• ই-পেপার

ফতুল্লায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীকে কুপিয়ে জখম

শিবচরে ‘পদ্মা পাড়ের জীবন যুদ্ধ’ মাঠ মহড়া

মাদারীপুর প্রতিনিধি
শিবচরে ‘পদ্মা পাড়ের জীবন যুদ্ধ’ মাঠ মহড়া
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা অববাহিকায় বন্যার পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সাড়াদান কর্মসূচির আওতায় বন্যা প্রস্তুতির জনসচেতনতামূলক ‘পদ্মা পাড়ের জীবন যুদ্ধ’ শিরোনামে মাঠ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, মহড়ায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহযোগিতা ও শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এসডিএস) বাস্তবায়নে বন্যা প্রস্তুতি ও সাড়াদান মহড়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে বন্যায় করণীয় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন কেন্দ্র, প্রাণীসম্পদ আশ্রয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, অভিযোগ ও পরামর্শ কেন্দ্রসহ জনসচেতনতায় বিভিন্ন স্টল, জরুরি স্বাস্থ্য সেবাসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাই দুর্যোগের আগে সচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের নিয়মিত মহড়া স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগকালীন জানমাল ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রকিবুল ইসলাম, শিবচর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তপন কুমার ঘোষ, ডব্লিউএফপি-এর খুলনা অঞ্চল হেড অব প্রোগ্রাম তাসনীম তাবাসসুম, প্রকল্প পরিচালক (এসআরএসপি) মাহফুজুল হক এবং কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইদ আহমেদ সৈয়দ বেপারী।

মাহফুজ আলমের গল্প অবলম্বনে মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি পরিবেশনা করেন অদিতি শিল্পী-গোষ্ঠী। পাণ্ডুলিপি ও নির্দেশনায় ছিলেন মনোজ মণ্ডল। এ ছাড়াও এসডিএসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি শতশত পরিবার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি শতশত পরিবার
ছবি: কালের কণ্ঠ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, ব্যাহত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার ওয়াহেদপুর, পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক বাড়িঘর, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। ফলে সামান্য অতিবৃষ্টিতেই উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে করে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, রিকশা-ভ্যানচালক, সিএনজিচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কাজ না থাকায় অনেক পরিবার আয়-রোজগারহীন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে পুরো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে শত শত মানুষ এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

একই ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আগেই রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ ছিল। টানা বৃষ্টির পর পাহাড়ি ঢলে সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে।’

রিকশাচালক ফকির আহম্মদ বলেন, ‘তিন দিন ধরে ঠিকমতো আয় নেই, যাত্রীও কম। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই বৃষ্টির মধ্যে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।

মিঠাছরা বাজারের ভ্যানচালক আলী মিয়া বলেন, ‘তিন দিন ঘরে ছিলাম। ঘরে চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ বের হয়েছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোনো ভাড়া পাচ্ছি না।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে আউশ ধানের কিছু জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে উপজেলার কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টি কমে গেলে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব এলাকায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, সেসব এলাকার তালিকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হবে।’

মিরসরাইয়ে পরিত্যক্ত কারখানার গার্ডরুম থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ে পরিত্যক্ত কারখানার গার্ডরুম থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া মির্জাপাড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত বিস্কিট কারখানার গার্ডরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম নগরের বিশ্বকলোনী এলাকার সাহেব আলীর ছেলে। তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সকালে কারখানার পাহারাদার গার্ডরুমে উঁকি দিয়ে একজনকে অস্বাভাবিকভাবে অর্ধবসা অবস্থায় দেখতে পান। কাছে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ আরো জানায়, আমিনুল ইসলাম কিভাবে ওই পরিত্যক্ত কারখানায় পৌঁছেছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
মিরসরাইয়ের সব পাহাড়ি ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারৈয়াঢালা রেঞ্জের আওতাধীন সব পাহাড়ি ঝরনায় আগামী তিন দিনের জন্য পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে খৈয়াছড়া, সহস্রধারা, নাপিত্তাছড়া, সোনাইছড়া, রূপসী ও বাওয়াছড়া ঝরনাসহ বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত সব পর্যটনকেন্দ্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের আওতাধীন কোনো ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ সময় সব ধরনের টিকিট বিক্রিও বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ জানায়, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক ঢল, পাহাড়ধস এবং ঝরনাগুলোতে পানির তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কের ইজারাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো পর্যটককে ঝরনায় প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না এবং কোনো ধরনের টিকিট বিক্রি করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।

বারৈয়াঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঝরনাগুলোতে পানির স্রোত অত্যন্ত প্রবল। এ সময়ে সেখানে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, প্রতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন ঝরনায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে এবারও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ঝরনাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ।