএসসি সদস্য হাফিজ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি) সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ সেক্টর দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত, যা দেশের জিডিপিতে ২ শতাংশ অবদান রাখছে। এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। যারা আজকে নবীন হিসেবে যাত্রা শুরু করছেন তাদেরকে বলবো আপনারা পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আপনাদের মেধা, যোগ্যতার ববকাশ ঘটিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখবেন।’

সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কম্বাইন্ড ডিগ্রির (বিএসসি ভেটেরিনারি সায়েন্স এন্ড এনিমেল হাজবেন্ড্রি) প্রথম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্সে হলে ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। 

অধ্যাপক অধ্যাপক গোলাম হাফিজ আরো বলেন, ‘বাকৃবিতে পড়াশোনার পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল। এখানে যেমন মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, তেমনি প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানারও সুযোগ রয়েছে। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।’ 

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড এনিমেল হাজবেন্ড্রির ডিন অধ্যাপক ড. মো বাহানুর রহমান, এনিমেল হাজবেন্ড্রি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রকিবুল ইসলাম খান, বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

চরম বিপর্যয়ে ৮৭ দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন

অনলাইন ডেস্ক
চরম বিপর্যয়ে ৮৭ দেশের প্রায় ২৬ কোটি শিশুর শিক্ষাজীবন
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ-সংঘাত ছাড়াও দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকটে চরম বিপর্যয়ের মুখে পৃথিবীর ৮৭টি দেশের প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন। ‘অবরুদ্ধ শৈশবের’ এমন করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের জরুরি শিক্ষা বিষয়ক বৈশ্বিক তহবিল ‘এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট’ (ইসিডব্লিউ) ২০২৬ এর প্রতিবেদনে।

সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পৃথিবীর ৮৭টি দেশের প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে, দুই বছর আগের তুলনায় যা ২১ মিলিয়ন বা ২ কোটিরও বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংকটের আবর্তে পড়া এই বিপুল শিশুর মধ্যে ৯ কোটি ৩০ লাখ শিশুই বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে স্কুলের বাইরে। এই সংকট কেবল বৈশ্বিক নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এতটাই ঘনীভূত যে, দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাত্র ৯টি দেশেই বসবাস করছে ভুক্তভোগী এসব শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশ।

সংঘাতের কারণে নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত ও ঘরবাড়ি হারানো শরণার্থী শিশুদের গল্প আরও বেদনাদায়ক। সাধারণ সংকটকবলিত এলাকায় যেখানে ৩৬ শতাংশ শিশু স্কুলের বাইরে থাকে, সেখানে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার অর্ধেক ছাড়িয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া শরণার্থী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে প্রায় তিনজন (৭৪ শতাংশ) শিশুই শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত।

তবে এই শিশুরা যে স্বেচ্ছায় স্কুল ছাড়ছে, তা কিন্তু নয়। ইসিডব্লিউ’র প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, পরিবারের অনিচ্ছা বা পড়াশোনার প্রতি অনীহা এর জন্য দায়ী নয়; বরং বাবা-মায়েরা তাদের শেষ সম্বলটুকু থাকা পর্যন্ত সন্তানকে ক্লাসে পাঠাতে লড়াই করেন। মূলত চরম আর্থিক অনটন, ক্ষুধার তাড়না এবং সংঘাতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়াই শতকরা ৮০ ভাগ শিশুর স্কুল থেকে ঝরে পড়ার মূল কারণ।

কিন্তু যখন এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই বিশ্বজুড়ে মানবিক শিক্ষার জন্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক তহবিল ও অনুদান আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে। সবমিলিয়ে বিদ্যালয় থেকে এই দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা শিশুদের জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংকটের মুখোমুখি হওয়া শিশুদের ৯০ শতাংশই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরও সাধারণ রিডিং পড়া বা প্রাথমিক গণিতের ন্যূনতম যোগ্যতাটুকু অর্জন করতে পারছে না, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশে। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যে শিশু ১০ বছর বয়সের মধ্যে সাধারণ রিডিং পড়তে শেখে না, ১৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তার স্কুল থেকে চিরতরে ঝরে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সংকটময় এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্বব্যাংকের ফ্রেমওয়ার্ক ও বিশেষজ্ঞরা কেবল বই-খাতা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। সংঘাত, বোমা আর বাস্তুচ্যুতির ট্রমা, গভীর উদ্বেগ ও বিষণ্নতা শিশুদের মনের ভেতর যে গভীর ক্ষত তৈরি করে, তা তাদের শেখার স্বাভাবিক ক্ষমতাকে স্থবির করে দেয়। তাই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও শক্তিশালী ভিত্তি পুনর্গঠন করতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সহযোগিতা দেওয়াকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক কর্তব্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বাকৃবিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কৃষি অনুষদের ১২ শিক্ষার্থী

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন কৃষি অনুষদের ১২ শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের ১২ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া কৃষি অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওরিয়েন্টেশন-২০২৬’।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে কৃষি অনুষদের উদ্যোগে নবীনবরণ ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবুর রহমান

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাহফুজা জাহানসহ অনুষদের অন্যান্য শিক্ষক।

এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুম আহমাদ। তিনি কৃষি অনুষদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ সময় কৃষি অনুষদের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে কৃষি অনুষদে নবীন ৩২০ জন শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, অনুষদের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান। অনুষদের মেধাতালিকায় অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ১২ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা মেডেল ও সনদ তুলে দেন উপাচার্য ও কৃষি অনুষদের ডিন।

এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন শিক্ষার্থী নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরে বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে নবাগতদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি শিক্ষার অগ্রদূত এবং কৃষি বিপ্লবের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। নবীন শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে দেশ ও বিশ্বের কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে।’ 

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলে পাঠদান কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গড়ে তুলতে হবে, যেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেট এখনো অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন। এ কারণে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সেগুলো ব্যবহার করতে চান না। তাই দেশের শতভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করা যাবে না।’

এ সময় শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকায় ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি জরুরি। শিক্ষা কাঠামো এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হন।’

নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।